আজ মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৭ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩০°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৯%

সীমান্তে নজরদারিতে ব্যবহার করা হবে থার্মাল ও নাইট-মিশন ড্রোন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • MIT ERP
  • Update Time : 06:06:59 pm, Tuesday, 1 September 2026
  • 8

সীমান্তে নজরদারিতে ব্যবহার করা হবে থার্মাল ও নাইট-মিশন ড্রোন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সীমান্তের দুর্গম ও জনবল দিয়ে নজরদারি করা কঠিন এলাকাগুলোতে থার্মাল ও নাইট-মিশন ড্রোন ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচার, মানব পাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সিলেট বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তরে ‘সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের ইতিহাসে বিজিবির জন্য এ ধরনের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। মেধা, প্রযুক্তি ও জ্ঞাননির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন বাহিনী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।

তিনি জানান, যেসব সীমান্ত এলাকায় জনবল দিয়ে কার্যকর নজরদারি সম্ভব নয়, সেখানে ডিজিটাল সার্ভেইল্যান্স, নাইট-মিশন ও থার্মাল ড্রোন মোতায়েন করা হবে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে সীমান্তের ওপারে সন্দেহজনক ব্যক্তি শনাক্ত করার পাশাপাশি চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচারের মতো অপরাধ দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল গড়ে তোলার ওপরও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ লক্ষ্যেই বিজিবির সদস্যদের জন্য বিশেষায়িত ড্রোন ও ডিজিটাল সার্ভেইল্যান্স প্রশিক্ষণ চালু করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বিজিবির জন্য নিজস্ব ড্রোন দেশে অ্যাসেম্বল ও উৎপাদনের কাজ চলছে। ভবিষ্যতে এ সক্ষমতা একটি সম্ভাবনাময় প্রতিরক্ষা শিল্পে রূপ নিতে পারে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সীমান্তের বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি), বিজিবি সদর দপ্তর এবং আঞ্চলিক কমান্ড পর্যায় থেকে রিয়েল-টাইমে সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

পাশাপাশি দুর্যোগের সময় দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায় ড্রোন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রশিক্ষণকেন্দ্রে বিশ্বের বিভিন্ন আধুনিক ড্রোনের কয়েকটি মডেল প্রদর্শন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে উন্নত প্রযুক্তির আরও ড্রোন সংগ্রহ করে কেন্দ্রটিকে পূর্ণাঙ্গ আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার চেষ্টা করা হবে।

প্রাথমিকভাবে এ প্রশিক্ষণ কেবল বিজিবি সদস্যদের জন্য পরিচালিত হলেও ভবিষ্যতে প্রয়োজন ও সুযোগ বিবেচনায় বেসামরিক নাগরিকদেরও প্রশিক্ষণের আওতায় আনার সম্ভাবনার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হত্যা মামলা: কারাগারে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ

সীমান্তে নজরদারিতে ব্যবহার করা হবে থার্মাল ও নাইট-মিশন ড্রোন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Update Time : 06:06:59 pm, Tuesday, 1 September 2026

সীমান্তের দুর্গম ও জনবল দিয়ে নজরদারি করা কঠিন এলাকাগুলোতে থার্মাল ও নাইট-মিশন ড্রোন ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচার, মানব পাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সিলেট বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তরে ‘সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের ইতিহাসে বিজিবির জন্য এ ধরনের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। মেধা, প্রযুক্তি ও জ্ঞাননির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন বাহিনী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।

তিনি জানান, যেসব সীমান্ত এলাকায় জনবল দিয়ে কার্যকর নজরদারি সম্ভব নয়, সেখানে ডিজিটাল সার্ভেইল্যান্স, নাইট-মিশন ও থার্মাল ড্রোন মোতায়েন করা হবে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে সীমান্তের ওপারে সন্দেহজনক ব্যক্তি শনাক্ত করার পাশাপাশি চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচারের মতো অপরাধ দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল গড়ে তোলার ওপরও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ লক্ষ্যেই বিজিবির সদস্যদের জন্য বিশেষায়িত ড্রোন ও ডিজিটাল সার্ভেইল্যান্স প্রশিক্ষণ চালু করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বিজিবির জন্য নিজস্ব ড্রোন দেশে অ্যাসেম্বল ও উৎপাদনের কাজ চলছে। ভবিষ্যতে এ সক্ষমতা একটি সম্ভাবনাময় প্রতিরক্ষা শিল্পে রূপ নিতে পারে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সীমান্তের বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি), বিজিবি সদর দপ্তর এবং আঞ্চলিক কমান্ড পর্যায় থেকে রিয়েল-টাইমে সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

পাশাপাশি দুর্যোগের সময় দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায় ড্রোন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রশিক্ষণকেন্দ্রে বিশ্বের বিভিন্ন আধুনিক ড্রোনের কয়েকটি মডেল প্রদর্শন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে উন্নত প্রযুক্তির আরও ড্রোন সংগ্রহ করে কেন্দ্রটিকে পূর্ণাঙ্গ আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার চেষ্টা করা হবে।

প্রাথমিকভাবে এ প্রশিক্ষণ কেবল বিজিবি সদস্যদের জন্য পরিচালিত হলেও ভবিষ্যতে প্রয়োজন ও সুযোগ বিবেচনায় বেসামরিক নাগরিকদেরও প্রশিক্ষণের আওতায় আনার সম্ভাবনার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।