আজ রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
১৫ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৮°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৮°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৮%

মুচলেকা দেওয়ার পরও জমিতে প্রবেশ: মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতা নেছার আহমেদ কারাগারে

  • MIT ERP
  • Update Time : 07:32:05 pm, Sunday, 30 August 2026
  • 7

মুচলেকা দেওয়ার পরও জমিতে প্রবেশ: মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতা নেছার আহমেদ কারাগারে

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় জমি দখল করে মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসা নির্মাণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা নেছার আহমেদকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

আদালতে দেওয়া মুচলেকার শর্ত ভঙ্গ করে পুনরায় জমিতে প্রবেশ ও দখলের চেষ্টা করার অভিযোগে তাঁর জামিন বাতিল করা হয়। রবিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ফতুল্লা আমলি আদালতের বিচারক সাইফুল ইসলাম শুনানি শেষে নেছার আহমেদের জামিন বাতিল করে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাইনবোর্ড এলাকার জমি দখলের অভিযোগে নির্মল চন্দ্র সরকার ভূমি প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ৪(২) ও ৭(৩) ধারায় নেছার আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ৫৭৮/২০২৬। পরে আদালত মামলাটির তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দেন। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয় পিবিআই।

প্রতিবেদনে জমির মালিকানা ও দলিলসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগের তথ্য উঠে আসে। এতে অভিযোগ করা হয়, প্রকৃত জমির মালিক নির্মল চন্দ্র সরকারের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে দাঁড় করানো এবং তাঁর নিঃসন্তান ফুফুর মৃত্যুর পর কাল্পনিকভাবে ফুফুর ছেলে-মেয়ে সৃষ্টি করে তাদের মাধ্যমে দলিল তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের একপর্যায়ে আদালতে মুচলেকা দিয়ে জামিনে মুক্তি পান নেছার আহমেদ।

মুচলেকায় তিনি অঙ্গীকার করেন, বাদীর দাবিকৃত জমিতে আর প্রবেশ করবেন না, ওই জমির ওপর তার কোনো দাবি বা আপত্তি নেই এবং জমিটি তার দখলেও নেই। তবে বাদীপক্ষের অভিযোগ, জামিনে মুক্ত হওয়ার পর নেছার আহমেদ পুনরায় ওই জমিতে প্রবেশ করেন এবং চারপাশে স্টেইনলেস স্টিলের বেড়া নির্মাণ করে জমিটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে আদালতে দেওয়া মুচলেকা ও জামিনের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে দাবি করে তাঁর জামিন বাতিলের আবেদন করা হয়।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রতন চৌধুরী বলেন, মুচলেকায় দেওয়া অঙ্গীকারের পরও নেছার আহমেদ ওই জমিতে প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা করেছেন। এ কারণে তাঁর জামিন বাতিলের আবেদন করা হয়। তিনি জানান, গত ২৭ আগস্ট শুনানি শেষে আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য ও উপস্থাপিত নথিপত্র পর্যালোচনা করে নেছার আহমেদের জামিন বাতিল করেন এবং তাঁকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

তবে জমিটির প্রকৃত মালিকানা, দলিলের বৈধতা এবং দখলসংক্রান্ত অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। এসব বিষয়ে আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

নেপালে তীব্র মানবিক সংকটের মধ্যে নতুন বন্যা আতঙ্ক, সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

মুচলেকা দেওয়ার পরও জমিতে প্রবেশ: মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতা নেছার আহমেদ কারাগারে

Update Time : 07:32:05 pm, Sunday, 30 August 2026

নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় জমি দখল করে মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসা নির্মাণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা নেছার আহমেদকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

আদালতে দেওয়া মুচলেকার শর্ত ভঙ্গ করে পুনরায় জমিতে প্রবেশ ও দখলের চেষ্টা করার অভিযোগে তাঁর জামিন বাতিল করা হয়। রবিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ফতুল্লা আমলি আদালতের বিচারক সাইফুল ইসলাম শুনানি শেষে নেছার আহমেদের জামিন বাতিল করে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাইনবোর্ড এলাকার জমি দখলের অভিযোগে নির্মল চন্দ্র সরকার ভূমি প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ৪(২) ও ৭(৩) ধারায় নেছার আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ৫৭৮/২০২৬। পরে আদালত মামলাটির তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দেন। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয় পিবিআই।

প্রতিবেদনে জমির মালিকানা ও দলিলসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগের তথ্য উঠে আসে। এতে অভিযোগ করা হয়, প্রকৃত জমির মালিক নির্মল চন্দ্র সরকারের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে দাঁড় করানো এবং তাঁর নিঃসন্তান ফুফুর মৃত্যুর পর কাল্পনিকভাবে ফুফুর ছেলে-মেয়ে সৃষ্টি করে তাদের মাধ্যমে দলিল তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের একপর্যায়ে আদালতে মুচলেকা দিয়ে জামিনে মুক্তি পান নেছার আহমেদ।

মুচলেকায় তিনি অঙ্গীকার করেন, বাদীর দাবিকৃত জমিতে আর প্রবেশ করবেন না, ওই জমির ওপর তার কোনো দাবি বা আপত্তি নেই এবং জমিটি তার দখলেও নেই। তবে বাদীপক্ষের অভিযোগ, জামিনে মুক্ত হওয়ার পর নেছার আহমেদ পুনরায় ওই জমিতে প্রবেশ করেন এবং চারপাশে স্টেইনলেস স্টিলের বেড়া নির্মাণ করে জমিটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে আদালতে দেওয়া মুচলেকা ও জামিনের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে দাবি করে তাঁর জামিন বাতিলের আবেদন করা হয়।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রতন চৌধুরী বলেন, মুচলেকায় দেওয়া অঙ্গীকারের পরও নেছার আহমেদ ওই জমিতে প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা করেছেন। এ কারণে তাঁর জামিন বাতিলের আবেদন করা হয়। তিনি জানান, গত ২৭ আগস্ট শুনানি শেষে আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য ও উপস্থাপিত নথিপত্র পর্যালোচনা করে নেছার আহমেদের জামিন বাতিল করেন এবং তাঁকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

তবে জমিটির প্রকৃত মালিকানা, দলিলের বৈধতা এবং দখলসংক্রান্ত অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। এসব বিষয়ে আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।