‘দলিল লেখক-জনতা, গড়ে তোল একতা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মুন্সীগঞ্জে সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে দলিল লেখক-স্ট্যাম্প ভেন্ডার সমিতি। দলিল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রধান ফটকের সামনে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার দলিল লেখক সমিতির দুই শতাধিক সদস্য অংশ নেন। সমাবেশে দলিল লেখকদের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
দাবিগুলো হলো—দলিল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত করা যাবে না; সাবেক আইনমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত দলিলপ্রতি ৫ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা বাস্তবায়ন করতে হবে; লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখক ছাড়া অন্য কেউ দলিল লেখা বা মুসাবিদা করতে পারবেন না—মর্মে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে; থানা ও জেলা কার্যালয়ে সরকারি খরচে দলিল লেখকদের বসার স্থান ও নামাজের জায়গা নির্মাণ করতে হবে।
এ ছাড়া পক্ষগণের সরবরাহ করা কাগজপত্রের ভিত্তিতে দলিল লেখা হয়—এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পেশাগত কারণে দলিল লেখক বা মুসাবিদাকারী হিসেবে কাউকে আসামি করা যাবে না; দলিল লেখক সমিতির থানা ও জেলা কমিটির সুপারিশ ছাড়া অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দলিল লেখার লাইসেন্স দেওয়া যাবে না—মর্মে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে এবং দলিল লেখক কাউন্সিল গঠনের অনুমতি দিতে হবে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দলিল রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থার আধুনিকায়নে তাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে আধুনিকায়নের প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এ পেশার সঙ্গে যুক্ত দলিল লেখকদের কর্মসংস্থান ও পেশাগত অধিকার যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। তারা আরও বলেন, তাদের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনে কলম বন্ধ রেখে কর্মবিরতিতে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
মুন্সীগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির সভাপতি কাজী ইসলাম রিপন বলেন, ‘দলিল লেখকরা দীর্ঘদিন ধরে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার সঙ্গে মানুষের জমি-জমা সংক্রান্ত দলিল লেখার কাজ করে আসছেন। রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন হলে দলিল লেখকদের পেশাগত নিরাপত্তা, সম্মান ও কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। সরকারের কাছে আমাদের দাবিগুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানাই।
’ দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান দিদার বলেন, ‘আমরা একটি ষড়যন্ত্রের নীলনকশা দেখতে পাচ্ছি। আমরা শুরু থেকেই আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে উৎসে কর আদায় করে আসছি। আমাদের ভূমি মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তর করার একটি নীলনকশা চলছে। সারা বাংলাদেশে আমরা সাড়ে তিন লাখ দলিল লেখক কর্মরত আছি। যদি আমরা স্থানান্তরিত হয়ে যাই, তাহলে আইন মন্ত্রণালয় আমাদের যেকোনো সময় বাদ দিতে পারে।
তারা এসিল্যান্ড ও ভূমি অফিসের মাধ্যমে নতুন লোক নিয়োগ দিতে পারে—এমন বিষয় আমরা জানতে পেরেছি। ’ তিনি আরও বলেন, ‘এভাবে হলে সাড়ে তিন লাখ মানুষ বেকার হয়ে যাবেন। আমাদের অভিজ্ঞতা ও সম্মান—সবকিছু শেষ হয়ে যাবে। নতুন যারা আসবেন, তারা দলিল সম্পর্কে কতটা জানবেন, সেটিও প্রশ্ন। আমরা দীর্ঘদিন ধরে দলিলের বিভিন্ন বিষয় মুখস্ত করে অভিজ্ঞতার সঙ্গে কাজ করে আসছি।
’ এ সময় বক্তারা দলিল লেখকদের পেশাগত অধিকার ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, দাবিগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং আধুনিকায়নের নামে কোনো দলিল লেখককে পেশা থেকে বাদ না দেওয়ার দাবি জানান।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলিল লেখক সমিতি মুন্সীগঞ্জের প্রধান উপদেষ্টা হাজী রোকন উদ্দিন, সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম, দলিল লেখক ও তল্লাশিকারক সদর উপজেলার সভাপতি হাবিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবু তৈয়ব ভূঁইয়া, দলিল লেখক মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন, সদরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আল-মামুন, সিরাজদিখান দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আলমগীর হোসেনসহ বিভিন্ন উপজেলার দলিল লেখক সমিতির সদস্যরা।



















