আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে মুখ্য ভূমিকা পালনকারী নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা প্রশাসন ও পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তাদের অনেকেই এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন।
বিশেষ করে ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের রাতের ভোট ও ডামি ভোটের সঙ্গে জড়িত প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বড় অংশ বহাল তবিয়তে রয়েছেন। অন্যদিকে ২০১৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে অবস্থান নেওয়া প্রশাসন ক্যাডারের বড় অংশ অবসরে যাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে পুলিশ ক্যাডারদের মধ্যে একটি অংশ এখনো দায়িত্বে রয়েছে।
অন্যদিকে ওইসব বিতর্কিত নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত কমিটির সুপারিশ এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। তৎকালীন অ্যাডমিন ও পুলিশ প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থায় থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার সুপারিশ করা হলেও সে উদ্যোগও নেওয়া হয়নি। এমনকি তদন্ত কমিটি নির্বাচনকে বিতর্কমুক্ত করতে যেসব সুপারিশ করেছে, সেগুলোও বাস্তবায়ন হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচন একতরফাভাবে অনুষ্ঠিত হয় প্রশাসনের চিহ্নিত কিছু কর্মকর্তার পরোক্ষ সহযোগিতায়। ওইসব সুবিধাভোগী কর্মকর্তা আওয়ামী লীগ সরকারকে টিকিয়ে রাখতে ৩টি সংসদ নির্বাচনকে বিতর্কিত করে বিভিন্নভাবে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করতে প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের ভয়ভীতি দেখানো, ভোটকেন্দ্র দখল, ভোটে কারচুপি, বিরোধী দলের প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের মামলা নিয়ে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার পরিকল্পনায় এসব কর্মকর্তার নির্লিপ্ত ভূমিকা ছিল।
২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলে বিতর্কিত নির্বাচনে জড়িত সরকারি কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করতে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সাবেক বিচারপতি শামীম হাসনাইনকে তদন্ত কমিশনের প্রধান করে এ কমিশন গঠন করা হয়। কমিটিতে ছিলেন সাবেক সচিব শামীম আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মাহফুজুল হক সুপন, ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার তাজরিয়ান আকরাম হোসেন, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. মো. আব্দুল আলীম।
তদন্ত কমিশনের কর্মকর্তা হিসেবে তদন্তে যুক্ত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ৩ জন সিনিয়র সচিব, উপসচিব এবং যুগ্ম সচিব, আইন ও বিচার বিভাগের প্রধান আইন ও গবেষণা কর্মকর্তাসহ ৯ জন। গঠিত তদন্ত কমিশন চলতি বছরের জানুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দেন। সেই প্রতিবেদনে অনিয়মের বিস্তারিত চিত্র উঠে আসে।
পাশাপাশি বেশ কিছু সুপারিশও করা হয় প্রতিবেদনে। কিন্তু ১০ মাস পার হয়ে গেলেও তদন্ত কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সূত্র জানিয়েছে, ২০১৪ সালের নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকদের বড় অংশ এরই মধ্যে অবসরে চলে গেছেন। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার সুপারিশ থাকলেও তা করা হয়নি।
অন্যদিকে পুলিশ প্রশাসনের একটি অংশ এখনো বহাল আছে। তারা নিজেদের আওয়ামী লীগ আমলের বঞ্চিত কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ভাগিয়ে নিয়েছেন পদোন্নতি ও পদায়ন। অন্যদিকে ২০১৮ সালের রাতের ভোটের সঙ্গে জড়িত পুলিশ সুপারদের সংযুক্ত করার পাশাপাশি কিছু কর্মকর্তাকে এরই মধ্যে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। কিন্তু এ নির্বাচনে জড়িতদের বিরুদ্ধেও মামলা করার সুপারিশ থাকলেও সেটি করা হয়নি।
সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনাররা। এ নির্বাচন অ্যাডমিন ক্যাডারদের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা পালনকারী কর্মকর্তাদের বড় অংশ এখনো বহাল রয়েছে। তারা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে বিভিন্ন পদ দখল করে ঘাপটি মেরে আছেন। সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে রূপালী বাংলাদেশকে জানান, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তারা দেখেছেন ভোট পরিচালনায় যুক্ত থেকে।
সে সময় আওয়ামী লীগ ঘরানার প্রশাসন ও পুলিশ ক্যাডারের চিহ্নিত একটি অংশ পৃথক নির্বাচনি কমিটি গঠন করে নির্বাচনগুলো পরিচালনা করেছেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে জেলা প্রশসকরা এরই মধ্যে অবসরে গেছেন। কিন্তু ২০১৮ সালের নির্বাচনে জেলা প্রশাসকদের একটি অংশকে বাধ্যতামূলক অবসরে দেওয়া হলেও ১০ থেকে ১২ জন এখনো বহাল রয়েছেন। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভূমিকা রাখা জেলা প্রশাসকরা এখনো দায়িত্বে রয়েছেন।
অনেকে পদোন্নতি নিয়ে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে সুবিধাজনক পদে বসে আছেন। অন্যদিকে পুলিশ ক্যাডারদের মধ্যে যারা জেলা এসপি ছিলেন, তাদের মধ্যে শুধু ২০১৮ সালের নির্বাচনে জেলায় এসপি থাকা কর্মকর্তাদের সংযুক্ত করার পাশাপাশি কিছু কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু ২০১৪ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে যারা এসপি ছিলেন, তাদের অনেকেই চাকরিতে আছেন।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, তদন্ত কমিশন যেসব সুপারিশ করেছিলেন সেগুলোর কোনোটাই বাস্তবায়ন হয়নি। বিশেষ করে ডামি ৩টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে সহযোগিতা করে সুবিধা নেওয়া কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার সুপারিশ থাকলেও তা করা হয়নি। এমনকি এসব কর্মকর্তা পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন, দেশের বাইরে অর্থ পাচার করলেও তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন দিয়ে কোনো অনুসন্ধানেরও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সূত্র জানিয়েছে, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনের সময় বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। কিন্তু রেঞ্জ ডিআইজি, পুলিশ সুপারদের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। পাশাপাশি ভোট কারচুপিতে সহায়তাকারী কেন্দ্রভিত্তিক প্রিসাইডিং অফিসারদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার এবং পরবর্তীতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১৮ সালের রাতের ভোটের সঙ্গে জড়িত জেলা পুলিশ সুপারদের সংযুক্ত করা হয়েছে।
এর মধ্যে কিছু কিছু কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসকদের মধ্যেও কিছু কিছু কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনে সহায়তা করা জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের অনেকেই এখনো বহাল রয়েছেন। বিতর্কিত ৩টি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকারকে টিকিয়ে রাখতে যারা ভোটকেন্দ্র দখল, ভোট কারচুপি, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখাতে বিভিন্ন পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন, তাদের অধিকাংশ এখনো চাকরিতে রয়েছেন।
তদন্ত প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপে কমিটি বলেছে, ২০১৪ সালে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং অবশিষ্ট ১৪৭টিতে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতা’র নির্বাচন ছিল সম্পূর্ণ সাজানো ও সুপরিকল্পিত। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে এ বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। ২০১৪ সালের নির্বাচন সারা বিশ্বে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন হিসেবে সমালোচিত হওয়ায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ২০১৮ সালের নির্বাচনকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক’ করার মিশন গ্রহণ করে।
বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দল তাদের এ সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বুঝতে না পেরে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। তদন্ত কমিশনের প্রাক্কলন অনুযায়ী ২০১৮ সালে ৮০ শতাংশ কেন্দ্রে রাতের বেলায় ব্যালট পেপারে সিল মেরে আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত করে রাখা হয়। আওয়ামী লীগকে জেতাতে প্রশাসনের মধ্যে এক ধরনের অসৎ প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। ফলে কোনো কোনো কেন্দ্রে ভোট প্রদানের হার ১০০ শতাংশের বেশি হয়ে যায়।
২০২৪ সালে বিএনপিসহ বিরোধী দল নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় ‘ডামি’ প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক’ করার অপকৌশল গ্রহণ করা হয়। তিনটি নির্বাচনের অভিনব পরিকল্পনা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হয় এবং বাস্তবায়নে প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন ও গোয়েন্দা সংস্থার একটি অংশকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবহার করা হয়।
কিছু কর্মকর্তার সমন্বয়ে বিশেষ সেল গঠন করা হয়, যা নির্বাচন সেল নামে পরিচিতি লাভ করে। প্রতিবেদনের ভূমিকায় কমিটি বলেছে, ২০১৪ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত সময়কালে নির্বাচনব্যবস্থাকে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে মূলত প্রশাসনের হাতে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময়ে কমিশনের পরিবর্তে প্রশাসনই হয়ে ওঠে নির্বাচন পরিচালনার মূল শক্তি। তিনটি সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনি অনিয়মে কয়েক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী যুক্ত থাকায় এবং তদন্ত কমিশনের জন্য বরাদ্দকৃত সময় অপ্রতুল হওয়ায় সুনির্দিষ্টভাবে এদের নাম ও কার কী ভূমিকা ছিল তা বের করা সম্ভব হয়নি।
নির্বাচনগুলোতে যেসব কর্মকাণ্ড নির্বাচনব্যবস্থাকে কলুষিত করেছে সেগুলো হলো— তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল, নির্বাচনি কৌশল নির্ধারণ ও নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং সশস্ত্র বাহিনীর মনোনীত একটি অংশকে ব্যবহার, বিরোধী প্রার্থী ও কর্মীদের নামে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের অজামিনযোগ্য মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার ও গুম, জাল ভোট প্রদান, নির্বাচনি কারচুপিতে নির্বাহী বিভাগকে ব্যবহার।
এ ছাড়া ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো, ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের প্রবেশে বাধা, অনিয়মতান্ত্রিকভাবে সংসদীয় সীমানা নির্ধারণ করারও অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি।
তদন্ত কমিটি ৩টি বিতর্কিত নির্বাচনেই আগে থেকে ব্যালট বাক্সে ভোট ভরে রাখা, ভোট প্রদানের হারে পরিবর্তন, ভোটকেন্দ্রে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ, একতরফাভাবে সরকারের আজ্ঞাবহ প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনার নিয়োগ, প্রার্থীদের ভয়ভীতি, প্রলোভন দেখিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার, নির্বাচনের পরে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি পরিসংখ্যান প্রকাশ না করা, নির্বাচনের পরে নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট নথি ও তথ্য ধ্বংস করা, নির্বাচনি অভিযোগ সঠিক ও সুষ্ঠুভাবে তদন্ত না করারও প্রমাণ পেয়েছে।
এ ছাড়া নির্বাচনে ডামি প্রার্থী দাঁড় করানো, বিরোধী রাজনৈতিক দলে ভাঙনের চেষ্টা, নির্বাচনি পর্যবেক্ষণ নিবন্ধনে পক্ষপাতিত্ব, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনে বৈষম্য এবং নির্বাচনের নামে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়ের চিত্র পেয়েছে তদন্ত কমিটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে এবং এসব নির্বাচনে নানা অপকৌশলে জনগণের ভোট প্রদানের অধিকার ভূলুণ্ঠিত করে সাজানো প্রক্রিয়ায় একটি বিশেষ দলকে নির্বাচিত করার জোরালো অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিশন এই প্রতিবেদন প্রণয়ন করেছে।
বেঁধে দেওয়া সময়ের তুলনায় এই তদন্তের পরিসর অত্যন্ত ব্যাপক। কারণ নির্বাচনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন, বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা, রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কীভাবে এসব অনিয়ম ও কারচুপি নির্বাচনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে, তা অনুসন্ধান করা সময়সাপেক্ষ ছিল।



















