আজ বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬
১২ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৫৭%

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে সিলগালা করা ৯ লাখ ঘনফুট বালু নিলাম ছাড়াই লুটের অভিযোগ

  • MIT ERP
  • Update Time : 08:37:42 pm, Thursday, 27 August 2026
  • 15

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে সিলগালা করা ৯ লাখ ঘনফুট বালু নিলাম ছাড়াই লুটের অভিযোগ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক সিলগালা করা প্রায় ৯ লাখ সিফটি বালু নিলাম ছাড়াই ট্রাকে করে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৬ আগস্ট রাত থেকে কালিরকুড়া টি-বাঁধ থেকে ফকিরের হাট পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে সিলগালা করা বালু পরিবহন করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

বিষয়টি জানানোর পরও তা বন্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কালিরকুড়া টি-বাঁধ এলাকায় আগে থাকা দুটি পয়েন্টের সঙ্গে নতুন করে আরো ১১টি বালু পয়েন্ট চালু করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির পরিচয়ে কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এসব পয়েন্ট নিয়ন্ত্রণ করতেন।

বালু পরিবহনের সুবিধার্থে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ কেটে নদীর পিচিং ব্লক তুলে অন্তত সাতটি স্থানে রাস্তা তৈরি করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ মে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুল হাসান বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৩টি পয়েন্টের প্রায় ৯ লাখ সিফটি বালু জব্দ ও সিলগালা করে। একই মাসের ৩০ তারিখে স্থায়ীভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং বাঁধ রক্ষার দাবিতে স্থানীয়রা মানববন্ধন করেন।

এ সময় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বাঁধ কেটে তৈরি করা বালু পরিবহনের রাস্তাগুলো ভেঙে দেন। সিলগালা করা বালু পাহারা ও সংরক্ষণের জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আসলাম হক মেম্বার ও মুকুল নামে দুজনের জিম্মায় দেওয়া হয়। জিম্মাদার মুকুল বলেন, আসলাম হক মেম্বার নিজেই বালু ব্যাবসার অংশীদার। তাকে জিম্মাদার করার সময়ই আমরা আপত্তি জানিয়েছিলাম। আমাদের ধারণা, তার পরামর্শেই বালু ব্যবসায়ীরা সিলগালা করা বালু নিয়ে গেছে।

বিষয়টি আমি ইউএনও মহোদয়কে জানিয়েছি। কিন্তু আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তিনি আমাকে বালুবাহী গাড়ি আটকাতে বলেছেন। অভিযোগ অস্বীকার করে জিম্মাদার মো. আসলাম হক মেম্বার বলেন, বালু নিয়ে যাওয়া সম্পর্কে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমার প্রতিপক্ষরা মিথ্যাচার করছে। বিষয়টি আমি ইউএনও মহোদয়কে জানিয়েছি। তিনি বালু নিয়ে যাওয়াদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে বলেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেড মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, জব্দকৃত বালু চুরির বিষয়টি আমরা জেনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অতিদ্রুত জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

দেশে সারের কোনো সংকট নেই, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরবরাহ নিশ্চিতের নির্দেশ বিএএফএ চেয়ারম্যানের

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে সিলগালা করা ৯ লাখ ঘনফুট বালু নিলাম ছাড়াই লুটের অভিযোগ

Update Time : 08:37:42 pm, Thursday, 27 August 2026

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক সিলগালা করা প্রায় ৯ লাখ সিফটি বালু নিলাম ছাড়াই ট্রাকে করে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৬ আগস্ট রাত থেকে কালিরকুড়া টি-বাঁধ থেকে ফকিরের হাট পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে সিলগালা করা বালু পরিবহন করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

বিষয়টি জানানোর পরও তা বন্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কালিরকুড়া টি-বাঁধ এলাকায় আগে থাকা দুটি পয়েন্টের সঙ্গে নতুন করে আরো ১১টি বালু পয়েন্ট চালু করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির পরিচয়ে কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এসব পয়েন্ট নিয়ন্ত্রণ করতেন।

বালু পরিবহনের সুবিধার্থে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ কেটে নদীর পিচিং ব্লক তুলে অন্তত সাতটি স্থানে রাস্তা তৈরি করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ মে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুল হাসান বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৩টি পয়েন্টের প্রায় ৯ লাখ সিফটি বালু জব্দ ও সিলগালা করে। একই মাসের ৩০ তারিখে স্থায়ীভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং বাঁধ রক্ষার দাবিতে স্থানীয়রা মানববন্ধন করেন।

এ সময় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বাঁধ কেটে তৈরি করা বালু পরিবহনের রাস্তাগুলো ভেঙে দেন। সিলগালা করা বালু পাহারা ও সংরক্ষণের জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আসলাম হক মেম্বার ও মুকুল নামে দুজনের জিম্মায় দেওয়া হয়। জিম্মাদার মুকুল বলেন, আসলাম হক মেম্বার নিজেই বালু ব্যাবসার অংশীদার। তাকে জিম্মাদার করার সময়ই আমরা আপত্তি জানিয়েছিলাম। আমাদের ধারণা, তার পরামর্শেই বালু ব্যবসায়ীরা সিলগালা করা বালু নিয়ে গেছে।

বিষয়টি আমি ইউএনও মহোদয়কে জানিয়েছি। কিন্তু আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তিনি আমাকে বালুবাহী গাড়ি আটকাতে বলেছেন। অভিযোগ অস্বীকার করে জিম্মাদার মো. আসলাম হক মেম্বার বলেন, বালু নিয়ে যাওয়া সম্পর্কে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমার প্রতিপক্ষরা মিথ্যাচার করছে। বিষয়টি আমি ইউএনও মহোদয়কে জানিয়েছি। তিনি বালু নিয়ে যাওয়াদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে বলেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেড মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, জব্দকৃত বালু চুরির বিষয়টি আমরা জেনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অতিদ্রুত জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।