গতকাল বৃহস্পতিবার নেপালে ভূমিকম্পের পর আজ শুক্রবার সকালে, চীনের স্থানীয় সময় অনুযায়ী দুপুরে, কেঁপে উঠেছে চীন। এই ঘটনার পর আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নেপালে পুনরায় হড়পা বানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বেশ কয়েকটি এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। চীনা আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টারের (সিইএনসি) তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের সিচুয়ান প্রদেশের লংচাং শহরে ৫ দশমিক ১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। বেইজিং সময় দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ২৯ দশমিক ২৩ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ১০৫ দশমিক ২২ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।
ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১৩ কিলোমিটার। লংচাং সিচুয়ান প্রদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে নেইজিয়াংয়ের প্রশাসনিক এলাকার অন্তর্ভুক্ত একটি শহর। এটি চংকিং পৌরসভার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত এবং চেংদু ও চংকিং—এই দুই প্রধান শহরের প্রায় মাঝামাঝি। শুক্রবার ওই অঞ্চলেই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতেও ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল নেপাল।
ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে নেপালের পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকায় রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৭০ কিলোমিটার গভীরে। এর স্থানাঙ্ক ছিল ২৭ দশমিক ৮৫৬ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৭ দশমিক ৯০৮ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। ভূমিকম্পটি তুলনামূলকভাবে মৃদু এবং গভীর হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে, নেপালে সাম্প্রতিক হড়পা বানের ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যে বৃহস্পতিবারের ভূমিকম্পে নতুন করে আতঙ্ক ছড়ায়। এর পরদিনই ফের কম্পন অনুভূত হলো চীনে। একই সময়ে নেপালের বিভিন্ন এলাকায় হড়পা বানের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।


















