আজ বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০৪ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
বজ্রসহ বৃষ্টি
৩৩°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১০০%

ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি: রোগীর চাপে হাসপাতালগুলোতে ঠাঁই নেই

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:44:39 am, Thursday, 17 September 2026
  • 12

ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি: রোগীর চাপে হাসপাতালগুলোতে ঠাঁই নেই

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ডেঙ্গুর প্রকোপ প্রকট আকার ধারণ করছে। ডেঙ্গু বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের হাসপাতালগুলোতেও রোগীর চাপ বাড়ছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নির্ধারিত শয্যার বাইরে মেঝে ও বারান্দায়ও রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

কোথাও কোথাও এক শয্যায় একাধিক রোগীকে রাখার ঘটনাও ঘটছে। এর মধ্যেই এক দিনে ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তির সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৭১ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ১৩২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৮৩ জন।

ঢাকার বাইরে বরিশালে ১৫৯, চট্টগ্রামে ১৬৫, খুলনায় ২৯০, ময়মনসিংহে ৮২, রাজশাহীতে ১৩৭, রংপুরে ৬৫ এবং সিলেটে ৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অর্থাৎ রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিভাগেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ফলে শুধু ঢাকার হাসপাতাল নয়, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতেও বাড়ছে চাপ। রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, নির্ধারিত শয্যার বাইরে মেঝে ও বারান্দায় রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

৬০টি নির্ধারিত শয্যার বিপরীতে গত সোমবার হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ১৮৭ জন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি শয্যায় একাধিক রোগীকেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে রোগীদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, ওষুধ দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. নূরুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগীর চাপ বেড়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত শয্যা, চিকিৎসক ও নার্স প্রয়োজন। শুধু মুগদা নয়, রাজধানীর আরও কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালেও নির্ধারিত সক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ায় শয্যা পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। গুরুতর রোগীদের নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটছেন স্বজনরা। ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতির আরেকটি চিত্র পাওয়া যায় দুদিন আগের পরিসংখ্যানে।

গত সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আটজনের মৃত্যু হয় এবং হাসপাতালে ভর্তি হন ১ হাজার ৭৩৩ জন। চলতি বছর এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর হিসাবে এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছর আগস্টে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ছিল সবচেয়ে বেশি। ওই মাসে ২০ হাজার ৫৩৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হন এবং মারা যান ৪৩ জন। রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় সরকারি হাসপাতালগুলোর শয্যা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনে বেসরকারি হাসপাতালেও রোগী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় শয্যা বা সুযোগ-সুবিধার সংকট হলে প্রয়োজনে বেসরকারি হাসপাতালে রোগী পাঠিয়ে চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। সক্ষমতা অনুযায়ী হাসপাতালগুলোতে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এখন ডেঙ্গু মোকাবিলায় একদিকে হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো, অন্যদিকে এডিস মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণ ও মানুষের সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়ার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৫ দিনে ৬৭ মৃত্যু এবং হাসপাতালে ভর্তির দ্রুত ঊর্ধ্বগতি পরিস্থিতির চাপের মাত্রা দেখাচ্ছে। এর মধ্যে অক্টোবরে সংক্রমণ আরও বাড়ার পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে হাসপাতালগুলোর বর্তমান সক্ষমতা কতটা চাপ সামলাতে পারবে, সেটিই সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

সৌদির আরামকো ও বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবি হুতিদের

ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি: রোগীর চাপে হাসপাতালগুলোতে ঠাঁই নেই

Update Time : 11:44:39 am, Thursday, 17 September 2026

ডেঙ্গুর প্রকোপ প্রকট আকার ধারণ করছে। ডেঙ্গু বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের হাসপাতালগুলোতেও রোগীর চাপ বাড়ছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নির্ধারিত শয্যার বাইরে মেঝে ও বারান্দায়ও রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

কোথাও কোথাও এক শয্যায় একাধিক রোগীকে রাখার ঘটনাও ঘটছে। এর মধ্যেই এক দিনে ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তির সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৭১ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ১৩২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৮৩ জন।

ঢাকার বাইরে বরিশালে ১৫৯, চট্টগ্রামে ১৬৫, খুলনায় ২৯০, ময়মনসিংহে ৮২, রাজশাহীতে ১৩৭, রংপুরে ৬৫ এবং সিলেটে ৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অর্থাৎ রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিভাগেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ফলে শুধু ঢাকার হাসপাতাল নয়, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতেও বাড়ছে চাপ। রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, নির্ধারিত শয্যার বাইরে মেঝে ও বারান্দায় রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

৬০টি নির্ধারিত শয্যার বিপরীতে গত সোমবার হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ১৮৭ জন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি শয্যায় একাধিক রোগীকেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে রোগীদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, ওষুধ দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. নূরুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগীর চাপ বেড়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত শয্যা, চিকিৎসক ও নার্স প্রয়োজন। শুধু মুগদা নয়, রাজধানীর আরও কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালেও নির্ধারিত সক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ায় শয্যা পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। গুরুতর রোগীদের নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটছেন স্বজনরা। ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতির আরেকটি চিত্র পাওয়া যায় দুদিন আগের পরিসংখ্যানে।

গত সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আটজনের মৃত্যু হয় এবং হাসপাতালে ভর্তি হন ১ হাজার ৭৩৩ জন। চলতি বছর এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর হিসাবে এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছর আগস্টে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ছিল সবচেয়ে বেশি। ওই মাসে ২০ হাজার ৫৩৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হন এবং মারা যান ৪৩ জন। রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় সরকারি হাসপাতালগুলোর শয্যা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনে বেসরকারি হাসপাতালেও রোগী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় শয্যা বা সুযোগ-সুবিধার সংকট হলে প্রয়োজনে বেসরকারি হাসপাতালে রোগী পাঠিয়ে চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। সক্ষমতা অনুযায়ী হাসপাতালগুলোতে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এখন ডেঙ্গু মোকাবিলায় একদিকে হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো, অন্যদিকে এডিস মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণ ও মানুষের সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়ার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৫ দিনে ৬৭ মৃত্যু এবং হাসপাতালে ভর্তির দ্রুত ঊর্ধ্বগতি পরিস্থিতির চাপের মাত্রা দেখাচ্ছে। এর মধ্যে অক্টোবরে সংক্রমণ আরও বাড়ার পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে হাসপাতালগুলোর বর্তমান সক্ষমতা কতটা চাপ সামলাতে পারবে, সেটিই সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।