সিলেটকে নিজের অত্যন্ত প্রিয় স্থান হিসেবে উল্লেখ করে সর্বস্তরের জনগণকে সাথে নিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো এক দিনের সফরে সিলেটে পৌঁছালে বিমানবন্দরে বাণিজ্যমন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তাঁকে অভ্যর্থনা জানান।
সফরের শুরুতে রাষ্ট্রপতি সিলেট সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন। এরপর তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। বিকেলে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তিনি। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পুণ্যভূমি সিলেটের অলী-আউলিয়াদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, অলী-আউলিয়াদের সান্নিধ্য পাওয়া তাঁর জন্য সবসময়ই বিশেষ অনুভূতির।
তবে রাষ্ট্রপতির শপথ নেওয়ার পর থেকে তিনি এখন দল-মত নির্বিশেষে পুরো দেশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছেন। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মেজর হাফিজের অসামান্য নেতৃত্বেই স্বাধীন হয়েছিল ঐতিহাসিক এই সিলেট। বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিতে প্রবাসী সিলেটিদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে মজবুত করে রেখেছে।
সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা তুলে ধরে পাহাড়, চা বাগান আর বনে ঘেরা এই ভূখণ্ডের উন্নয়ন ও পর্যটন বৃদ্ধিতে প্রবাসীদের আরও নতুন উদ্যমে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। বক্তব্যকালে তিনি বর্তমান সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর যোগ্য নেতৃত্বের বিশেষ প্রশংসা করেন।
দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় এক ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটেছে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর দেশে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, সেখানে গণতন্ত্র রক্ষায় সরকারি ও বিরোধী দল উভয়কেই সমান দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে এ বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ এই অঞ্চলের বিভিন্ন পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।



















