আজ বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০৪ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
বৃষ্টি
৩০°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১০০%

অবশেষে উৎপাদনে ফিরল চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড

  • MIT ERP
  • Update Time : 01:40:29 pm, Thursday, 17 September 2026
  • 10

অবশেষে উৎপাদনে ফিরল চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে উৎপাদনে ফিরেছে চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পর কারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে যন্ত্রপাতিতে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় উৎপাদন শুরু করতে কিছুটা সময় লাগে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে কারখানাটিতে ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়। দীর্ঘ সময় পর উৎপাদন কার্যক্রম চালু হওয়ায় সিইউএফএলের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ থাকায় কার্যক্রম নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, উৎপাদন শুরুর মধ্য দিয়ে তা অনেকটাই কেটে গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সিইউএফএল সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকালে ইউরিয়া উৎপাদন ইউনিট চালুর কার্যক্রম শুরু হয়।

এর আগে গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার পর ধাপে ধাপে অ্যামোনিয়া প্ল্যান্ট চালু করা হয়। এরপর ইউরিয়া প্ল্যান্টের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সচল করে উৎপাদনে ফেরার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়। কারখানা চালুর প্রাথমিক পর্যায়ে কয়েকটি যান্ত্রিক জটিলতা দেখা দেয়। পরে কারখানার প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ করে এসব ত্রুটি কাটিয়ে ওঠেন। ফলে মঙ্গলবার সকাল থেকে ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়।

জানা গেছে, সিইউএফএল কারখানায় দৈনিক প্রায় ৪৮ থেকে ৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হয়। পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকলে কারখানাটির উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয় না। গ্যাসের চাপ কমে গেলে কিংবা সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে উৎপাদনও বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিষ্ঠার পর কারখানাটিতে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৭০০ টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের সক্ষমতা ছিল। তবে পুরোনো যন্ত্রপাতি, দীর্ঘদিন ব্যবহারের কারণে বিভিন্ন ইউনিটের সক্ষমতা কমে যাওয়া এবং গ্যাস সংকটসহ নানা কারণে বর্তমানে এর কার্যকর উৎপাদনক্ষমতা আগের তুলনায় কমেছে।

সর্বশেষ গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে সিইউএফএলের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর প্রায় ছয় মাস কারখানাটি উৎপাদনের বাইরে ছিল। গত মাসের শেষ দিকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পর কারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করে সচল করতে সময় লাগে। একপর্যায়ে কারিগরি ত্রুটিও দেখা দেয়।

সিইউএফএলের উৎপাদন বিভাগের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) উত্তম চৌধুরী উৎপাদন শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার সকালে প্রাথমিকভাবে উৎপাদন শুরু হয়েছে। গত মাসের শেষ দিকে গ্যাস পাওয়া গেলেও কারিগরি ত্রুটির কারণে তাৎক্ষণিকভাবে উৎপাদনে ফেরা সম্ভব হয়নি। পরে ধাপে ধাপে সব যন্ত্রপাতি সচল করার কাজ করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামীকালের মধ্যে কারখানাটি পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত হয়ে স্বাভাবিক উৎপাদন অবস্থায় ফিরবে।

সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান বলেন, দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস পর কারখানাটি উৎপাদনে ফিরেছে। দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকায় যে ক্ষতি হয়েছে, নিয়মিত উৎপাদন চালু রাখতে পারলে অল্প সময়ের মধ্যেই তা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

রাজধানীর বনশ্রীতে দুই বাসের প্রতিযোগিতায় মাইলস্টোন স্কুলের শিক্ষিকা নিহত

অবশেষে উৎপাদনে ফিরল চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড

Update Time : 01:40:29 pm, Thursday, 17 September 2026

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে উৎপাদনে ফিরেছে চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পর কারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে যন্ত্রপাতিতে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় উৎপাদন শুরু করতে কিছুটা সময় লাগে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে কারখানাটিতে ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়। দীর্ঘ সময় পর উৎপাদন কার্যক্রম চালু হওয়ায় সিইউএফএলের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ থাকায় কার্যক্রম নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, উৎপাদন শুরুর মধ্য দিয়ে তা অনেকটাই কেটে গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সিইউএফএল সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকালে ইউরিয়া উৎপাদন ইউনিট চালুর কার্যক্রম শুরু হয়।

এর আগে গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার পর ধাপে ধাপে অ্যামোনিয়া প্ল্যান্ট চালু করা হয়। এরপর ইউরিয়া প্ল্যান্টের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সচল করে উৎপাদনে ফেরার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়। কারখানা চালুর প্রাথমিক পর্যায়ে কয়েকটি যান্ত্রিক জটিলতা দেখা দেয়। পরে কারখানার প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ করে এসব ত্রুটি কাটিয়ে ওঠেন। ফলে মঙ্গলবার সকাল থেকে ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়।

জানা গেছে, সিইউএফএল কারখানায় দৈনিক প্রায় ৪৮ থেকে ৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হয়। পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকলে কারখানাটির উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয় না। গ্যাসের চাপ কমে গেলে কিংবা সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে উৎপাদনও বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিষ্ঠার পর কারখানাটিতে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৭০০ টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের সক্ষমতা ছিল। তবে পুরোনো যন্ত্রপাতি, দীর্ঘদিন ব্যবহারের কারণে বিভিন্ন ইউনিটের সক্ষমতা কমে যাওয়া এবং গ্যাস সংকটসহ নানা কারণে বর্তমানে এর কার্যকর উৎপাদনক্ষমতা আগের তুলনায় কমেছে।

সর্বশেষ গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে সিইউএফএলের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর প্রায় ছয় মাস কারখানাটি উৎপাদনের বাইরে ছিল। গত মাসের শেষ দিকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পর কারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করে সচল করতে সময় লাগে। একপর্যায়ে কারিগরি ত্রুটিও দেখা দেয়।

সিইউএফএলের উৎপাদন বিভাগের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) উত্তম চৌধুরী উৎপাদন শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার সকালে প্রাথমিকভাবে উৎপাদন শুরু হয়েছে। গত মাসের শেষ দিকে গ্যাস পাওয়া গেলেও কারিগরি ত্রুটির কারণে তাৎক্ষণিকভাবে উৎপাদনে ফেরা সম্ভব হয়নি। পরে ধাপে ধাপে সব যন্ত্রপাতি সচল করার কাজ করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামীকালের মধ্যে কারখানাটি পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত হয়ে স্বাভাবিক উৎপাদন অবস্থায় ফিরবে।

সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান বলেন, দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস পর কারখানাটি উৎপাদনে ফিরেছে। দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকায় যে ক্ষতি হয়েছে, নিয়মিত উৎপাদন চালু রাখতে পারলে অল্প সময়ের মধ্যেই তা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী।