আজ শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২০ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি
৩১°C
সর্বোচ্চ: ৩১°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১০০%

হামের টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের জন্য আবারও বিশেষ ক্যাম্পেইনের ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

  • MIT ERP
  • Update Time : 02:39:17 pm, Friday, 4 September 2026
  • 8

হামের টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের জন্য আবারও বিশেষ ক্যাম্পেইনের ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

হামের টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, এই মাসের শেষের দিকে পূর্ণাঙ্গভাবে আরেকটি টিকাদান ক্যাম্পেইনের কার্যক্রম শুরু করা হবে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসময় বলেন, প্রথমে কিছু শিশু টিকা কার্যক্রম থেকে বাদ পড়েছিল। অনেক মা পরে আর খবর পাননি। কেউ বলেছেন, কাজের কারণে সন্তানকে নিয়ে আসতে পারেননি। আবার কেউ বলেছেন, সন্তান স্কুলে থাকায় টিকা দিতে পারেননি।

এভাবেই কিছু শিশু ড্রপ-আউট হয়েছে। আমরা যখন কার্যক্রমটি শেষ করলাম, তখন বুঝতে পারলাম ১ কোটি ২৫ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য থাকলেও ১ কোটি ৮৯ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। তারপরও পূর্ণ কভারেজ নিশ্চিত হয়নি। এর মধ্যে নতুন শিশুও যুক্ত হয়েছে। ফলে একটি ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এ কারণেই টিকা না পাওয়া কিছু শিশুর মধ্যে এখন হাম দেখা দিচ্ছে।

এই কারণে আমরা মপ-আপ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছি। আমরা থেমে নেই। ২০ মে মূল ক্যাম্পেইন শেষ হওয়ার পর ২১ মে থেকে মপ-আপ কার্যক্রম শুরু করেছি। সিলেটেও লক্ষ্যমাত্রার বাইরে ৩ হাজারের বেশি শিশুকে নতুন করে টিকা দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের শেষদিকে আমরা আবার পূর্ণাঙ্গভাবে আরেকটি টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করতে চাই। সিলেটে কিছু প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বান্দরবানেও টিকা কিছুটা কম পৌঁছেছিল।

আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে টিকা পাঠিয়েছি এবং আল্লাহর রহমতে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পেরেছি। সিলেটের হাওর এলাকাগুলোকে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। আজ আমি সব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নিয়ে দুটি বৈঠকে বসছি। আগামী দুই দিনের মধ্যে আপনাদের প্রতিটি উপজেলায় মূল ক্যাম্পেইনের আগে বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু করা হবে। গ্রামাঞ্চলের অবৈধ চিকিৎসা সম্পর্কে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি জেলায় সিভিল সার্জনদের নেতৃত্বে এসব ক্লিনিকে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে।

জরিমানা করা হচ্ছে এবং অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলো সিলগালা করা হচ্ছে। যেখানে লেবার রুম নেই, সেসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। কিছু জায়গায় অবৈধ ডাক্তার, ভুয়া সনদধারী ব্যক্তি ও টেকনিশিয়ান দিয়ে অপারেশন করানো হচ্ছে। আমরা এসব প্রতিষ্ঠানও সিলগালা করছি। আমি নিজে ঝুঁকি নিয়ে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমাদের একটু সময় দিতে হবে।

অন্তত ছয় মাস সময় দিন। চিকিৎসকদের উপস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, আল্লাহর রহমতে গত এক মাসে আমি ২৫টিরও বেশি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। আমি যেখানে গিয়েছি, প্রায় সব হাসপাতালেই চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি পেয়েছি। শুধু চিকিৎসকদের সঙ্গে নয়, আমি রোগীদের সঙ্গেও কথা বলেছি। তারা বলেছেন, আপনারা দায়িত্ব নেওয়ার পর, বিশেষ করে আপনারা হাসপাতাল পরিদর্শন শুরু করার পর চিকিৎসকদের আচরণ ভালো হয়েছে।

হাসপাতালের খাবারের মানও উন্নত হয়েছে। অনেক হাসপাতালে আর পোকামাকড় বা তেলাপোকার সমস্যা নেই। তবে কোনো হাসপাতালে সমস্যা থাকলে আগামী সাত দিনের মধ্যে তা সমাধান করার চেষ্টা করা হবে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাবারের মান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সব বিষয়েই কাজ শুরু হবে। প্রশাসনও এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবে। কোনো ভুল-ত্রুটি থাকলে ইনশাআল্লাহ তা সংশোধন করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

পরিবেশ শিক্ষায় নতুন দিগন্ত: ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি উদ্যোগ

হামের টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের জন্য আবারও বিশেষ ক্যাম্পেইনের ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

Update Time : 02:39:17 pm, Friday, 4 September 2026

হামের টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, এই মাসের শেষের দিকে পূর্ণাঙ্গভাবে আরেকটি টিকাদান ক্যাম্পেইনের কার্যক্রম শুরু করা হবে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসময় বলেন, প্রথমে কিছু শিশু টিকা কার্যক্রম থেকে বাদ পড়েছিল। অনেক মা পরে আর খবর পাননি। কেউ বলেছেন, কাজের কারণে সন্তানকে নিয়ে আসতে পারেননি। আবার কেউ বলেছেন, সন্তান স্কুলে থাকায় টিকা দিতে পারেননি।

এভাবেই কিছু শিশু ড্রপ-আউট হয়েছে। আমরা যখন কার্যক্রমটি শেষ করলাম, তখন বুঝতে পারলাম ১ কোটি ২৫ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য থাকলেও ১ কোটি ৮৯ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। তারপরও পূর্ণ কভারেজ নিশ্চিত হয়নি। এর মধ্যে নতুন শিশুও যুক্ত হয়েছে। ফলে একটি ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এ কারণেই টিকা না পাওয়া কিছু শিশুর মধ্যে এখন হাম দেখা দিচ্ছে।

এই কারণে আমরা মপ-আপ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছি। আমরা থেমে নেই। ২০ মে মূল ক্যাম্পেইন শেষ হওয়ার পর ২১ মে থেকে মপ-আপ কার্যক্রম শুরু করেছি। সিলেটেও লক্ষ্যমাত্রার বাইরে ৩ হাজারের বেশি শিশুকে নতুন করে টিকা দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের শেষদিকে আমরা আবার পূর্ণাঙ্গভাবে আরেকটি টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করতে চাই। সিলেটে কিছু প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বান্দরবানেও টিকা কিছুটা কম পৌঁছেছিল।

আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে টিকা পাঠিয়েছি এবং আল্লাহর রহমতে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পেরেছি। সিলেটের হাওর এলাকাগুলোকে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। আজ আমি সব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নিয়ে দুটি বৈঠকে বসছি। আগামী দুই দিনের মধ্যে আপনাদের প্রতিটি উপজেলায় মূল ক্যাম্পেইনের আগে বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু করা হবে। গ্রামাঞ্চলের অবৈধ চিকিৎসা সম্পর্কে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি জেলায় সিভিল সার্জনদের নেতৃত্বে এসব ক্লিনিকে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে।

জরিমানা করা হচ্ছে এবং অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলো সিলগালা করা হচ্ছে। যেখানে লেবার রুম নেই, সেসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। কিছু জায়গায় অবৈধ ডাক্তার, ভুয়া সনদধারী ব্যক্তি ও টেকনিশিয়ান দিয়ে অপারেশন করানো হচ্ছে। আমরা এসব প্রতিষ্ঠানও সিলগালা করছি। আমি নিজে ঝুঁকি নিয়ে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমাদের একটু সময় দিতে হবে।

অন্তত ছয় মাস সময় দিন। চিকিৎসকদের উপস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, আল্লাহর রহমতে গত এক মাসে আমি ২৫টিরও বেশি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। আমি যেখানে গিয়েছি, প্রায় সব হাসপাতালেই চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি পেয়েছি। শুধু চিকিৎসকদের সঙ্গে নয়, আমি রোগীদের সঙ্গেও কথা বলেছি। তারা বলেছেন, আপনারা দায়িত্ব নেওয়ার পর, বিশেষ করে আপনারা হাসপাতাল পরিদর্শন শুরু করার পর চিকিৎসকদের আচরণ ভালো হয়েছে।

হাসপাতালের খাবারের মানও উন্নত হয়েছে। অনেক হাসপাতালে আর পোকামাকড় বা তেলাপোকার সমস্যা নেই। তবে কোনো হাসপাতালে সমস্যা থাকলে আগামী সাত দিনের মধ্যে তা সমাধান করার চেষ্টা করা হবে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাবারের মান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সব বিষয়েই কাজ শুরু হবে। প্রশাসনও এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবে। কোনো ভুল-ত্রুটি থাকলে ইনশাআল্লাহ তা সংশোধন করা হবে।