মেয়ের বিয়ের আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়েছে। বিয়ের আগের রাতে বিদ্যুতের তার সরাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন কনের মা রসেনা বেগম (৫০)। এই ঘটনায় পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের ভান্ডারু গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রসেনা বেগম ওই গ্রামের ইলিয়াস প্রামাণিকের স্ত্রী। স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রসেনা বেগমের মেয়ে ইছিরন আক্তারের (১৮) বিয়ে ঠিক হয়েছিল পার্শ্ববর্তী হাড়িবাসা ইউনিয়নের সাহেববাজার এলাকার এক যুবকের সঙ্গে। বিয়েকে ঘিরে বাড়িজুড়ে চলছিল উৎসবের আমেজ। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও অতিথিদের উপস্থিতিতে আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।
বরযাত্রীদের আপ্যায়নের জন্য গরুও জবাই করা হয়েছিল। রাতের দিকে বিয়ের প্রস্তুতির একপর্যায়ে বাড়িতে পড়ে থাকা একটি বৈদ্যুতিক তার সরাতে যান রসেনা বেগম। বাম হাত দিয়ে তারটি স্পর্শ করতেই তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ভাগিনা সাইফুল ইসলাম জানান, বাড়ির সবাই বিয়ের আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এমন সময় বাড়ির কাজ করতে গিয়ে তার ফুফু বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পরিবারের সিদ্ধান্তে আপাতত বিয়ের অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। আগামী রোববার বিয়েটি অনুষ্ঠিত হতে পারে। স্থানীয় ইউপি সদস্য রিয়াজুর ইসলাম বলেন, বিয়ের কারণে বাড়িতে অনেক অতিথি ছিলেন।
গরুর মাংস কাটার কাজও প্রায় শেষের দিকে ছিল। ঠিক তখনই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে রসেনা বেগমের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। পঞ্চগড় সদর থানার এসআই তপন কুমার অধিকারী জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রাথমিক সুরতহাল ও তদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে।


















