আজ শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২১ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১০০%

জ্বালানি তেল আমদানিতে দেখা দিয়েছে জটিলতা

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:22:24 pm, Saturday, 5 September 2026
  • 9

জ্বালানি তেল আমদানিতে দেখা দিয়েছে জটিলতা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

মাত্র ৪ দিন সময় দিয়ে গত মাসের ৬ তারিখ হঠাৎ করেই বেসরকারি পর্যায়ে জ্বালানি আমদানিনীতিমালার খসড়া চাওয়া হয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে। কিন্তু প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও বিপিসি নীতিমালার চূড়ান্ত খসড়া না দেওয়ায় বিষয়টিতে এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি সরকার।

বলা যায়, একপ্রকার থমকেই আছে নীতিমালা তৈরির কাজ। ইতিমধ্যে বসুন্ধরা গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, ইস্ট কোস্ট গ্রুপসহ কয়েকটি কোম্পানি আগ্রহপত্র জমা দিলেও বিপিসির সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে রয়েছে আমদানি কার্যক্রম। আবার বেসরকারি খাতে আমদানি কার্যক্রম দেওয়া হলে সেখানেও সিন্ডিকেট তৈরির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সব মিলিয়ে একটা এলোমেলো অবস্থা বিরাজ করছে জ্বালানি তেল আমদানি কার্যক্রমে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও টার্মিনাল ত্রুটিসহ নানা কারণে ক্ষমতায় এসেই বিএনপি সরকারকে জ্বালানি খাতে বড় ধরনের ধাক্কার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। চলতি বছরের মার্চে মধ্যপ্রাচ্যযুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের বাজারে তৈরি হয় বিরাট সংকট। তখনই সরকার জ্বালানি তেলের বাজার বেসরকারি খাতে উন্মুক্ত করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। দেশের জ্বালানি তেল আমদানির বাজারে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) প্রধান ভূমিকা পালন করে আসছে।

কিন্তু বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে অস্থিরতা, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং সাম্প্রতিক সংকটের অভিজ্ঞতার পর জ্বালানি তেল আমদানিতে বেসরকারি খাতকে সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার। তবে এটি আত্মঘাতী না লাভবান হওয়ার মতো সিদ্ধান্ত— তা নিয়েও তৈরি হয়েছে নানান সমালোচনা। কেউ কেউ বলছেন এতে সরকারের আমদানি ব্যয়ের সুযোগ কমলেও জ্বালানির বাজারে নতুন সিন্ডিকেট তৈরি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

বর্তমানে বিপিসি বিদেশি কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে তেল আমদানি করছে। এরপর নিজস্ব কয়েকটি কোম্পানির (পদ্মা, মেঘনা, যমুনার) মাধ্যমে বিপণন করে থাকে। এখন বিপিসি পুরোপুরি আমদানি করে, সেখানে বেসরকারি উদ্যোক্তারা যুক্ত হলে তারা এনে বিপিসিকে সরবরাহ করতে পারে। এখন যে কাজটি বিদেশি কোম্পানি করছে। বিদেশি কোম্পানির পাশাপাশি দেশি উদ্যোক্তারা যুক্ত হলে জ্বালানি তেলের সংকট এতটা তীব্র না হওয়ার কথাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

বরং দেশি উদ্যোক্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা যায়, বিদেশি কোম্পানিকে সেভাবে আনা যায় না বলে মত তাদের। আগ্রহ পাচ্ছে না বিপিসি এদিকে জ্বালানি আমদানির বিষয়টি বেসরকারি খাতে দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী নয় বিপিসি। এর আগে ২০১৪ সালে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের ফার্নেস অয়েল আমদানির প্রস্তাবের সময়েও তারা তীব্র বিরোধিতা করেছিল। কেন তারা এর বিরোধিতা করেন?

এই প্রশ্নের উত্তরে অনেকেই বলেছেন, বিষয়টি যতটা জাতীয় স্বার্থ, তার চেয়ে বেশি ব্যক্তিগত। নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানির মাধ্যমে তারা আমদানি করেন। বিপিসিতে ডা. এজাজের সিন্ডিকেটের বিষয়টি অনেকটাই ওপেন সিক্রেট। সরকার আসে সরকার যায়; কিন্তু তিনি বহাল তবিয়তে। ২০২৫-২০২৬ সালে বিভিন্ন প্যাকেজের মাধ্যমে (দরপত্রের মাধ্যমে) জ্বালানি তেল কেনা হয় ২৭ লাখ ১০ হাজার টন।

এর মধ্যে ডা. এজাজের কোম্পানিগুলো পেয়েছে ১৮ লাখ ৪০ হাজার টনের অর্ডার। এর বাইরে সরকার টু সরকার (জি টু জি) মাধ্যমে কেনা তেলের মধ্যে ডা. এজাজের ৬টি প্রতিষ্ঠান সরবরাহের কাজ পেয়েছে ৪৩ লাখ টনের মতো। অর্থাৎ দেশে যে পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, বিপিসির মাধ্যমে তার প্রায় ৮০ শতাংশ আমদানি করা হয় এক ব্যক্তির প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। যদিও বিপিসিতে তেল সরবরাহের জন্য তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা ১১টি।

এর মধ্যে ৬টির স্থানীয় এজেন্ট হচ্ছে ডা. এজাজের কোম্পানি। বিপিসির সাবেক কর্মকর্তাদের বিশেষ করে তেল ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িতদের এই অফিসে নিয়োগ দেওয়া হয়। এমন ১০ জন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা এখনো ডা. এজাজের অফিসে কাজ করেন। বিপিসির ওপর বিশাল আমদানি চাপ বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এখনো আমদানিনির্ভর। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলেই এর সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, পরিবহন খরচ, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্প খাতে।

২০২৬ সালের মার্চে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হলে দেশে জ্বালানি বিক্রিতে রেশনিং পর্যন্ত করতে হয়েছিল। তখন বিপিসি জানিয়েছিল, দেশের জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশই আমদানিনির্ভর। একই সময় সরকার জ্বালানি ও এলএনজি আমদানি চালু রাখতে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থায়ন সংগ্রহের চেষ্টা করে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট মার্কেটের উচ্চমূল্য আমদানি ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেয়।

এ অবস্থায় বেসরকারি খাত নিজেদের অর্থায়নে জ্বালানি আমদানি করলে সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর তাৎক্ষণিক চাপ কিছুটা কমতে পারে। সরকারের লাভ কোথায় বেসরকারি খাতে আমদানির সবচেয়ে বড় সুবিধা হতে পারে সরকারের অর্থায়ন ঝুঁকি কমানো। বর্তমানে বিপিসিকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানির জন্য এলসি খোলা, বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ, ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং সরবরাহ নিশ্চিত করতে হয়।

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে গেলে রাষ্ট্রীয় অর্থের ওপর চাপও বাড়ে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে জ্বালানি ব্যয় সরকারকে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আর্থিক চাপের মধ্যে ফেলেছে। অতএব, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থে জ্বালানি আমদানি করলে সরকারের জন্য কয়েকটি সুবিধা তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন এসব সুবিধার মধ্যে রয়েছে— বৈদেশিক মুদ্রার তাৎক্ষণিক চাপ কমা; সরকারি ঋণের প্রয়োজন কমা; আমদানির উৎস ও সরবরাহকারী বাড়া; বিপিসির আর্থিক ঝুঁকি কিছুটা কমা ও বাজারে প্রতিযোগিতা তৈরি হলে আমদানি ব্যয় কমার সম্ভাবনা। তবে এসব সুবিধা তখনই বাস্তব হবে, যদি বাজারে প্রকৃত প্রতিযোগিতা থাকে। এ ব্যাপারে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্ট অধ্যাপক শামসুল আলম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘বিগত সময়গুলোতে আমরা দেখেছি, বেসরকারি খাতে ক্ষমতা দেওয়ার মানেই একটা সিন্ডিকেট তৈরি হওয়া।

বিশেষ করে এলপিজির বাজারে আমরা দেখছি, এটি কীভাবে জনগণকে জিম্মি করে বাড়তি অর্থ আদায় করছেন ব্যবসায়ীরা। এ ক্ষেত্রে তেলের বাজারেও যদি এমন সিন্ডিকেট তৈরি হয়, তাহলে ভোগান্তি বাড়বে বই কমবে না। তাই বেসরকারি খাতে দেওয়া হলেও বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারি নজরদারি বাড়ানো জরুরি হবে। ’ আমদানির অর্থ দেবে কে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের অর্থে তেল আনলে সরকারের জন্য একটি বড় সুবিধা হলো— আমদানি ব্যয়ের পুরো অর্থ আগে থেকে রাষ্ট্রকে জোগাড় করতে হবে না।

কিন্তু এখানে আরেকটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ। বেসরকারি আমদানিকারক কি শেষ পর্যন্ত সেই অর্থ ভোক্তার কাছ থেকেই তুলে নেবে? যদি আমদানিকারক আন্তর্জাতিক বাজারদর, পরিবহন ব্যয়, ব্যাংকিং ব্যয় এবং নিজস্ব মুনাফা যোগ করে পণ্য বাজারজাত করে, তাহলে সরকারের নির্ধারিত খুচরা মূল্যের সঙ্গে সেই কাঠামোর সামঞ্জস্য কীভাবে হবে, তা স্পষ্ট হওয়া জরুরি।

বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে বিপিসি নিয়মিত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে। চলতি বছরের জুনেও জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থাৎ বেসরকারি আমদানির সঙ্গে মূল্য নির্ধারণব্যবস্থার সমন্বয় না থাকলে বাজারে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য তৈরি হতে পারে।

বেসরকারি অলিগোপলি তৈরির শঙ্কা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেসরকারি খাতে আমদানি উন্মুক্ত করার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো— প্রতিযোগিতা তৈরির বদলে যদি কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান বাজার নিয়ন্ত্রণ করে, তাহলে সরকারি একচেটিয়া ব্যবস্থার জায়গায় বেসরকারি অলিগোপলি তৈরি হতে পারে। তারা বলছেন, ধরা যাক কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আমদানি লাইসেন্স, রিফাইনারি, ডিপো, স্টোরেজ এবং পরিবহন অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিল।

তখন তারা বাজারে সরবরাহের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। এর ফলে তাত্ত্বিকভাবে তিনটি সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রথমত, আমদানির প্রকৃত ব্যয় যাচাই কঠিন হতে পারে; দ্বিতীয়ত, বাজারে সরবরাহ কমিয়ে বা নিয়ন্ত্রণ করে দাম বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে; তৃতীয়ত, রাজনৈতিক ও ব্যাবসায়িক প্রভাবশালী গোষ্ঠীর হাতে কৌশলগত জ্বালানির বাজার কেন্দ্রীভূত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

এ বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম তামিম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘কতটি প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দেওয়া হবে এবং কীভাবে নিশ্চিত করা হবে যে কোনো প্রতিষ্ঠান বাজারের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না, এসব ক্ষেত্রে সরকারকে তীক্ষ্ণ নজরদারি করতে হবে। ’ রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগে যত প্রশ্ন অন্যদিকে সরকার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডকে আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে বড় বিনিয়োগ করছে।

বিপিসিও চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটিকে এর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য আন্তর্জাতিক পরামর্শক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। তাই এখানে নীতিগত প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি সরকার একদিকে রাষ্ট্রীয় অর্থে রিফাইনারির সক্ষমতা বাড়ায় এবং অন্যদিকে একই পণ্য আমদানিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ব্যাপকভাবে সুযোগ দেয়, তাহলে দুই নীতির মধ্যে সমন্বয় কীভাবে হবে?

রাষ্ট্রীয় রিফাইনারির উৎপাদন যদি বাজারে জায়গা না পায়, তাহলে তার বিনিয়োগের অর্থনৈতিক সুফল কমে যেতে পারে। আবার বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যদি কম খরচে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পণ্য এনে দিতে পারে, তাহলে তাদের প্রতিযোগিতার সুযোগ দেওয়া অর্থনৈতিকভাবে যৌক্তিকও হতে পারে। অর্থাৎ এখানে মূল বিষয় সরকারি না বেসরকারি এটি নয়, বরং কে কম খরচে, বেশি স্বচ্ছতায় এবং নির্ভরযোগ্যভাবে জ্বালানি সরবরাহ করতে পারে।

আন্তর্জাতিক সংকট দেখিয়ে দিয়েছে দুর্বলতা চলতি বছর মার্চের জ্বালানি সংকট এই বিতর্ককে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জাহাজ চলাচল ও সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে বাংলাদেশে জ্বালানি বিক্রিতে দৈনিক সীমা নির্ধারণ করতে হয়েছিল। বিপিসি জানিয়েছিল, অতিরিক্ত চাহিদা ও মজুতদারির কারণে পরিস্থিতি আরও চাপের মধ্যে পড়েছিল।

তাই খাতটিকে বেসরকারীকরণ করলেও খুব বেশি সুবিধা পাওয়ার সুযোগ নেই উল্লেখ করে অপর জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান লাভ করবে, কিন্তু সংকটের সময় সরকার যদি তাদের কাছ থেকে বাধ্যতামূলক সরবরাহ নিতে না পারে, তাহলে এই মডেল জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না। কতটি প্রতিষ্ঠান সুযোগ পাচ্ছে, কী দামে আমদানি করছে, কত মুনাফা করছে, কীভাবে দাম নির্ধারিত হচ্ছে, কত মজুত রাখছে এবং সংকটের সময় রাষ্ট্রের নির্দেশ কতটা মানছে তার ওপর।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সরকার যেন বিপিসির সরকারি একচেটিয়া বাজার ভেঙে কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া বাজার তৈরি না করে। তাই এ ক্ষেত্রে সরকারকে আরেকটু ভাবতে হবে। ’ বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন নীতিমালা প্রসঙ্গে ক্যাবের জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. শামসুল আলম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা রেগুলেটরি কালচার প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি।

রেগুলেটরকে নিয়ন্ত্রণ করছে প্রশাসন বিভাগ। রেগুলেটর যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারত, তাহলে ভয় ছিল না। কোম্পানিগুলোকে যদি নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তাহলে ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। তবে যদি বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়, তাহলে সরকারের ওপর অবশ্যই চাপ কমবে। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারের নজরদারিও বাড়াতে হবে যেন এ ক্ষেত্রে কোনো সিন্ডিকেট গড়ে না ওঠে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

জ্বালানি তেল আমদানিতে দেখা দিয়েছে জটিলতা

Update Time : 11:22:24 pm, Saturday, 5 September 2026

মাত্র ৪ দিন সময় দিয়ে গত মাসের ৬ তারিখ হঠাৎ করেই বেসরকারি পর্যায়ে জ্বালানি আমদানিনীতিমালার খসড়া চাওয়া হয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে। কিন্তু প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও বিপিসি নীতিমালার চূড়ান্ত খসড়া না দেওয়ায় বিষয়টিতে এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি সরকার।

বলা যায়, একপ্রকার থমকেই আছে নীতিমালা তৈরির কাজ। ইতিমধ্যে বসুন্ধরা গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, ইস্ট কোস্ট গ্রুপসহ কয়েকটি কোম্পানি আগ্রহপত্র জমা দিলেও বিপিসির সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে রয়েছে আমদানি কার্যক্রম। আবার বেসরকারি খাতে আমদানি কার্যক্রম দেওয়া হলে সেখানেও সিন্ডিকেট তৈরির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সব মিলিয়ে একটা এলোমেলো অবস্থা বিরাজ করছে জ্বালানি তেল আমদানি কার্যক্রমে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও টার্মিনাল ত্রুটিসহ নানা কারণে ক্ষমতায় এসেই বিএনপি সরকারকে জ্বালানি খাতে বড় ধরনের ধাক্কার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। চলতি বছরের মার্চে মধ্যপ্রাচ্যযুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের বাজারে তৈরি হয় বিরাট সংকট। তখনই সরকার জ্বালানি তেলের বাজার বেসরকারি খাতে উন্মুক্ত করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। দেশের জ্বালানি তেল আমদানির বাজারে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) প্রধান ভূমিকা পালন করে আসছে।

কিন্তু বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে অস্থিরতা, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং সাম্প্রতিক সংকটের অভিজ্ঞতার পর জ্বালানি তেল আমদানিতে বেসরকারি খাতকে সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার। তবে এটি আত্মঘাতী না লাভবান হওয়ার মতো সিদ্ধান্ত— তা নিয়েও তৈরি হয়েছে নানান সমালোচনা। কেউ কেউ বলছেন এতে সরকারের আমদানি ব্যয়ের সুযোগ কমলেও জ্বালানির বাজারে নতুন সিন্ডিকেট তৈরি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

বর্তমানে বিপিসি বিদেশি কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে তেল আমদানি করছে। এরপর নিজস্ব কয়েকটি কোম্পানির (পদ্মা, মেঘনা, যমুনার) মাধ্যমে বিপণন করে থাকে। এখন বিপিসি পুরোপুরি আমদানি করে, সেখানে বেসরকারি উদ্যোক্তারা যুক্ত হলে তারা এনে বিপিসিকে সরবরাহ করতে পারে। এখন যে কাজটি বিদেশি কোম্পানি করছে। বিদেশি কোম্পানির পাশাপাশি দেশি উদ্যোক্তারা যুক্ত হলে জ্বালানি তেলের সংকট এতটা তীব্র না হওয়ার কথাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

বরং দেশি উদ্যোক্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা যায়, বিদেশি কোম্পানিকে সেভাবে আনা যায় না বলে মত তাদের। আগ্রহ পাচ্ছে না বিপিসি এদিকে জ্বালানি আমদানির বিষয়টি বেসরকারি খাতে দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী নয় বিপিসি। এর আগে ২০১৪ সালে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের ফার্নেস অয়েল আমদানির প্রস্তাবের সময়েও তারা তীব্র বিরোধিতা করেছিল। কেন তারা এর বিরোধিতা করেন?

এই প্রশ্নের উত্তরে অনেকেই বলেছেন, বিষয়টি যতটা জাতীয় স্বার্থ, তার চেয়ে বেশি ব্যক্তিগত। নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানির মাধ্যমে তারা আমদানি করেন। বিপিসিতে ডা. এজাজের সিন্ডিকেটের বিষয়টি অনেকটাই ওপেন সিক্রেট। সরকার আসে সরকার যায়; কিন্তু তিনি বহাল তবিয়তে। ২০২৫-২০২৬ সালে বিভিন্ন প্যাকেজের মাধ্যমে (দরপত্রের মাধ্যমে) জ্বালানি তেল কেনা হয় ২৭ লাখ ১০ হাজার টন।

এর মধ্যে ডা. এজাজের কোম্পানিগুলো পেয়েছে ১৮ লাখ ৪০ হাজার টনের অর্ডার। এর বাইরে সরকার টু সরকার (জি টু জি) মাধ্যমে কেনা তেলের মধ্যে ডা. এজাজের ৬টি প্রতিষ্ঠান সরবরাহের কাজ পেয়েছে ৪৩ লাখ টনের মতো। অর্থাৎ দেশে যে পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, বিপিসির মাধ্যমে তার প্রায় ৮০ শতাংশ আমদানি করা হয় এক ব্যক্তির প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। যদিও বিপিসিতে তেল সরবরাহের জন্য তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা ১১টি।

এর মধ্যে ৬টির স্থানীয় এজেন্ট হচ্ছে ডা. এজাজের কোম্পানি। বিপিসির সাবেক কর্মকর্তাদের বিশেষ করে তেল ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িতদের এই অফিসে নিয়োগ দেওয়া হয়। এমন ১০ জন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা এখনো ডা. এজাজের অফিসে কাজ করেন। বিপিসির ওপর বিশাল আমদানি চাপ বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এখনো আমদানিনির্ভর। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলেই এর সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, পরিবহন খরচ, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্প খাতে।

২০২৬ সালের মার্চে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হলে দেশে জ্বালানি বিক্রিতে রেশনিং পর্যন্ত করতে হয়েছিল। তখন বিপিসি জানিয়েছিল, দেশের জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশই আমদানিনির্ভর। একই সময় সরকার জ্বালানি ও এলএনজি আমদানি চালু রাখতে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থায়ন সংগ্রহের চেষ্টা করে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট মার্কেটের উচ্চমূল্য আমদানি ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেয়।

এ অবস্থায় বেসরকারি খাত নিজেদের অর্থায়নে জ্বালানি আমদানি করলে সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর তাৎক্ষণিক চাপ কিছুটা কমতে পারে। সরকারের লাভ কোথায় বেসরকারি খাতে আমদানির সবচেয়ে বড় সুবিধা হতে পারে সরকারের অর্থায়ন ঝুঁকি কমানো। বর্তমানে বিপিসিকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানির জন্য এলসি খোলা, বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ, ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং সরবরাহ নিশ্চিত করতে হয়।

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে গেলে রাষ্ট্রীয় অর্থের ওপর চাপও বাড়ে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে জ্বালানি ব্যয় সরকারকে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আর্থিক চাপের মধ্যে ফেলেছে। অতএব, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থে জ্বালানি আমদানি করলে সরকারের জন্য কয়েকটি সুবিধা তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন এসব সুবিধার মধ্যে রয়েছে— বৈদেশিক মুদ্রার তাৎক্ষণিক চাপ কমা; সরকারি ঋণের প্রয়োজন কমা; আমদানির উৎস ও সরবরাহকারী বাড়া; বিপিসির আর্থিক ঝুঁকি কিছুটা কমা ও বাজারে প্রতিযোগিতা তৈরি হলে আমদানি ব্যয় কমার সম্ভাবনা। তবে এসব সুবিধা তখনই বাস্তব হবে, যদি বাজারে প্রকৃত প্রতিযোগিতা থাকে। এ ব্যাপারে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্ট অধ্যাপক শামসুল আলম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘বিগত সময়গুলোতে আমরা দেখেছি, বেসরকারি খাতে ক্ষমতা দেওয়ার মানেই একটা সিন্ডিকেট তৈরি হওয়া।

বিশেষ করে এলপিজির বাজারে আমরা দেখছি, এটি কীভাবে জনগণকে জিম্মি করে বাড়তি অর্থ আদায় করছেন ব্যবসায়ীরা। এ ক্ষেত্রে তেলের বাজারেও যদি এমন সিন্ডিকেট তৈরি হয়, তাহলে ভোগান্তি বাড়বে বই কমবে না। তাই বেসরকারি খাতে দেওয়া হলেও বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারি নজরদারি বাড়ানো জরুরি হবে। ’ আমদানির অর্থ দেবে কে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের অর্থে তেল আনলে সরকারের জন্য একটি বড় সুবিধা হলো— আমদানি ব্যয়ের পুরো অর্থ আগে থেকে রাষ্ট্রকে জোগাড় করতে হবে না।

কিন্তু এখানে আরেকটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ। বেসরকারি আমদানিকারক কি শেষ পর্যন্ত সেই অর্থ ভোক্তার কাছ থেকেই তুলে নেবে? যদি আমদানিকারক আন্তর্জাতিক বাজারদর, পরিবহন ব্যয়, ব্যাংকিং ব্যয় এবং নিজস্ব মুনাফা যোগ করে পণ্য বাজারজাত করে, তাহলে সরকারের নির্ধারিত খুচরা মূল্যের সঙ্গে সেই কাঠামোর সামঞ্জস্য কীভাবে হবে, তা স্পষ্ট হওয়া জরুরি।

বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে বিপিসি নিয়মিত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে। চলতি বছরের জুনেও জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থাৎ বেসরকারি আমদানির সঙ্গে মূল্য নির্ধারণব্যবস্থার সমন্বয় না থাকলে বাজারে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য তৈরি হতে পারে।

বেসরকারি অলিগোপলি তৈরির শঙ্কা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেসরকারি খাতে আমদানি উন্মুক্ত করার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো— প্রতিযোগিতা তৈরির বদলে যদি কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান বাজার নিয়ন্ত্রণ করে, তাহলে সরকারি একচেটিয়া ব্যবস্থার জায়গায় বেসরকারি অলিগোপলি তৈরি হতে পারে। তারা বলছেন, ধরা যাক কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আমদানি লাইসেন্স, রিফাইনারি, ডিপো, স্টোরেজ এবং পরিবহন অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিল।

তখন তারা বাজারে সরবরাহের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। এর ফলে তাত্ত্বিকভাবে তিনটি সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রথমত, আমদানির প্রকৃত ব্যয় যাচাই কঠিন হতে পারে; দ্বিতীয়ত, বাজারে সরবরাহ কমিয়ে বা নিয়ন্ত্রণ করে দাম বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে; তৃতীয়ত, রাজনৈতিক ও ব্যাবসায়িক প্রভাবশালী গোষ্ঠীর হাতে কৌশলগত জ্বালানির বাজার কেন্দ্রীভূত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

এ বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম তামিম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘কতটি প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দেওয়া হবে এবং কীভাবে নিশ্চিত করা হবে যে কোনো প্রতিষ্ঠান বাজারের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না, এসব ক্ষেত্রে সরকারকে তীক্ষ্ণ নজরদারি করতে হবে। ’ রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগে যত প্রশ্ন অন্যদিকে সরকার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডকে আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে বড় বিনিয়োগ করছে।

বিপিসিও চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটিকে এর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য আন্তর্জাতিক পরামর্শক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। তাই এখানে নীতিগত প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি সরকার একদিকে রাষ্ট্রীয় অর্থে রিফাইনারির সক্ষমতা বাড়ায় এবং অন্যদিকে একই পণ্য আমদানিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ব্যাপকভাবে সুযোগ দেয়, তাহলে দুই নীতির মধ্যে সমন্বয় কীভাবে হবে?

রাষ্ট্রীয় রিফাইনারির উৎপাদন যদি বাজারে জায়গা না পায়, তাহলে তার বিনিয়োগের অর্থনৈতিক সুফল কমে যেতে পারে। আবার বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যদি কম খরচে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পণ্য এনে দিতে পারে, তাহলে তাদের প্রতিযোগিতার সুযোগ দেওয়া অর্থনৈতিকভাবে যৌক্তিকও হতে পারে। অর্থাৎ এখানে মূল বিষয় সরকারি না বেসরকারি এটি নয়, বরং কে কম খরচে, বেশি স্বচ্ছতায় এবং নির্ভরযোগ্যভাবে জ্বালানি সরবরাহ করতে পারে।

আন্তর্জাতিক সংকট দেখিয়ে দিয়েছে দুর্বলতা চলতি বছর মার্চের জ্বালানি সংকট এই বিতর্ককে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জাহাজ চলাচল ও সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে বাংলাদেশে জ্বালানি বিক্রিতে দৈনিক সীমা নির্ধারণ করতে হয়েছিল। বিপিসি জানিয়েছিল, অতিরিক্ত চাহিদা ও মজুতদারির কারণে পরিস্থিতি আরও চাপের মধ্যে পড়েছিল।

তাই খাতটিকে বেসরকারীকরণ করলেও খুব বেশি সুবিধা পাওয়ার সুযোগ নেই উল্লেখ করে অপর জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান লাভ করবে, কিন্তু সংকটের সময় সরকার যদি তাদের কাছ থেকে বাধ্যতামূলক সরবরাহ নিতে না পারে, তাহলে এই মডেল জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না। কতটি প্রতিষ্ঠান সুযোগ পাচ্ছে, কী দামে আমদানি করছে, কত মুনাফা করছে, কীভাবে দাম নির্ধারিত হচ্ছে, কত মজুত রাখছে এবং সংকটের সময় রাষ্ট্রের নির্দেশ কতটা মানছে তার ওপর।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সরকার যেন বিপিসির সরকারি একচেটিয়া বাজার ভেঙে কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া বাজার তৈরি না করে। তাই এ ক্ষেত্রে সরকারকে আরেকটু ভাবতে হবে। ’ বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন নীতিমালা প্রসঙ্গে ক্যাবের জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. শামসুল আলম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা রেগুলেটরি কালচার প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি।

রেগুলেটরকে নিয়ন্ত্রণ করছে প্রশাসন বিভাগ। রেগুলেটর যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারত, তাহলে ভয় ছিল না। কোম্পানিগুলোকে যদি নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তাহলে ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। তবে যদি বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়, তাহলে সরকারের ওপর অবশ্যই চাপ কমবে। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারের নজরদারিও বাড়াতে হবে যেন এ ক্ষেত্রে কোনো সিন্ডিকেট গড়ে না ওঠে।