কুমিল্লার শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলার মূল চার আসামির পরিচয় প্রকাশ করেছে জেলা পুলিশ। তাদের মধ্যে তিনজনকে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণকারী এবং একজনকে ঘটনায় সম্পৃক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এসব তথ্য জানান। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলার প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯)। অপর আসামিরা হলেন এক কিশোর (১৫), মো. কামরুল হাসান এবং মো. সিয়াম (১৯)। ১৫ বছর বয়সী অভিযুক্তের পরিচয় আইনগত কারণে প্রকাশ করা হয়নি।
পুলিশ সুপার জানান, গত ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে তুহিন কৌশলে অপ্রতিমকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে অপ্রতিম বাধা দেয়। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির মধ্যে তুহিন, কিশোর আসামি ও কামরুল বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। ঘটনাস্থলেই অপ্রতিমের মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, নিখোঁজের জিডির পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে।
ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে দেখা যাওয়ায় তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন আইফোন ছিনতাইয়ের পরিকল্পনার কথা স্বীকার করে এবং অন্যদের সম্পৃক্ততার তথ্য দেয়। পরে তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কিশোর আসামি ও কামরুলকে আটক করা হয়। তদন্তে সিয়ামের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ায় তাকেও হেফাজতে নেয় পুলিশ। পুলিশ সুপার আরও জানান, প্রথমে তুহিন আইফোন উদ্ধারে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে।
তিনটি স্থানে অভিযান চালিয়েও ফোনটি পাওয়া যায়নি। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়। অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। পরদিন লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকার জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।



















