সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে বাসের হেলপার রিপন আহমদ হত্যা মামলায় পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে অব্যাহতির সুপারিশ করা চার পরিবহন শ্রমিক নেতাকে মামলা থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন নাকচ করেছেন আদালত।
একই সঙ্গে পুলিশের দাখিল করা অন্তর্বর্তীকালীন তদন্ত প্রতিবেদনও গ্রহণ করেননি আদালত। অব্যাহতির সুপারিশ পাওয়া চার আসামি হলেন—সিলেট জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজন, আব্দুস সহিদ ও সামছুল হক মানিক। বাদীপক্ষের লিখিত আপত্তির শুনানি শেষে গত ১৮ আগস্ট সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-২ আমলি আদালতের বিচারক সাইফুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
সোমবার আদেশের অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সজিব আহমদ। আদালত সূত্রে জানা যায়, রিপন আহমদ হত্যার ঘটনায় গত ৬ মে দক্ষিণ সুরমা থানায় মামলা করেন তার বাবা ছাবলু মিয়া। মামলায় ময়নুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান দক্ষিণ সুরমা থানার এসআই মো. মফিজুর রহমান।
তিনি গত ১০ জুন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩(এ) ধারায় আদালতে অন্তর্বর্তীকালীন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে ময়নুল ইসলাম, আলী আকবর রাজন, আব্দুস সহিদ ও সামছুল হকের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। তবে পুলিশের ওই সুপারিশের বিরুদ্ধে আপত্তি জানান মামলার বাদী ছাবলু মিয়া।
আদালতে দেওয়া লিখিত আপত্তিতে তিনি তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ না করার আবেদন করেন। শুনানি ও নথি পর্যালোচনা শেষে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, মামলার এজাহারে চার আসামির বিরুদ্ধেই সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সময়কার স্থিরচিত্র ও ভিডিও ফুটেজ তদন্ত কর্মকর্তা যথাযথভাবে পর্যালোচনা করেছেন কি না, তা তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়। সাক্ষীদের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়েও প্রতিবেদনে পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা নেই।
আদালত মনে করেন, চারজনই এজাহারভুক্ত আসামি এবং তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। তাই তাঁরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও পর্যাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা প্রয়োজন। এ কারণে বাদীপক্ষের আপত্তি গ্রহণ করে চার আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করেন বিচারক। একই সঙ্গে পুলিশের অন্তর্বর্তীকালীন তদন্ত প্রতিবেদনও গ্রহণ করা হয়নি।
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ এপ্রিল সিলেট-জগন্নাথপুর রুটের বাস মালিক সমিতির আহ্বায়ক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। ওইদিন দুপুরে দক্ষিণ সুরমার কদমতলী এলাকার সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে একদল শ্রমিক হামলা চালিয়ে বাস ও টিকিট কাউন্টারে ভাঙচুর করে। এ সময় কয়েকজন শ্রমিক আহত হন। আহতদের মধ্যে বাসের হেলপার রিপন আহমদ ও চালক দেলওয়ার হোসেনও ছিলেন।
পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনেরই মৃত্যু হয়। পৃথক ঘটনায় তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে ৬ মে দক্ষিণ সুরমা থানায় দুটি হত্যা মামলা করা হয়। রিপন হত্যা মামলায় ময়নুল ইসলামসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। ঘটনার পর কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তারও করে পুলিশ। তবে ময়নুল ইসলাম ও আলী আকবর রাজনকে ঘিরে পরবর্তী সময়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এদিকে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে মামলার বাদী ছাবলু মিয়া প্রকাশ্যে আপত্তি জানিয়েছেন।
তার অভিযোগ, মামলা করার পর তদন্ত কর্মকর্তা কিংবা থানার ওসি তাকে প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়ে অবহিত করেননি। অন্যদিকে বাসচালক দেলওয়ার হোসেন হত্যা মামলাতেও পরবর্তী সময়ে ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়। ওই মামলার বাদী ও নিহতের বাবা আজির উদ্দিন আদালতে হলফনামা দিয়ে মামলায় ভুল ব্যক্তিদের আসামি করার কথা জানান। পরে নিহত দেলওয়ারের স্ত্রী রাজিয়া আক্তার আদালতে পৃথক একটি দরখাস্ত দাখিল করেন।




















