সৌদি আরবের একটি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে পরিচয় শনাক্ত হওয়া আটজনের মরদেহ নিজ নিজ এলাকায় দাফন করা হয়েছে। এর মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাতজনের জানাজা শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে একসঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে।
অন্যদিকে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার শ্যামল উদ্দিন মাঝির (৪৬) জানাজা শেষে বেলা পৌনে ১১টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সোফা তৈরির একটি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে নিহত নওগাঁর সাতজনের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর আজ শুক্রবার সকালে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সোয়া ১০টার দিকে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে একসঙ্গে সাতজনের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
এতে নিহতদের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা অংশ নেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নয়জনের মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। তাদের মধ্যে সাতজনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। বিমানবন্দর থেকে প্রশাসনের সহায়তায় বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে মরদেহগুলো আত্রাই উপজেলায় পৌঁছায়।
পরে শুক্রবার সকালে মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে সাতজনের জানাজা একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার নামাজে নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু, নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান, আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলমসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।
জানাজা শেষে মরদেহগুলো নিহতদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে স্বজনেরা মরদেহ নিয়ে নিজ নিজ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন এবং পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের দাফন করা হয়। নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু বলেন, নিহতদের পরিবারগুলোকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে।
ভবিষ্যতেও সরকারের পক্ষ থেকে তাঁদের পরিবারগুলোকে সহযোগিতা করা হবে। সৌদি দূতাবাস থেকে পাঠানো তালিকায় পরিচয় শনাক্ত হওয়া নওগাঁর নিহত সাতজন হলেন—আত্রাই উপজেলার উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দীনের ছেলে মো. ফরিদ; গণ্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামাণিক; একই গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন আলী ও সুমন আলী; বজলুর রহমানের ছেলে কলিমুদ্দিন; ডুবাই গ্রামের বাদল তরফদারের ছেলে সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের তমেজ উদ্দিন সরদারের ছেলে আব্দুল জলিল সরদার।

















