রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মাছের পুষ্টিগুণ, মৎস্য সম্পদের টেকসই ব্যবহার এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে মৎস্য খাতের অবদান তুলে ধরে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) নানা আয়োজনে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদযাপিত হয়েছে।
জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৬ থেকে ৩০ আগস্ট দেশব্যাপী পালিত হচ্ছে জাতীয় মৎস্য পক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় গাকৃবির মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে র‌্যালি, আলোচনা সভা ও পোনা অবমুক্তকরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মৎস্য পক্ষের কর্মসূচিকে প্রাণবন্ত করে তুলতে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়।
মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ থেকে শুরু হওয়া র‌্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় অনুষদ চত্বরে এসে শেষ হয়। এতে অনুষদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন। র‌্যালিতে শিক্ষার্থীদের হাতে ছিল মৎস্য সম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য বিষয়ক বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন। কেউ ছিলেন মাঝির বেশে, কেউ মৎস্যজীবীর সাজে, আবার কেউ গবেষকের ভূমিকায়।
তাঁদের স্লোগান ও প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। র‌্যালি শেষে মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ চত্বরে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন গাকৃবির উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. সফিউল ইসলাম আফ্রাদ ও প্রক্টর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলম।
মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. ফারহানা হক সভায় সভাপতিত্ব করেন। র‌্যালি ও পোনা অবমুক্তকরণ কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মো. নুরুন্নবী মন্ডল অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। আলোচনা পর্বে ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. সফিউল ইসলাম আফ্রাদ এবং অনুষদের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক প্রফেসর ড. মো. আমজাদ হোসেন বক্তব্য দেন। তাঁরা মাছের পুষ্টিগুণ, নিরাপদ মৎস্য উৎপাদন, মৎস্য সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় মৎস্য খাতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দেশের পুষ্টি চাহিদা পূরণে মৎস্য বিজ্ঞানীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। মৎস্য খাত বাংলাদেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না; নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই মৎস্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আইওটি ও ন্যানো প্রযুক্তিভিত্তিক গবেষণা ও উদ্ভাবনে মনোনিবেশের আহ্বান জানান। পাশাপাশি দেশের মৎস্য খাতের উন্নয়নে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ জ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষদীয় ডিন প্রফেসর ড. ফারহানা হকের সমাপনী বক্তব্যের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের জলাশয়ে উপাচার্যের নেতৃত্বে রুই, কালিবাউশ, মৃগেল, সরপুটিসহ বিভিন্ন প্রজাতির পোনা অবমুক্ত করা হয়।
জাতীয় মৎস্য পক্ষের অংশ হিসেবে এর আগে ১৭ আগস্ট গাজীপুর জেলা মৎস্য অধিদপ্তর ও গাকৃবির মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের যৌথ উদ্যোগে ‘মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই উৎপাদন’ বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে গাজীপুর জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের মৎস্য কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় মৎস্যচাষি, উদ্যোক্তা এবং মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
সভায় মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়।



















