পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরে টানা ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে মোবাইল ডেটা ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রয়েছে। নির্বাচনি সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ শুরুর পর গত জুনের শুরুতে এই বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়।
বিক্ষোভ থেমেছে, নতুন সরকারও গঠিত হয়েছে; কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। স্বাধীন ইন্টারনেট নজরদারি সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, গত ৫ জুন থেকে অঞ্চলটিতে আংশিক ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতা চলছে। এর ফলে দৈনন্দিন যোগাযোগ থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষাব্যবস্থাÑসব ক্ষেত্রেই তৈরি হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী সংকট।
ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় অনলাইন ব্যাংকিংয়ের বিভিন্ন ব্যবস্থা ব্যবহার করতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। ব্যাংকিং কার্যক্রমে বাধার পাশাপাশি ব্যাবসায়িক লেনদেন ও অন্যান্য অনলাইননির্ভর কর্মকা-ও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শুধু ব্যবসা নয়, শিক্ষাক্ষেত্রেও এর বড় প্রভাব পড়েছে। ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত থাকায় শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতির কারণে প্রশাসনকে প্রবেশিকা পরীক্ষাও স্থগিত করতে হয়েছে। নির্বাচনি সংস্কারের দাবিতে জম্মু-কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি আন্দোলন শুরু করলে ৫ জুন সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। সংগঠনটির প্রধান দাবির মধ্যে ছিল আইনসভায় ভারত-শাসিত কাশ্মীর থেকে পাকিস্তানের অন্য অংশে বসবাসকারী শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন বাতিল করা।
এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা সহিংস সংঘর্ষে রূপ নেয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও সূত্রগুলোর হিসাবে, সংঘর্ষে ৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাত সদস্যও রয়েছেন। তবে হতাহতের এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। চলমান অস্থিরতার মধ্যেই তিন দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ হয় ১০ আগস্ট। নিরাপত্তাজনিত কারণে বিক্ষোভপ্রবণ কয়েকটি এলাকায় ভোট স্থগিত রাখা হলেও বাকি আসনের ফলাফলের ভিত্তিতে নতুন আঞ্চলিক সরকার গঠন করা হয়েছে।


















