আজ বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
৫ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৮৫%

কাপাসিয়ায় অষ্টম শ্রেণির ছাত্র নিখোঁজ, রক্তমাখা জামা-জুতা উদ্ধার

  • MIT ERP
  • Update Time : 04:45:01 pm, Wednesday, 19 August 2026
  • 18

কাপাসিয়ায় অষ্টম শ্রেণির ছাত্র নিখোঁজ, রক্তমাখা জামা-জুতা উদ্ধার

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

কাপাসিয়ায় বীর উজলী মডেল একাডেমির অষ্টম শ্রেণির ছাত্র তাফসিরুল ইসলাম অনন্ত নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। নিখোঁজের পর বীর উজলী বাজারের মফিজ উদ্দিনের ভবনের তৃতীয় তলা থেকে তার রক্তমাখা জামা, জুতা ও বিদ্যালয়ের আইডি কার্ড উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বীর উজলী মডেল একাডেমির আয়োজনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বীর উজলী উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় এলাকাবাসী অংশ নেন। মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা চলাকালে ঢাকা-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের বীর উজলী বাজারে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

এতে সহস্রাধিক বাস, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও অটোরিকশা আটকা পড়ে। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন টোক ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক রুকন, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান সবুর, লোহাদী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মতিউর রহমান, বীর উজলী মডেল একাডেমির প্রধান শিক্ষক বাবু সুনিল চন্দ্র দাস এবং পরিচালক আশরাফুল ইসলাম আসাদ।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ডুমদিয়া গ্রামের সোহাগ রানার ছেলে তাফসিরুল ইসলাম অনন্ত বীর উজলী মডেল একাডেমির অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার রোল নম্বর ৩। গত মঙ্গলবার টিফিনের সময় খাবার খেতে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হওয়ার পর সে আর শ্রেণিকক্ষে ফিরে আসেনি। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মনির হোসেন বলেন, টিফিনের সময় অনন্ত শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয়।

এরপর সে আর ফিরে না আসায় শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আশরাফুল ইসলাম আসাদ বলেন, অনন্ত অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী। টিফিনের সময় বিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার পর সে আর ফিরে আসেনি। খবর পেয়ে আমরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করি। পরে তার রক্তমাখা জামা পাওয়ার বিষয়টি জানতে পারি।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে বীর উজলী বাজারের মফিজ উদ্দিনের ভবনের তৃতীয় তলা থেকে রক্তমাখা জামা, জুতা ও বিদ্যালয়ের আইডি কার্ড উদ্ধার করেন টোক নয়ন বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম। অনন্তের বাবা সোহাগ রানা বলেন, আমার ছেলে বিদ্যালয় থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর তার জামা, জুতা ও আইডি কার্ড পাওয়া গেছে।

কিন্তু এখনো তার কোনো সন্ধান পাইনি। ছেলেকে খুঁজে পেতে আমি কাপাসিয়া থানায় অভিযোগ দিতে এসেছি। এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, অনন্ত নামে এক শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার পর তার রক্তমাখা জামা উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এদিকে রক্তমাখা জামা, জুতা ও আইডি কার্ড উদ্ধারের ঘটনায় অনন্তের পরিবার, সহপাঠী, শিক্ষক ও স্থানীয়দের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে তার সন্ধানে খোঁজাখুঁজি চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে জামা ও জুতায় রক্তের দাগ কীভাবে এসেছে, ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে এবং অনন্ত বর্তমানে কোথায় রয়েছে—এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ উদ্ধার করা আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। তদন্ত শেষে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বিষয়ে প্রকৃত ঘটনা আরও পরিষ্কার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

এনবিআরের কর অঞ্চলে বড় রদবদল, গোয়েন্দা ইউনিটের প্রধান হলেন নারী

কাপাসিয়ায় অষ্টম শ্রেণির ছাত্র নিখোঁজ, রক্তমাখা জামা-জুতা উদ্ধার

Update Time : 04:45:01 pm, Wednesday, 19 August 2026

কাপাসিয়ায় বীর উজলী মডেল একাডেমির অষ্টম শ্রেণির ছাত্র তাফসিরুল ইসলাম অনন্ত নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। নিখোঁজের পর বীর উজলী বাজারের মফিজ উদ্দিনের ভবনের তৃতীয় তলা থেকে তার রক্তমাখা জামা, জুতা ও বিদ্যালয়ের আইডি কার্ড উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বীর উজলী মডেল একাডেমির আয়োজনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বীর উজলী উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় এলাকাবাসী অংশ নেন। মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা চলাকালে ঢাকা-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের বীর উজলী বাজারে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

এতে সহস্রাধিক বাস, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও অটোরিকশা আটকা পড়ে। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন টোক ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক রুকন, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান সবুর, লোহাদী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মতিউর রহমান, বীর উজলী মডেল একাডেমির প্রধান শিক্ষক বাবু সুনিল চন্দ্র দাস এবং পরিচালক আশরাফুল ইসলাম আসাদ।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ডুমদিয়া গ্রামের সোহাগ রানার ছেলে তাফসিরুল ইসলাম অনন্ত বীর উজলী মডেল একাডেমির অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার রোল নম্বর ৩। গত মঙ্গলবার টিফিনের সময় খাবার খেতে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হওয়ার পর সে আর শ্রেণিকক্ষে ফিরে আসেনি। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মনির হোসেন বলেন, টিফিনের সময় অনন্ত শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয়।

এরপর সে আর ফিরে না আসায় শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আশরাফুল ইসলাম আসাদ বলেন, অনন্ত অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী। টিফিনের সময় বিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার পর সে আর ফিরে আসেনি। খবর পেয়ে আমরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করি। পরে তার রক্তমাখা জামা পাওয়ার বিষয়টি জানতে পারি।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে বীর উজলী বাজারের মফিজ উদ্দিনের ভবনের তৃতীয় তলা থেকে রক্তমাখা জামা, জুতা ও বিদ্যালয়ের আইডি কার্ড উদ্ধার করেন টোক নয়ন বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম। অনন্তের বাবা সোহাগ রানা বলেন, আমার ছেলে বিদ্যালয় থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর তার জামা, জুতা ও আইডি কার্ড পাওয়া গেছে।

কিন্তু এখনো তার কোনো সন্ধান পাইনি। ছেলেকে খুঁজে পেতে আমি কাপাসিয়া থানায় অভিযোগ দিতে এসেছি। এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, অনন্ত নামে এক শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার পর তার রক্তমাখা জামা উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এদিকে রক্তমাখা জামা, জুতা ও আইডি কার্ড উদ্ধারের ঘটনায় অনন্তের পরিবার, সহপাঠী, শিক্ষক ও স্থানীয়দের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে তার সন্ধানে খোঁজাখুঁজি চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে জামা ও জুতায় রক্তের দাগ কীভাবে এসেছে, ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে এবং অনন্ত বর্তমানে কোথায় রয়েছে—এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ উদ্ধার করা আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। তদন্ত শেষে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বিষয়ে প্রকৃত ঘটনা আরও পরিষ্কার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।