জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আজ সোমবার নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই সফরকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে তাকে স্বাগত জানাতে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সর্বাত্মক প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো।
স্থানীয় সময় গত শনিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে আড্ডা রেস্টুরেন্টে আয়োজিত মিট দ্য প্রেসে এ সফরের বিভিন্ন প্রস্তুতি ও তাৎপর্য তুলে ধরেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এই সফর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবের।
এর আগে তার বাবা স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছিলেন। এবার তাদের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বমঞ্চে ভাষণ দেবেন। আনোয়ার হোসেন খোকন বলেন, জাতিসংঘের ইতিহাসে ‘বাবা, মা এবং সন্তান’— তিনজনেরই রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান হিসেবে সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার ঘটনা বিরল এক নজির।
নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, এবারের জাতিসংঘের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য দ্বিগুণ আনন্দের। দীর্ঘ ৪০ বছর পর আবারও একজন বাংলাদেশি— পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান— জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন। বিশ্বের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বকারী বিশ্বমঞ্চে একজন বাংলাদেশির এই সভাপতিত্ব দেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।
গণঅভ্যুত্থান ও দেশ পুনর্গঠন শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হয়। জাতিসংঘের রিপোর্টের বরাত দিয়ে নেতারা জানান, পতিত স্বৈরাচারী শাসনের গণহত্যাকাণ্ডে ১৪ শতাধিক মানুষ প্রাণ হারান এবং ৩০ হাজারের বেশি আহত হন। ফ্যাসিবাদ পতনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে যে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চলছে, প্রবাসীরা তাতে পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন।
প্রবাসীদের অবদানের কথা স্মরণ করে নেতারা জানান, দেশে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও স্পোর্টস কার্ডের পাশাপাশি চলতি বছরের মধ্যেই প্রবাসীদের জন্য নানামুখী সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে প্রবাসীদের বিনিয়োগ, মেধা ও দক্ষতাকে দেশের উন্নয়নে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। সংবাদ সম্মেলনের শেষভাগে দেশবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে প্রবাসীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই ঐতিহাসিক সফর স্মরণীয় ও সাফল্যমণ্ডিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দেশনা মেনে সংযম ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রতিটি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক নাহিদুল খান সাহেল, কেন্দ্রীয় সদস্য আবদুল লতিফ সম্রাট, জিল্লুর রহমান জিল্লু, গিয়াস আহমেদ, মিজানুর রহমান মিল্টন ভূঁইয়া, নিউইয়র্ক দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজাসহ যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সিনিয়র নেতা শরাফত হোসেন বাবু, মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল প্রমুখ।


















