আজ শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২০ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩১°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১০০%

নতুন পে-স্কেল নিয়ে টিআইবির বড় প্রস্তাব: যাদের দেওয়া উচিত নয়

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:51:13 am, Friday, 4 September 2026
  • 6

নতুন পে-স্কেল নিয়ে টিআইবির বড় প্রস্তাব: যাদের দেওয়া উচিত নয়

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়াকে স্বাগত জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তবে সংস্থাটি বলছে, প্রতিবছর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করবেন- শুধু এমন সরকারি চাকরিজীবীদেরই নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় আনা উচিত।

যারা সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করবেন না, তাদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো প্রযোজ্য না করার আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি। গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিবৃতির মাধ্যমে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এ আহ্বান জানান। টিআইবি মনে করে, এই শর্ত বাস্তবায়িত হলে সরকারি খাতে দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত সেবা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সহজ হবে।

ইফতেখারুজ্জামান বলেছিলেন, আর্থিক সক্ষমতার কঠিন সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তিন ধাপে সরকারি কর্মজীবীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত যৌক্তিক। জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে তাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ পেশাগত উৎকর্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা প্রত্যাশা করা অসম্ভব। যদিও জনগণের করের টাকায় বেতন-ভাতা বাড়ানোর কাঙ্ক্ষিত সুফল পেতে হলে সরকারি কর্মজীবী ও তাদের পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের আয় ও সম্পদের হিসাব প্রতিবছর হালনাগাদ প্রকাশ করতে হবে বলে মনে করে টিআইবি।

সৎ কর্মকর্তাদের জন্য বেতন বৃদ্ধি ন্যায়সংগত ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অনেক সরকারি কর্মজীবী অনিয়ম ও দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন। সৎভাবে জীবন যাপন করেন। তাদের জন্য নতুন বেতন স্কেল ন্যায়সংগত ও অপরিহার্য। অন্যদিকে ঢালাওভাবে নতুন বেতন স্কেল প্রয়োগ করা হলে, সরকারি খাতে দুর্নীতির মাত্রা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।

তিনি বলেন, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ অর্থসম্পদ অর্জনে লিপ্ত ব্যক্তিদের জন্য এই সুবিধা অযৌক্তিক ও নিষ্প্রয়োজন। তাদের অর্থসম্পদের আকাঙ্ক্ষা এতটাই গগনচুম্বী যে কার্যকর জবাবদিহির উপায় নিশ্চিত না করে ঢালাওভাবে নতুন বেতন স্কেল প্রয়োগ করা হলে, সরকারি খাতে দুর্নীতির মাত্রা আরও বাড়বে। যার দৃষ্টান্ত আগেই রয়েছে।

অষ্টম পে-স্কেলের অভিজ্ঞতা নতুন বেতন কাঠামো সরকারি কর্মজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কর্মোদ্দীপনা বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ, গতিশীল ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, সরকারের এমন আশাবাদের কথা উল্লেখ করেছে টিআইবি। তবে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ২০১৫ সালে সর্বশেষ বাস্তবায়িত অষ্টম পে-স্কেল নিয়েও অনেকের মধ্যে একই ধরনের আশাবাদ ছিল; কিন্তু বাস্তবে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির বিপরীতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষের ব্যাপকতা ও গভীরতা আরও বেশি হারে বেড়েছে।

এবার অন্তত তার ব্যতিক্রম হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। সরকারি খাতে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিকভাবে পরীক্ষিত পদ্ধতি হিসেবে সম্পদ বিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, তা না হলে সরকারি খাতে দুর্নীতির দুষ্টচক্র থেকে জনগণের পরিত্রাণের উপায় নেই। অথচ দুর্নীতির ভুক্তভোগী জনগণের অর্থেই সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতাসহ সব ব্যয় বহন করা হয়।

মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বেতন-ভাতা বাড়ানোর ফলে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ মূল্যস্ফীতি হওয়ার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে টিআইবি। বিবৃতিতে বলা হয়, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে স্বল্প আয়ের কর্মজীবী নারী-পুরুষসহ সাধারণ জনগণ এরই মধ্যে দিশেহারা। নতুন বেতন কাঠামোর কারণে মূল্যস্ফীতি হলে তাদের দুর্দশা আরও বাড়তে পারে। এ পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণের পাশাপাশি বেতন-ভাতা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সম্পদ বিবরণী প্রকাশের শর্ত কার্যকর করতে সরকারের দূরদর্শিতা প্রত্যাশা করে টিআইবি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

নতুন পে-স্কেল নিয়ে টিআইবির বড় প্রস্তাব: যাদের দেওয়া উচিত নয়

Update Time : 11:51:13 am, Friday, 4 September 2026

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়াকে স্বাগত জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তবে সংস্থাটি বলছে, প্রতিবছর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করবেন- শুধু এমন সরকারি চাকরিজীবীদেরই নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় আনা উচিত।

যারা সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করবেন না, তাদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো প্রযোজ্য না করার আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি। গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিবৃতির মাধ্যমে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এ আহ্বান জানান। টিআইবি মনে করে, এই শর্ত বাস্তবায়িত হলে সরকারি খাতে দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত সেবা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সহজ হবে।

ইফতেখারুজ্জামান বলেছিলেন, আর্থিক সক্ষমতার কঠিন সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তিন ধাপে সরকারি কর্মজীবীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত যৌক্তিক। জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে তাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ পেশাগত উৎকর্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা প্রত্যাশা করা অসম্ভব। যদিও জনগণের করের টাকায় বেতন-ভাতা বাড়ানোর কাঙ্ক্ষিত সুফল পেতে হলে সরকারি কর্মজীবী ও তাদের পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের আয় ও সম্পদের হিসাব প্রতিবছর হালনাগাদ প্রকাশ করতে হবে বলে মনে করে টিআইবি।

সৎ কর্মকর্তাদের জন্য বেতন বৃদ্ধি ন্যায়সংগত ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অনেক সরকারি কর্মজীবী অনিয়ম ও দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন। সৎভাবে জীবন যাপন করেন। তাদের জন্য নতুন বেতন স্কেল ন্যায়সংগত ও অপরিহার্য। অন্যদিকে ঢালাওভাবে নতুন বেতন স্কেল প্রয়োগ করা হলে, সরকারি খাতে দুর্নীতির মাত্রা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।

তিনি বলেন, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ অর্থসম্পদ অর্জনে লিপ্ত ব্যক্তিদের জন্য এই সুবিধা অযৌক্তিক ও নিষ্প্রয়োজন। তাদের অর্থসম্পদের আকাঙ্ক্ষা এতটাই গগনচুম্বী যে কার্যকর জবাবদিহির উপায় নিশ্চিত না করে ঢালাওভাবে নতুন বেতন স্কেল প্রয়োগ করা হলে, সরকারি খাতে দুর্নীতির মাত্রা আরও বাড়বে। যার দৃষ্টান্ত আগেই রয়েছে।

অষ্টম পে-স্কেলের অভিজ্ঞতা নতুন বেতন কাঠামো সরকারি কর্মজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কর্মোদ্দীপনা বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ, গতিশীল ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, সরকারের এমন আশাবাদের কথা উল্লেখ করেছে টিআইবি। তবে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ২০১৫ সালে সর্বশেষ বাস্তবায়িত অষ্টম পে-স্কেল নিয়েও অনেকের মধ্যে একই ধরনের আশাবাদ ছিল; কিন্তু বাস্তবে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির বিপরীতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষের ব্যাপকতা ও গভীরতা আরও বেশি হারে বেড়েছে।

এবার অন্তত তার ব্যতিক্রম হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। সরকারি খাতে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিকভাবে পরীক্ষিত পদ্ধতি হিসেবে সম্পদ বিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, তা না হলে সরকারি খাতে দুর্নীতির দুষ্টচক্র থেকে জনগণের পরিত্রাণের উপায় নেই। অথচ দুর্নীতির ভুক্তভোগী জনগণের অর্থেই সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতাসহ সব ব্যয় বহন করা হয়।

মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বেতন-ভাতা বাড়ানোর ফলে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ মূল্যস্ফীতি হওয়ার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে টিআইবি। বিবৃতিতে বলা হয়, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে স্বল্প আয়ের কর্মজীবী নারী-পুরুষসহ সাধারণ জনগণ এরই মধ্যে দিশেহারা। নতুন বেতন কাঠামোর কারণে মূল্যস্ফীতি হলে তাদের দুর্দশা আরও বাড়তে পারে। এ পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণের পাশাপাশি বেতন-ভাতা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সম্পদ বিবরণী প্রকাশের শর্ত কার্যকর করতে সরকারের দূরদর্শিতা প্রত্যাশা করে টিআইবি।