পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলে সোহরাফ গাজীর জালে ২ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি বড় ইলিশ ধরা পড়েছে। বুধবার সকালে কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে মাছটি নিলামে তোলা হলে তা ৭ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বঙ্গোপসাগরের পায়রা বন্দর সংলগ্ন পাইপ বয়ার গভীর এলাকায় মাছটি জেলের জালে ধরা পড়ে। পরদিন বুধবার সকাল ৯টার দিকে বিক্রির জন্য কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে আনা হয়। পরে নিলামে মাছটি কিনে নেন কুয়াকাটা মা মনি ফিশের ম্যানেজার মিজান। জেলে সোহরাফ গাজী বলেন, প্রায় ১০ বছর ধরে বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে ইলিশ ধরছেন তিনি।
অন্যান্য মাছের সঙ্গে জাল তোলার সময় বড় ইলিশটি ধরা পড়ে। নিলামে প্রতি মণ ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা হিসাবে প্রতি কেজি ৭ হাজার ২০০ টাকা দরে মাছটি বিক্রি হয়েছে। তার দাবি, প্রায় সাত বছর পর এত বড় ইলিশ পেয়েছেন তিনি। মাছটি ক্রেতা মিজান বলেন, বর্তমানে কুয়াকাটার বাজারে এত বড় ইলিশ খুব একটা দেখা যায় না। নিলামের মাধ্যমে মাছটি কিনে শরীয়তপুরের এক প্রবাসীর ভাইয়ের বাড়িতে পাঠানো হবে।
এ ধরনের বড় মাছ ধরা পড়লে জেলে ও আড়তদার উভয়েই লাভবান হন। তবে বড় ইলিশের এমন দামে নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার কথাও বলছেন স্থানীয়রা। বাসিন্দা জামাল ঘরামি বলেন, বর্তমানে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা কেজি দরের ইলিশও তাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য কেনা কঠিন। আগে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে ঘরে ইলিশ উঠলেও এখন সেটি অনেকটা স্বপ্নের মতো হয়ে গেছে।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. রাজীব সরকার বলেন, ছোট ইলিশের অতিরিক্ত আহরণ, নদীতে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া, বাঁধ ও স্লুইস গেটের কারণে মাছের চলাচলে বাধা, অবৈধ জালের ব্যবহারসহ বিভিন্ন কারণে বড় ইলিশের সংখ্যা কমছে। পাশাপাশি পানি দূষণ, প্ল্যাঙ্কটনের ঘাটতি, জলবায়ু ও লবণাক্ততার পরিবর্তন ইলিশের প্রজনন ও খাদ্যপ্রাপ্তিতে প্রভাব ফেলছে।
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়া অবশ্যই ইতিবাচক খবর। এটি ইলিশ সংরক্ষণে নেওয়া নিষেধাজ্ঞার সুফলের একটি দিক হতে পারে। তার মতে, জালের ফাঁসের প্রশস্ততা বাড়ানো হলে বড় আকারের ইলিশ আহরণের সুযোগ আরও বাড়তে পারে।



















