চাঁদপুরে আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে কসাই নুর মোহাম্মদকে (৪২) শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে সুজন সরকারকে (৩৫) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। জরিপানা অনাদায়ে তাকে অতিরিক্ত ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার এ রায় ঘোষণা করেন। হত্যার শিকার নুর মোহাম্মদ চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন ক্লাব রোড এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় কসাই ছিলেন এবং বড় স্টেশন এলাকায় গরু জবাই ও গোশত বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। দ-প্রাপ্ত সুজন সরকার জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাদী দক্ষিণ ইউনিয়নের উত্তর ঘোড়াধারী গ্রামের সরকার বাড়ির সুদর্শন আইচ্চাইল্লা সরকারের ছেলে।
তিনি পেশায় জেলে এবং বড় স্টেশন এলাকায় মাছের ব্যবসা করতেন। মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২ মার্চ রাতে মতলব দক্ষিণের ঘোড়াধারী গ্রামের বিলে অজ্ঞাত মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরদিন ৩ মার্চ ইউপি সদস্য জাকির হোসেন বাদী হয়ে থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ সুজন সরকারকে গ্রেপ্তার করে ২০১৬ সালের ২৯ অক্টোবর আদালতে সোপর্দ করে। মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, বড় স্টেশন এলাকায় ব্যবসা করার সুবাদে নুর মোহাম্মদ ও সুজন সরকারের মধ্যে পরিচয় এবং আর্থিক লেনদেন ছিল। ওই লেনদেনকে কেন্দ্র করে সুজন নুর মোহাম্মদকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তৎকালীন মতলব দক্ষিণ থানার এসআই তপন চন্দ্র দাস তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৫ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কোহিনুর রশিদ জানান, দীর্ঘ ১০ বছরে মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্যপ্রমাণ, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা এবং আসামির অপরাধ স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আদালত তার উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
তবে অভিযোগে থাকা অন্য তিন আসামির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আসামি পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট রাজেস মুখার্জী।











