আজ মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০৯ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৮°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৪%

যশোরে শ্রমিকের কষ্টের ঠিকানা বদলালেও মেলেনি স্বস্তি

  • MIT ERP
  • Update Time : 07:59:40 pm, Thursday, 3 September 2026
  • 28

যশোরে শ্রমিকের কষ্টের ঠিকানা বদলালেও মেলেনি স্বস্তি

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই যশোর শহরের লালদীঘির পাড়ে জড়ো হন শত শত শ্রমজীবী মানুষ। কারও হাতে কোদাল, কারও হাতে ঝুড়ি। কেউ আসেন শহরের আশপাশ থেকে, কেউবা দূরের গ্রাম থেকে। সবার লক্ষ্য একটাই—দিনের শ্রম বিক্রি করে পরিবারের অন্নের সংস্থান করা।

শ্রমিকদের ভাষ্য, স্থান বদল হলেও তাদের কষ্ট আগের মতোই আছে। জানা গেছে, যশোর শহরের পুরোনো শ্রমবাজার ছিল শহরের ব্যস্ততম চৌরাস্তা মোড়ে। যানজট ও জনদুর্ভোগ কমাতে বর্তমানে বাজারটি লালদীঘির পাড়ে স্থানান্তর করা হয়েছে। প্রতিদিন ভোরে লালদীঘির পশ্চিম ও দক্ষিণ পাড়জুড়ে বসে এই অস্থায়ী শ্রমের হাট। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে শ্রমিক এবং শ্রমিক নিতে আসা গৃহস্থ-ঠিকাদারদের আনাগোনা।

মাটি কাটা, রাজমিস্ত্রির জোগালি, ভবনের ঢালাই, পণ্য ওঠানামা কিংবা গৃহস্থালি কাজ—বিভিন্ন ধরনের কায়িক শ্রমের জন্য এখান থেকেই শ্রমিক নেন গৃহস্থ ও ঠিকাদাররা। তবে কাজ পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই। কোনো দিন সকালেই কাজ মেলে। আবার কোনো দিন দীর্ঘ অপেক্ষার পরও খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়। হাটে আসা এক প্রবীণ শ্রমিক বলেন, স্থান বদলেছে, কিন্তু আমাদের কষ্ট বদলায়নি।

প্রতিদিন কাজের আশায় ভোরে এসে অপেক্ষা করতে হয়। কাজ মিললে সংসারে খাবার জোটে, না মিললে হতাশ হয়ে ফিরতে হয়। সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যেই অনেকটা ফাঁকা হয়ে যায় শ্রমের হাট। কাজ পাওয়া শ্রমিকরা ছুটে যান কর্মস্থলে। আর কাজ না পাওয়া শ্রমিকদের কেউ বাড়ি ফেরেন, কেউ আবার শহরের বিভিন্ন এলাকায় কাজের সন্ধানে বেরিয়ে পড়েন। শহরের প্রাণকেন্দ্রে গড়ে ওঠা এই শ্রমবাজার এখন শত শত নিম্ন আয়ের মানুষের জীবিকার অন্যতম ভরসা।

কিন্তু রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়েই কাজের অপেক্ষায় থাকতে হয় তাদের। শ্রমিকদের দুর্ভোগ কমাতে স্থানীয়দের দাবি, হাটে বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা করার পাশাপাশি রোদ-বৃষ্টি থেকে রক্ষায় একটি ছাউনি নির্মাণ করা হোক।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

মরিয়ম কি ডিজিটাল অস্ত্রের শিকার

যশোরে শ্রমিকের কষ্টের ঠিকানা বদলালেও মেলেনি স্বস্তি

Update Time : 07:59:40 pm, Thursday, 3 September 2026

ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই যশোর শহরের লালদীঘির পাড়ে জড়ো হন শত শত শ্রমজীবী মানুষ। কারও হাতে কোদাল, কারও হাতে ঝুড়ি। কেউ আসেন শহরের আশপাশ থেকে, কেউবা দূরের গ্রাম থেকে। সবার লক্ষ্য একটাই—দিনের শ্রম বিক্রি করে পরিবারের অন্নের সংস্থান করা।

শ্রমিকদের ভাষ্য, স্থান বদল হলেও তাদের কষ্ট আগের মতোই আছে। জানা গেছে, যশোর শহরের পুরোনো শ্রমবাজার ছিল শহরের ব্যস্ততম চৌরাস্তা মোড়ে। যানজট ও জনদুর্ভোগ কমাতে বর্তমানে বাজারটি লালদীঘির পাড়ে স্থানান্তর করা হয়েছে। প্রতিদিন ভোরে লালদীঘির পশ্চিম ও দক্ষিণ পাড়জুড়ে বসে এই অস্থায়ী শ্রমের হাট। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে শ্রমিক এবং শ্রমিক নিতে আসা গৃহস্থ-ঠিকাদারদের আনাগোনা।

মাটি কাটা, রাজমিস্ত্রির জোগালি, ভবনের ঢালাই, পণ্য ওঠানামা কিংবা গৃহস্থালি কাজ—বিভিন্ন ধরনের কায়িক শ্রমের জন্য এখান থেকেই শ্রমিক নেন গৃহস্থ ও ঠিকাদাররা। তবে কাজ পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই। কোনো দিন সকালেই কাজ মেলে। আবার কোনো দিন দীর্ঘ অপেক্ষার পরও খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়। হাটে আসা এক প্রবীণ শ্রমিক বলেন, স্থান বদলেছে, কিন্তু আমাদের কষ্ট বদলায়নি।

প্রতিদিন কাজের আশায় ভোরে এসে অপেক্ষা করতে হয়। কাজ মিললে সংসারে খাবার জোটে, না মিললে হতাশ হয়ে ফিরতে হয়। সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যেই অনেকটা ফাঁকা হয়ে যায় শ্রমের হাট। কাজ পাওয়া শ্রমিকরা ছুটে যান কর্মস্থলে। আর কাজ না পাওয়া শ্রমিকদের কেউ বাড়ি ফেরেন, কেউ আবার শহরের বিভিন্ন এলাকায় কাজের সন্ধানে বেরিয়ে পড়েন। শহরের প্রাণকেন্দ্রে গড়ে ওঠা এই শ্রমবাজার এখন শত শত নিম্ন আয়ের মানুষের জীবিকার অন্যতম ভরসা।

কিন্তু রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়েই কাজের অপেক্ষায় থাকতে হয় তাদের। শ্রমিকদের দুর্ভোগ কমাতে স্থানীয়দের দাবি, হাটে বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা করার পাশাপাশি রোদ-বৃষ্টি থেকে রক্ষায় একটি ছাউনি নির্মাণ করা হোক।