আজ বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৮ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৬°C
সর্বোচ্চ: ৩০°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১০০%

চার জেলায় নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি ও বসতভিটা

  • MIT ERP
  • Update Time : 09:59:06 pm, Tuesday, 1 September 2026
  • 10

চার জেলায় নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি ও বসতভিটা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

দেশের অন্তত চারটি জেলায় নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি-বসতভিটা। এতে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদী এলাকার বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, ভাঙন ঠেকাতে বহু আশ্বাসের পরও নেয়া হচ্ছে না স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা। এদিকে, প্রকল্প অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ পেলে স্থায়ীভাবে কাজ শুরুর কথা বলছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কমকর্তারা।

পদ্মায় পানি বাড়ায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও ভেড়ামারায় শুরু হয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। এরই মধ্যে কয়েকশ বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। খোকসা শহর রক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়ায় আতঙ্কে বাসিন্দারা।

স্থানীয় এক নারী বলেন, ‘আমরা আতঙ্কে থাকি। কখন নদী এসে সব ভেঙে নেয়। তাহলে আমরা আর এখানে থাকতে পারব না।’

এক বৃদ্ধা বলেন, ‘আমাদের ১০ বিঘা জমি, সব নদীতে চলে গেছে।’

নেত্রকোণার সোমেশ্বরী, কংস, ধনুসহ নদ-নদীর অন্তত ৪৫টি পয়েন্টে ভাঙছে তীর। জেলার ২৫টি স্থানে জরুরি ভিত্তিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেললেও ঠেকানো যাচ্ছে না নদীর আগ্রাসন।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বাজার ভাঙনের মুখে উল্লেখ করে বলেন, ‘এ বছরটা গেলে মনে হয় বাজারের আর কিছু থাকবে না।’

আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘নদীর পাড় ভাতেই আছে, ভাঙতেই আছে। আমরা চলাফেরা করতে পারতেছি না।’

দশানি ও ব্রক্ষপুত্র নদের ভাঙনের দিশেহারা শেরপুর সদরের ৬ ও ৭ নম্বর চরের বাসিন্দারা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, ভাঙন ঠেকাতে মন্ত্রণালয় থেকে এখনো কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় এক বৃদ্ধ বলেন, ‘আমার বাড়ির অল্প আরেকটু বাকি আছে। সবই ভেঙ্গে গেছে।’

শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী বলেন, ‘আশা করি আমাদের প্রস্তাবনাটা যদি অনুমোদন হয় এবং অর্থ বরাদ্দ আসে আমরা সাড়ে ৮শ মিটার অংশে অস্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়ন করব।’

বরগুনার পায়রা, বিষখালী, আন্ধারমানিক ও বলেশ্বর নদীর অন্তত ৩৩টি এলাকায় তীব্র হয়েছে নদী ভাঙন। পটুয়াখালীতে পায়রা নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতঘর ও ফসলি জমি। জেলায় তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে দেশের অন্যতম বৃহৎ বীজ উৎপাদনের খামার।

স্থানীয় এক নারী বলেন, ‘আমাদের বাড়ি নদী থেকে অনেক দূরে ছিল। তারপরেও নদীতে ভেঙে নিয়েছে। এখন পর্যন্ত তিন/চারবার বাড়িঘর ভাঙা হয়েছে।’

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমার দাদা–দাদির কবর সব ভাইঙ্গা নিতাছে। ঘরবাড়ি নদীতে চইলা যাইতেছে।’ স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে প্রকল্প অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দের অপেক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, ‘বাঁধ নির্মাণ এবং স্থায়ী তীর প্রতিরক্ষা কাজ– এটার জন্য আমরা ফিজিবিলিটি স্টাডি (সম্ভাব্যতা যাছাই) সম্পন্ন করেছি। একটা ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হয়েছে।’

শুধু আশ্বাস ও অস্থায়ী সমাধান নয়, নদী ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংকের এমডির চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করল সরকার

চার জেলায় নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি ও বসতভিটা

Update Time : 09:59:06 pm, Tuesday, 1 September 2026

দেশের অন্তত চারটি জেলায় নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি-বসতভিটা। এতে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদী এলাকার বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, ভাঙন ঠেকাতে বহু আশ্বাসের পরও নেয়া হচ্ছে না স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা। এদিকে, প্রকল্প অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ পেলে স্থায়ীভাবে কাজ শুরুর কথা বলছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কমকর্তারা।

পদ্মায় পানি বাড়ায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও ভেড়ামারায় শুরু হয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। এরই মধ্যে কয়েকশ বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। খোকসা শহর রক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়ায় আতঙ্কে বাসিন্দারা।

স্থানীয় এক নারী বলেন, ‘আমরা আতঙ্কে থাকি। কখন নদী এসে সব ভেঙে নেয়। তাহলে আমরা আর এখানে থাকতে পারব না।’

এক বৃদ্ধা বলেন, ‘আমাদের ১০ বিঘা জমি, সব নদীতে চলে গেছে।’

নেত্রকোণার সোমেশ্বরী, কংস, ধনুসহ নদ-নদীর অন্তত ৪৫টি পয়েন্টে ভাঙছে তীর। জেলার ২৫টি স্থানে জরুরি ভিত্তিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেললেও ঠেকানো যাচ্ছে না নদীর আগ্রাসন।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বাজার ভাঙনের মুখে উল্লেখ করে বলেন, ‘এ বছরটা গেলে মনে হয় বাজারের আর কিছু থাকবে না।’

আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘নদীর পাড় ভাতেই আছে, ভাঙতেই আছে। আমরা চলাফেরা করতে পারতেছি না।’

দশানি ও ব্রক্ষপুত্র নদের ভাঙনের দিশেহারা শেরপুর সদরের ৬ ও ৭ নম্বর চরের বাসিন্দারা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, ভাঙন ঠেকাতে মন্ত্রণালয় থেকে এখনো কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় এক বৃদ্ধ বলেন, ‘আমার বাড়ির অল্প আরেকটু বাকি আছে। সবই ভেঙ্গে গেছে।’

শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী বলেন, ‘আশা করি আমাদের প্রস্তাবনাটা যদি অনুমোদন হয় এবং অর্থ বরাদ্দ আসে আমরা সাড়ে ৮শ মিটার অংশে অস্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়ন করব।’

বরগুনার পায়রা, বিষখালী, আন্ধারমানিক ও বলেশ্বর নদীর অন্তত ৩৩টি এলাকায় তীব্র হয়েছে নদী ভাঙন। পটুয়াখালীতে পায়রা নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতঘর ও ফসলি জমি। জেলায় তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে দেশের অন্যতম বৃহৎ বীজ উৎপাদনের খামার।

স্থানীয় এক নারী বলেন, ‘আমাদের বাড়ি নদী থেকে অনেক দূরে ছিল। তারপরেও নদীতে ভেঙে নিয়েছে। এখন পর্যন্ত তিন/চারবার বাড়িঘর ভাঙা হয়েছে।’

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমার দাদা–দাদির কবর সব ভাইঙ্গা নিতাছে। ঘরবাড়ি নদীতে চইলা যাইতেছে।’ স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে প্রকল্প অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দের অপেক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, ‘বাঁধ নির্মাণ এবং স্থায়ী তীর প্রতিরক্ষা কাজ– এটার জন্য আমরা ফিজিবিলিটি স্টাডি (সম্ভাব্যতা যাছাই) সম্পন্ন করেছি। একটা ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হয়েছে।’

শুধু আশ্বাস ও অস্থায়ী সমাধান নয়, নদী ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের।