যশোরের চৌগাছায় কাগজপত্র ছাড়াই অন্য উপজেলায় নেওয়ার পথে ৩৭ বস্তা সরকারি সারসহ একটি আলমসাধু আটক করেছেন স্থানীয়রা। পরে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা সারগুলো জব্দ করেন। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আলমসাধুর চালককে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
একই সঙ্গে সারের মালিক খাইরুলের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে চৌগাছা পৌর শহরের চাঁনপুর বটতলা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চৌগাছা থেকে সরকারি সার কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময় আলমসাধু, ভ্যান, পিকআপ ও ট্রাকে করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। অনেক সময় সার কালো পলিথিনে ঢেকে পরিবহন করা হয়।
মঙ্গলবার সকালে চাঁনপুর বটতলা মোড়ে একটি আলমসাধু আটক করেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে সেখানে যান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি.এম.এ মুনীব ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন। পরে আলমসাধু থেকে ৩৭ বস্তা সার জব্দ করা হয়। এদিকে চৌগাছার কয়েকজন সার ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের বিরুদ্ধে সরকারি সার অবৈধভাবে মজুদ ও কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, কোনো কোনো ডিলারের গুদামে বিপুল পরিমাণ সার মজুদ থাকলেও তা রেজিস্টারে যথাযথভাবে দেখানো হয় না। পরে এসব সার চড়া দামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া চৌগাছা পৌর এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি চক্র অবৈধভাবে সার ব্যবসা পরিচালনা করছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের আরও অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযানের আগেই সংশ্লিষ্ট দোকানদারদের কাছে খবর পৌঁছে যায় এবং তারা দোকান বন্ধ করে দেন।
মঙ্গলবারের অভিযান নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের প্রশ্ন, শুধু পরিবহনের সময় অল্প পরিমাণ সার জব্দ করলেই কালোবাজারি বন্ধ হবে কি না। তাঁদের দাবি, সরকারি সার সরবরাহের পুরো চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত করে অবৈধ মজুদ, কালোবাজারি ও অন্যত্র পাচারের সঙ্গে জড়িত মূল ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি.এম.এ মুনীব জানান, সার বহনকারী আলমসাধুর চালককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সারের মালিক খাইরুলের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার জন্য বলা হয়েছে।




















