আজ বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০৪ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
বজ্রসহ বৃষ্টি
৩৩°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১০০%

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি: স্টুডেন্ট ও ভিজিটর ভিসায় বড় পরিবর্তন

  • MIT ERP
  • Update Time : 12:37:18 pm, Thursday, 17 September 2026
  • 10

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি: স্টুডেন্ট ও ভিজিটর ভিসায় বড় পরিবর্তন

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্য আনার সুযোগ সীমিত করা, বারবার ভিসা বা কোর্স পরিবর্তন করে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান দীর্ঘায়িত করার পথ বন্ধ করা এবং ভিজিটর ভিসায় ‘নো ফারদার স্টে’ শর্তের ব্যবহার বাড়ানোসহ অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার লেবার সরকার।

বৃহস্পতিবার ক্যানবেরার ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে বহুল প্রতীক্ষিত অভিবাসন পরিকল্পনা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বলেন, নতুন ব্যবস্থার লক্ষ্য শুধু অভিবাসীর সংখ্যা কমানো নয়; কারা অস্ট্রেলিয়ায় আসছেন,কারা থাকছেন এবং কারা চলে যাচ্ছেন,পুরো প্রক্রিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর করা। তাঁর ভাষণের বিষয়ও ছিল ম্যানেজিং দ্য মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম: হু অ্যারাইভস, হু স্টেইস, হু লিভস।

নতুন পরিকল্পনায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসছে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে। অধিকাংশ বিদেশি শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে তাদের স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের স্টুডেন্ট ভিসার নির্ভরশীল সদস্য হিসেবে সঙ্গে আনতে পারবেন না। তবে বর্তমানে যারা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম প্রয়োগ করে পরিবার বিচ্ছিন্ন করা হবে না।

পরিবর্তনটি মূলত ভবিষ্যতের ভিসার ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। পরিবার আনার ক্ষেত্রে অবশ্য কিছু ব্যতিক্রম রাখা হচ্ছে। পিএইচডিসহ নির্দিষ্ট উচ্চতর গবেষণার শিক্ষার্থী এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও আসিয়ানভুক্ত দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকবে। বাংলাদেশ আসিয়ানের সদস্য নয়। ফলে আসিয়ানভুক্ত দেশের জন্য ঘোষিত বিশেষ সুবিধা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

তবে পিএইচডিসহ কোর্সভিত্তিক ব্যতিক্রমের শর্ত পূরণ করলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও সেই সুযোগ পেতে পারেন। অস্ট্রেলিয়ায় গত অর্থবছরে ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৪২৭টি স্টুডেন্ট ভিসা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৪৫ হাজার ৯৯১টি ছিল মূল শিক্ষার্থীর সঙ্গে থাকা স্বামী-স্ত্রী, সন্তান বা অন্যান্য সেকেন্ডারি আবেদনকারীর ভিসা। পরিবারের সদস্যদের সংখ্যা কমিয়ে নেট ওভারসিজ মাইগ্রেশনের ওপর চাপ কমানো সরকারের পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

শিক্ষার্থীদের ‘ভিসা হপিং’ বন্ধেও নতুন নিয়ম আসছে। একজন শিক্ষার্থী একটি কোর্স শেষ করে উচ্চতর যোগ্যতার দিকে এগোতে পারবেন। যেমন ব্যাচেলর শেষ করে মাস্টার্সে যাওয়া যাবে। কিন্তু একই বা নিচের স্তরের একের পর এক কোর্সে ভর্তি হয়ে নতুন স্টুডেন্ট ভিসার মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান দীর্ঘায়িত করার সুযোগ সীমিত করা হবে। তবে পড়াশোনা শেষ করে গ্র্যাজুয়েট ভিসায় যাওয়া এবং পরে অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজনীয় দক্ষ পেশায় কাজের মাধ্যমে অন্য বৈধ ভিসার পথে এগোনোকে সরকার ‘ভিসা হপিং’ হিসেবে দেখছে না।

সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে মূলত এমন ভিসা পরিবর্তন ঠেকানো, যেখানে প্রকৃত পড়াশোনার পরিবর্তে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান দীর্ঘায়িত করাই প্রধান উদ্দেশ্য। ভিজিটর ভিসার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ির ঘোষণা দিয়েছেন টনি বার্ক। ‘নো ফারদার স্টে’ শর্তের ব্যবহার বাড়ানো হবে, যাতে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় এসে দেশটির ভেতর থেকেই অন্য ভিসায় গিয়ে দীর্ঘদিন অবস্থান করা না যায়।

সরকার বলছে, যে উদ্দেশ্যে ভিসা দেওয়া হচ্ছে, সেই উদ্দেশ্যেই যেন সেটি ব্যবহার করা হয়—নতুন ব্যবস্থায় সেটির ওপর জোর দেওয়া হবে। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও নজরদারি ও ব্যবস্থা বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৭৭ হাজার মানুষ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন বলে সরকারের তথ্যে উঠে এসেছে।

তাদের শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আরও ১০০ জন কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। অভিবাসন আটক ব্যবস্থায় অতিরিক্ত ২৫০টি স্থান তৈরির কথাও জানিয়েছেন বার্ক। দক্ষ কর্মীদের ভিসা প্রক্রিয়াকরণেও অগ্রাধিকারে পরিবর্তন আসছে। স্বাস্থ্য, নির্মাণ, শিক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা খাতের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা, সম্পদ, কৃষি, জলজ চাষ ও মৎস্য খাতের প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার যেসব খাতে কর্মীর ঘাটতি বেশি, অভিবাসন ব্যবস্থাকে সেসব খাতের প্রয়োজনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করতে চাইছে সরকার। একই সঙ্গে অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহারে সহায়তাকারী অসাধু মাইগ্রেশন এজেন্টদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। সফল হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা নেই এমন আবেদন করিয়ে শুধু একজন আবেদনকারীর অস্ট্রেলিয়ায় থাকার সময় বাড়াতে সহায়তা করলে সংশ্লিষ্ট এজেন্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার।

জানা গেছে,সরকারের এই পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে,সব পরিবর্তনের জন্য নতুন আইন পাসের অপেক্ষা করা হবে না। সরকার প্রথমে অভিবাসন ব্যবস্থার কিছু অংশ আইন পরিবর্তনের মাধ্যমে কঠোর করতে চেয়েছিল। কিন্তু পার্লামেন্টে প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত না হওয়ায় বিদ্যমান নির্বাহী ক্ষমতার আওতায় ভিসার বিধি, শর্ত এবং মন্ত্রী পর্যায়ের নির্দেশনা পরিবর্তন করেও বেশ কিছু ব্যবস্থা কার্যকর করার পথে এগোচ্ছে সরকার।

অস্ট্রেলিয়ায় নেট ওভারসিজ মাইগ্রেশনও ইতিমধ্যে কমেছে। মার্চ পর্যন্ত এক বছরে তা ২ লাখ ৯২ হাজারে নেমেছে। করোনার পর ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে এই সংখ্যা সর্বোচ্চ ৫ লাখ ৫৬ হাজারে পৌঁছেছিল। সরকার ২০২৬–২৭ অর্থবছরে নেট ওভারসিজ মাইগ্রেশন ২ লাখ ৪৫ হাজার এবং ২০২৭–২৮ অর্থবছরে ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রেখেছে। টনি বার্ক বলেন, অস্ট্রেলিয়ার আবাসন সংকট অভিবাসন সৃষ্টি করেনি, তবে নতুন বাড়ি তৈরির গতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে অভিবাসনের গতি নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারের উদ্দেশ্য এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা যেখানে অস্থায়ীভাবে আসা ব্যক্তি অস্থায়ী ভিসার নিয়ম মেনে থাকবেন, স্থায়ীভাবে থাকার যোগ্য ব্যক্তির জন্য যথাযথ অভিবাসন পথ থাকবে এবং যার বৈধভাবে থাকার অধিকার নেই তাকে দেশ ছাড়তে হবে। নতুন পরিকল্পনা কার্যকর হলে বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে স্টুডেন্ট ভিসায় পরিবারের সদস্য আনার নতুন সীমাবদ্ধতা, একই বা নিচের স্তরের কোর্সের মাধ্যমে অবস্থান দীর্ঘায়িত করার সুযোগ সংকুচিত হওয়া এবং ভিজিটর ভিসা থেকে অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে অন্য ভিসায় যাওয়ার পথ কঠিন হওয়া।

তবে এসব পরিবর্তনের বিস্তারিত বিধি, কার্যকর হওয়ার তারিখ এবং কোন কোন ভিসা বা আবেদনকারী ঠিক কীভাবে এর আওতায় পড়বেন তা সংশ্লিষ্ট বিধি ও সরকারি নির্দেশনা প্রকাশের সঙ্গে এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট ভাবে বিস্তারিত জানা যাবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় দুই বছরেও শেষ হয়নি নাগরৌহা সেতুর নির্মাণকাজ

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি: স্টুডেন্ট ও ভিজিটর ভিসায় বড় পরিবর্তন

Update Time : 12:37:18 pm, Thursday, 17 September 2026

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্য আনার সুযোগ সীমিত করা, বারবার ভিসা বা কোর্স পরিবর্তন করে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান দীর্ঘায়িত করার পথ বন্ধ করা এবং ভিজিটর ভিসায় ‘নো ফারদার স্টে’ শর্তের ব্যবহার বাড়ানোসহ অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার লেবার সরকার।

বৃহস্পতিবার ক্যানবেরার ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে বহুল প্রতীক্ষিত অভিবাসন পরিকল্পনা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বলেন, নতুন ব্যবস্থার লক্ষ্য শুধু অভিবাসীর সংখ্যা কমানো নয়; কারা অস্ট্রেলিয়ায় আসছেন,কারা থাকছেন এবং কারা চলে যাচ্ছেন,পুরো প্রক্রিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর করা। তাঁর ভাষণের বিষয়ও ছিল ম্যানেজিং দ্য মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম: হু অ্যারাইভস, হু স্টেইস, হু লিভস।

নতুন পরিকল্পনায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসছে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে। অধিকাংশ বিদেশি শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে তাদের স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের স্টুডেন্ট ভিসার নির্ভরশীল সদস্য হিসেবে সঙ্গে আনতে পারবেন না। তবে বর্তমানে যারা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম প্রয়োগ করে পরিবার বিচ্ছিন্ন করা হবে না।

পরিবর্তনটি মূলত ভবিষ্যতের ভিসার ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। পরিবার আনার ক্ষেত্রে অবশ্য কিছু ব্যতিক্রম রাখা হচ্ছে। পিএইচডিসহ নির্দিষ্ট উচ্চতর গবেষণার শিক্ষার্থী এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও আসিয়ানভুক্ত দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকবে। বাংলাদেশ আসিয়ানের সদস্য নয়। ফলে আসিয়ানভুক্ত দেশের জন্য ঘোষিত বিশেষ সুবিধা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

তবে পিএইচডিসহ কোর্সভিত্তিক ব্যতিক্রমের শর্ত পূরণ করলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও সেই সুযোগ পেতে পারেন। অস্ট্রেলিয়ায় গত অর্থবছরে ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৪২৭টি স্টুডেন্ট ভিসা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৪৫ হাজার ৯৯১টি ছিল মূল শিক্ষার্থীর সঙ্গে থাকা স্বামী-স্ত্রী, সন্তান বা অন্যান্য সেকেন্ডারি আবেদনকারীর ভিসা। পরিবারের সদস্যদের সংখ্যা কমিয়ে নেট ওভারসিজ মাইগ্রেশনের ওপর চাপ কমানো সরকারের পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

শিক্ষার্থীদের ‘ভিসা হপিং’ বন্ধেও নতুন নিয়ম আসছে। একজন শিক্ষার্থী একটি কোর্স শেষ করে উচ্চতর যোগ্যতার দিকে এগোতে পারবেন। যেমন ব্যাচেলর শেষ করে মাস্টার্সে যাওয়া যাবে। কিন্তু একই বা নিচের স্তরের একের পর এক কোর্সে ভর্তি হয়ে নতুন স্টুডেন্ট ভিসার মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান দীর্ঘায়িত করার সুযোগ সীমিত করা হবে। তবে পড়াশোনা শেষ করে গ্র্যাজুয়েট ভিসায় যাওয়া এবং পরে অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজনীয় দক্ষ পেশায় কাজের মাধ্যমে অন্য বৈধ ভিসার পথে এগোনোকে সরকার ‘ভিসা হপিং’ হিসেবে দেখছে না।

সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে মূলত এমন ভিসা পরিবর্তন ঠেকানো, যেখানে প্রকৃত পড়াশোনার পরিবর্তে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান দীর্ঘায়িত করাই প্রধান উদ্দেশ্য। ভিজিটর ভিসার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ির ঘোষণা দিয়েছেন টনি বার্ক। ‘নো ফারদার স্টে’ শর্তের ব্যবহার বাড়ানো হবে, যাতে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় এসে দেশটির ভেতর থেকেই অন্য ভিসায় গিয়ে দীর্ঘদিন অবস্থান করা না যায়।

সরকার বলছে, যে উদ্দেশ্যে ভিসা দেওয়া হচ্ছে, সেই উদ্দেশ্যেই যেন সেটি ব্যবহার করা হয়—নতুন ব্যবস্থায় সেটির ওপর জোর দেওয়া হবে। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও নজরদারি ও ব্যবস্থা বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৭৭ হাজার মানুষ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন বলে সরকারের তথ্যে উঠে এসেছে।

তাদের শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আরও ১০০ জন কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। অভিবাসন আটক ব্যবস্থায় অতিরিক্ত ২৫০টি স্থান তৈরির কথাও জানিয়েছেন বার্ক। দক্ষ কর্মীদের ভিসা প্রক্রিয়াকরণেও অগ্রাধিকারে পরিবর্তন আসছে। স্বাস্থ্য, নির্মাণ, শিক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা খাতের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা, সম্পদ, কৃষি, জলজ চাষ ও মৎস্য খাতের প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার যেসব খাতে কর্মীর ঘাটতি বেশি, অভিবাসন ব্যবস্থাকে সেসব খাতের প্রয়োজনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করতে চাইছে সরকার। একই সঙ্গে অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহারে সহায়তাকারী অসাধু মাইগ্রেশন এজেন্টদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। সফল হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা নেই এমন আবেদন করিয়ে শুধু একজন আবেদনকারীর অস্ট্রেলিয়ায় থাকার সময় বাড়াতে সহায়তা করলে সংশ্লিষ্ট এজেন্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার।

জানা গেছে,সরকারের এই পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে,সব পরিবর্তনের জন্য নতুন আইন পাসের অপেক্ষা করা হবে না। সরকার প্রথমে অভিবাসন ব্যবস্থার কিছু অংশ আইন পরিবর্তনের মাধ্যমে কঠোর করতে চেয়েছিল। কিন্তু পার্লামেন্টে প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত না হওয়ায় বিদ্যমান নির্বাহী ক্ষমতার আওতায় ভিসার বিধি, শর্ত এবং মন্ত্রী পর্যায়ের নির্দেশনা পরিবর্তন করেও বেশ কিছু ব্যবস্থা কার্যকর করার পথে এগোচ্ছে সরকার।

অস্ট্রেলিয়ায় নেট ওভারসিজ মাইগ্রেশনও ইতিমধ্যে কমেছে। মার্চ পর্যন্ত এক বছরে তা ২ লাখ ৯২ হাজারে নেমেছে। করোনার পর ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে এই সংখ্যা সর্বোচ্চ ৫ লাখ ৫৬ হাজারে পৌঁছেছিল। সরকার ২০২৬–২৭ অর্থবছরে নেট ওভারসিজ মাইগ্রেশন ২ লাখ ৪৫ হাজার এবং ২০২৭–২৮ অর্থবছরে ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রেখেছে। টনি বার্ক বলেন, অস্ট্রেলিয়ার আবাসন সংকট অভিবাসন সৃষ্টি করেনি, তবে নতুন বাড়ি তৈরির গতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে অভিবাসনের গতি নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারের উদ্দেশ্য এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা যেখানে অস্থায়ীভাবে আসা ব্যক্তি অস্থায়ী ভিসার নিয়ম মেনে থাকবেন, স্থায়ীভাবে থাকার যোগ্য ব্যক্তির জন্য যথাযথ অভিবাসন পথ থাকবে এবং যার বৈধভাবে থাকার অধিকার নেই তাকে দেশ ছাড়তে হবে। নতুন পরিকল্পনা কার্যকর হলে বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে স্টুডেন্ট ভিসায় পরিবারের সদস্য আনার নতুন সীমাবদ্ধতা, একই বা নিচের স্তরের কোর্সের মাধ্যমে অবস্থান দীর্ঘায়িত করার সুযোগ সংকুচিত হওয়া এবং ভিজিটর ভিসা থেকে অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে অন্য ভিসায় যাওয়ার পথ কঠিন হওয়া।

তবে এসব পরিবর্তনের বিস্তারিত বিধি, কার্যকর হওয়ার তারিখ এবং কোন কোন ভিসা বা আবেদনকারী ঠিক কীভাবে এর আওতায় পড়বেন তা সংশ্লিষ্ট বিধি ও সরকারি নির্দেশনা প্রকাশের সঙ্গে এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট ভাবে বিস্তারিত জানা যাবে।