আজ বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০৪ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৮০%

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ জামায়াতের

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:44:27 pm, Wednesday, 16 September 2026
  • 10

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ জামায়াতের

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) স্বাধীনতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারের নগ্ন হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

দলটি অভিযোগ করেছে, সরকার নির্বাচন পিছিয়ে দিয়ে অনির্বাচিত প্রশাসকদের মেয়াদ দীর্ঘায়িত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়ার গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ক্ষোভ ও দাবির কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সাতটি ধাপের একটি প্রাথমিক রূপরেখা প্রকাশ করে, যেখানে ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপ এবং আগামী ২৭ মে শেষ ধাপের নির্বাচনের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছিল।

কিন্তু মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের প্রকাশ্যে আপত্তির মুখে কমিশন তার অবস্থান পরিবর্তন করে রূপরেখাকে ‘পুরোপুরি প্রাথমিক’ বলে ব্যাখ্যা দেয় এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার কথা জানায়। এ ছাড়াও ইসি সচিব আখতার আহমেদ প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে কোনো মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করায় কমিশনের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দলটি।

জামায়াতে ইসলামী মনে করে, সাংবিধানিক সহযোগিতার নামে কমিশনের ওপর চাপ সৃষ্টি বা হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এটি দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও জনগণের ভোটাধিকারকে চরম হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর ৮ দফা দাবি ১. নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে সময়সূচি ও অন্যান্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ দিতে হবে।

কোনো মন্ত্রণালয় বা রাজনৈতিক পক্ষ কমিশনের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। ২. নির্বাচন বিলম্বিত করার কোনো প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক অজুহাত গ্রহণ করা যাবে না। ৩. দ্রুত একটি স্পষ্ট, চূড়ান্ত, সময়বদ্ধ ও বাস্তবায়নযোগ্য নির্বাচনি রোডম্যাপ প্রকাশ করতে হবে। ৪. নির্বাচনে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ, নিরাপদ পরিবেশ ও কার্যকরের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে হবে।

৫. প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের নিশ্চয়তা দিতে হবে। ৬. নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক মর্যাদা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা রক্ষায় সরকারকে প্রকাশ্যে ও কার্যকর নিশ্চয়তা দিতে হবে। ৭. স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে বর্তমান সরকার কর্তৃক নিযুক্ত প্রশাসকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে।

৮. এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার সংবিধানপরিপন্থী সিদ্ধান্ত বাতিলসহ জামায়াতের পূর্বে প্রদত্ত ৯ দফা বাস্তবায়ন করতে হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন কমিশনকে সরকারের চাপের বদলে সংবিধান ও জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার আহ্বান জানাচ্ছে। একই সঙ্গে দলটি একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, দেশে মোট প্রাণহানি বেড়ে ১৭১

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ জামায়াতের

Update Time : 11:44:27 pm, Wednesday, 16 September 2026

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) স্বাধীনতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারের নগ্ন হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

দলটি অভিযোগ করেছে, সরকার নির্বাচন পিছিয়ে দিয়ে অনির্বাচিত প্রশাসকদের মেয়াদ দীর্ঘায়িত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়ার গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ক্ষোভ ও দাবির কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সাতটি ধাপের একটি প্রাথমিক রূপরেখা প্রকাশ করে, যেখানে ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপ এবং আগামী ২৭ মে শেষ ধাপের নির্বাচনের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছিল।

কিন্তু মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের প্রকাশ্যে আপত্তির মুখে কমিশন তার অবস্থান পরিবর্তন করে রূপরেখাকে ‘পুরোপুরি প্রাথমিক’ বলে ব্যাখ্যা দেয় এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার কথা জানায়। এ ছাড়াও ইসি সচিব আখতার আহমেদ প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে কোনো মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করায় কমিশনের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দলটি।

জামায়াতে ইসলামী মনে করে, সাংবিধানিক সহযোগিতার নামে কমিশনের ওপর চাপ সৃষ্টি বা হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এটি দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও জনগণের ভোটাধিকারকে চরম হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর ৮ দফা দাবি ১. নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে সময়সূচি ও অন্যান্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ দিতে হবে।

কোনো মন্ত্রণালয় বা রাজনৈতিক পক্ষ কমিশনের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। ২. নির্বাচন বিলম্বিত করার কোনো প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক অজুহাত গ্রহণ করা যাবে না। ৩. দ্রুত একটি স্পষ্ট, চূড়ান্ত, সময়বদ্ধ ও বাস্তবায়নযোগ্য নির্বাচনি রোডম্যাপ প্রকাশ করতে হবে। ৪. নির্বাচনে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ, নিরাপদ পরিবেশ ও কার্যকরের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে হবে।

৫. প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের নিশ্চয়তা দিতে হবে। ৬. নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক মর্যাদা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা রক্ষায় সরকারকে প্রকাশ্যে ও কার্যকর নিশ্চয়তা দিতে হবে। ৭. স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে বর্তমান সরকার কর্তৃক নিযুক্ত প্রশাসকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে।

৮. এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার সংবিধানপরিপন্থী সিদ্ধান্ত বাতিলসহ জামায়াতের পূর্বে প্রদত্ত ৯ দফা বাস্তবায়ন করতে হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন কমিশনকে সরকারের চাপের বদলে সংবিধান ও জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার আহ্বান জানাচ্ছে। একই সঙ্গে দলটি একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।