আজ বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৯ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩১°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১০০%

দুর্নীতি, অসদাচরণ ও কর্মস্থলে অনুপস্থিতির অভিযোগে ৩ পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত

  • MIT ERP
  • Update Time : 05:43:52 pm, Thursday, 3 September 2026
  • 10

দুর্নীতি, অসদাচরণ ও কর্মস্থলে অনুপস্থিতির অভিযোগে ৩ পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

অসদাচরণ, দুর্নীতি, অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে পুলিশের তিন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অপসারণ ও বরখাস্ত করা হয়েছে।

বুধবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে জারি করা পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে এ কথা জানানো হয়। এতে স্বাক্ষর করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

অপসারণ ও বরখাস্ত হওয়া পুলিশ কর্মকর্তারা হচ্ছে- নেত্রকোনার ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. রাশেদুল ইসলাম এবং পুলিশ স্টাফ কলেজে কর্মরত এএসপি মো. হাবিবুল্লাহ দালাল।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান আরএমপিতে কর্মরত থাকার সময় কামরুজ্জামান নামে এক ব্যক্তিকে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) পদে চাকরি দেওয়ার শর্তে ১৭ লাখ টাকা দাবি করেন। এরপর তিনি ২০১৫ সালের ৬ আগস্ট, ১৮ আগস্ট ও ২২ সেপ্টেম্বর ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের একটি একাউন্টে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে আরও তিন লাখ টাকা গ্রহণ করেন। তার বিরুদ্ধে মোট ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী কামরুজ্জামানের পুলিশের এসআই পদে চাকরি না হওয়ায় অভিযোগ অনুসন্ধান পর্যায়ে বহু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর রোকনুজ্জামান ব্যাংকের মাধ্যমে ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৯২৩ টাকা এবং পরদিন ১১ সেপ্টেম্বর মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দুই দফায় ১২ হাজার ২৪০ টাকা ফেরত দেন। তিনি মোট ৫ লাখ ৫২ হাজার ১৬৩ টাকা ফেরত দেন।

এ ঘটনায় তদন্তের পর তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ ও ‘দুর্নীতিপরায়ণতার’ অভিযোগ প্রমাণিত হয়। ২০২১ সালে তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগের সত্যতা পান। পরে তাকে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু ওই নোটিশের তিনি কোনো জবাব দেননি।

পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) তাকে চাকরি থেকে অপসারণের গুরুদণ্ড দেওয়ার পক্ষে মত দেয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়। তিনি নেত্রকোনার ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

অপরদিকে, পুলিশ স্টাফ কলেজে কর্মরত এএসপি মো. হাবিবুল্লাহ দালাল ২০২৫ সালের ২২ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ছুটি ভোগের পর ২৬ জানুয়ারি কর্মস্থলে যোগ দেননি। সরকারি অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে তিনি অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী স্ত্রীর কাছে চলে যান বলে সরকারি আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

তার অননুমোদিত অনুপস্থিতিকাল ৬০ দিনের বেশি হওয়ায় পুলিশ অধিদপ্তর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করে। পরে বিভাগীয় মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ আনা হয়। তদন্তে দুটি অভিযোগই প্রমাণিত হয়। দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশেরও তিনি কোনো জবাব দেননি।

পরে পিএসসি তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্তের পক্ষে মত দেয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর পলায়নের তারিখ অর্থাৎ ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

এছাড়া বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. রাশেদুল ইসলাম ২০২৫ সালের ৯ মার্চ থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তার স্থায়ী ঠিকানায় একাধিকবার নোটিশ প্রেরণ এবং ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ ও ই-মেইলেও একাধিকবার পত্র প্রেরণ করা হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।

অননুমোদিত অনুপস্থিতি ৬০ দিনের বেশি হওয়ায় ২০২৫ সালের আগস্টে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। মামলায় তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ আনা হয়। তদন্তে অভিযোগ দুটি প্রমাণিত হওয়ার পর তাকে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।

পরে পিএসসি তাকেও চাকরি থেকে বরখাস্তের পক্ষে মত দেয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর পলায়নের তারিখ ২০২৫ সালের ৯ মার্চ থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

নাটোরে হোমিও চিকিৎসককে কুপিয়ে হত্যা করল দুর্বৃত্তরা

দুর্নীতি, অসদাচরণ ও কর্মস্থলে অনুপস্থিতির অভিযোগে ৩ পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত

Update Time : 05:43:52 pm, Thursday, 3 September 2026

অসদাচরণ, দুর্নীতি, অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে পুলিশের তিন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অপসারণ ও বরখাস্ত করা হয়েছে।

বুধবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে জারি করা পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে এ কথা জানানো হয়। এতে স্বাক্ষর করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

অপসারণ ও বরখাস্ত হওয়া পুলিশ কর্মকর্তারা হচ্ছে- নেত্রকোনার ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. রাশেদুল ইসলাম এবং পুলিশ স্টাফ কলেজে কর্মরত এএসপি মো. হাবিবুল্লাহ দালাল।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান আরএমপিতে কর্মরত থাকার সময় কামরুজ্জামান নামে এক ব্যক্তিকে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) পদে চাকরি দেওয়ার শর্তে ১৭ লাখ টাকা দাবি করেন। এরপর তিনি ২০১৫ সালের ৬ আগস্ট, ১৮ আগস্ট ও ২২ সেপ্টেম্বর ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের একটি একাউন্টে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে আরও তিন লাখ টাকা গ্রহণ করেন। তার বিরুদ্ধে মোট ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী কামরুজ্জামানের পুলিশের এসআই পদে চাকরি না হওয়ায় অভিযোগ অনুসন্ধান পর্যায়ে বহু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর রোকনুজ্জামান ব্যাংকের মাধ্যমে ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৯২৩ টাকা এবং পরদিন ১১ সেপ্টেম্বর মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দুই দফায় ১২ হাজার ২৪০ টাকা ফেরত দেন। তিনি মোট ৫ লাখ ৫২ হাজার ১৬৩ টাকা ফেরত দেন।

এ ঘটনায় তদন্তের পর তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ ও ‘দুর্নীতিপরায়ণতার’ অভিযোগ প্রমাণিত হয়। ২০২১ সালে তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগের সত্যতা পান। পরে তাকে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু ওই নোটিশের তিনি কোনো জবাব দেননি।

পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) তাকে চাকরি থেকে অপসারণের গুরুদণ্ড দেওয়ার পক্ষে মত দেয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়। তিনি নেত্রকোনার ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

অপরদিকে, পুলিশ স্টাফ কলেজে কর্মরত এএসপি মো. হাবিবুল্লাহ দালাল ২০২৫ সালের ২২ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ছুটি ভোগের পর ২৬ জানুয়ারি কর্মস্থলে যোগ দেননি। সরকারি অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে তিনি অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী স্ত্রীর কাছে চলে যান বলে সরকারি আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

তার অননুমোদিত অনুপস্থিতিকাল ৬০ দিনের বেশি হওয়ায় পুলিশ অধিদপ্তর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করে। পরে বিভাগীয় মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ আনা হয়। তদন্তে দুটি অভিযোগই প্রমাণিত হয়। দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশেরও তিনি কোনো জবাব দেননি।

পরে পিএসসি তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্তের পক্ষে মত দেয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর পলায়নের তারিখ অর্থাৎ ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

এছাড়া বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. রাশেদুল ইসলাম ২০২৫ সালের ৯ মার্চ থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তার স্থায়ী ঠিকানায় একাধিকবার নোটিশ প্রেরণ এবং ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ ও ই-মেইলেও একাধিকবার পত্র প্রেরণ করা হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।

অননুমোদিত অনুপস্থিতি ৬০ দিনের বেশি হওয়ায় ২০২৫ সালের আগস্টে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। মামলায় তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ আনা হয়। তদন্তে অভিযোগ দুটি প্রমাণিত হওয়ার পর তাকে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।

পরে পিএসসি তাকেও চাকরি থেকে বরখাস্তের পক্ষে মত দেয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর পলায়নের তারিখ ২০২৫ সালের ৯ মার্চ থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।