চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিতে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন জলিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের (জেটিএমএল) ৫৪ দশমিক ৯৯ একর জমি বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি (বিওএফ) সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে জমি হস্তান্তরের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তিতে বিটিএমসির পক্ষে সংস্থাটির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম জাহিদ হাসান এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষে মিলিটারি এস্টেট অফিসার, ইস্টার্ন সার্কেল, চট্টগ্রাম স্বাক্ষর করেন।
পরে বিটিএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম জাহিদ হাসান, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং প্রধান অতিথি খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বক্তব্য দেন।
সেনাবাহিনী প্রধান তার বক্তব্যে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি এ ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিরক্ষা সামগ্রীসহ দেশে উৎপাদিত সব ধরনের পণ্য বহির্বিশ্বে সমাদৃত করতে চায়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ও সেনাবাহিনী প্রধানের নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা শিল্পসহ সশস্ত্র বাহিনী কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, রাষ্ট্রের একমাত্র অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির সম্প্রসারণের মাধ্যমে আধুনিক সমরাস্ত্র ও গোলাবারুদের দেশীয় উৎপাদন বাড়বে।
এর ফলে বৈদেশিক নির্ভরতা কমার পাশাপাশি দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও সুসংহত হবে। এ ছাড়া এ উদ্যোগ সমরাস্ত্র উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জন এবং প্রতিরক্ষা খাতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিওএফের কমান্ড্যান্ট, আর্টডকের ভারপ্রাপ্ত জিওসি ও বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির কমান্ড্যান্ট, ইবিআরসির কমান্ড্যান্ট, ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ও চট্টগ্রাম এরিয়ার এরিয়া কমান্ডার, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, সিডিএ চেয়ারম্যানসহ সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
















