মন্দিরে মন্দিরে অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার বার্তা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে শুভ জন্মাষ্টমী। উপবাস পালন, পূজা-অর্চনা ও গীতাযজ্ঞসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করছেন ভক্তরা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, অন্ধকারের অবসান ঘটিয়ে আলোর বার্তা ছড়াতে প্রতি বছর অবতার রূপে ভক্তদের মাঝে আবির্ভূত হন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ।
শ্রীকৃষ্ণের জন্মের শুভ তিথিতে সকাল থেকেই শঙ্খের ধ্বনি, প্রদীপ প্রজ্বলন, উলুধ্বনি, আরতির মধ্য দিয়ে, মন্দিরগুলোয় শুরু হয় পূজা-অর্চনা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, শ্রীকৃষ্ণই বিষ্ণুর অবতার। তার আবির্ভাবে ধর্মের প্রতিষ্ঠা আর অধর্মের বিনাশ হবে।
পুরানের বর্ণনায়, ভাদ্রের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথির ঝড়ের রাতে, মথুরার কারাগারে দেবকী ও বাসুদেবের সন্তান রূপে জন্ম হয় শ্রীকৃষ্ণের। অত্যাচারী কংসের শাসনে মথুরা যখন বিপর্যস্ত, তখনই ধর্ম রক্ষার বার্তা নিয়ে আবির্ভাব ঘটে কৃষ্ণের। কংসের হাত থেকে শিশু কৃষ্ণকে রক্ষা করতে বাসুদেব তাঁকে নিয়ে যান গোকুলে। সেখানেই শুরু তাঁর শৈশবের নানা লীলা।
মাখনচুরি, গোপালদের সাথে আনন্দলীলা, গরু চরানো–বালক কৃষ্ণের এসব কাহিনী আজও ভক্তিভরে স্মরণ করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। তাই জন্মাষ্টমীতে অনেকের ঘরে সাজানো হয় গোপালের দোলনা, কোথাও নিবেদন করা হয় দুধ, দই, মাখন-মিষ্টি ও ফল।অনেকে আবার সারাদিন উপবাস রেখে পুজা-অর্চনা করেন মন্দিরে।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কর্তব্যের শিক্ষা দিয়েছেন। দিয়েছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শিক্ষাও। জন্মাষ্টমী শুধু দেবতার জন্মোৎসব নয়, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাসে এটি সত্য, ন্যায় ও মানবতার পথে চলারও আহ্বান।
















