মাদারীপুরের শিবচরে আড়িয়াল খাঁ নদে আবারও তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলার বহেরাতলা-কলাতলা পয়েন্টে সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল থেকে হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়। এতে বহেরাতলা-কلاতলা বেড়িবাঁধের একটি অংশ এবং বহেরাতলা বাজার থেকে কলাতলা যাওয়ার একমাত্র সড়কের কিছু অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
ভাঙন অব্যাহত থাকায় আতঙ্কে রয়েছেন ওই এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকাল থেকে নদের পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। মুহূর্তের মধ্যে বেড়িবাঁধের মাটি ধসে নদীতে চলে যায়। একই সঙ্গে সড়কের কিছু অংশও ভেঙে পড়ে। দ্রুত ভাঙন রোধ করা না গেলে বহেরাতলা বাজারের সঙ্গে কলাতলা ও আশপাশের এলাকার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা কালাম মাদবর বলেন, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে শত শত মানুষ চলাচল করেন। কলাতলা ও আশপাশের গ্রামের মানুষের হাটবাজার, স্কুল-কলেজে যাতায়াত এবং চিকিৎসাসেবার জন্য সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সড়কের অংশবিশেষ ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষার্থী, রোগী ও ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এদিকে নদীর তীর থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে রয়েছে বহেরাতলা দক্ষিণ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ভোটকেন্দ্র।
ভাঙন অব্যাহত থাকলে ভোটকেন্দ্রটিও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রায় ১০ বছর ধরে তারা নদীভাঙনের শিকার। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আওতায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের পর কয়েক বছর স্বস্তিতে থাকলেও চলতি বছর আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন ও অপরিকল্পিতভাবে নদী খননের কারণে নদের গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে ভাঙন তীব্র হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি মহল রাতের আঁধারে ড্রেজার বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বালু উত্তোলন করে আসছে। বহেরাতলা এলাকার বাসিন্দা নওয়াব মাদবর বলেন, ‘প্রায় ১০ বছর ধরে আমরা নদীভাঙনের শিকার। বেড়িবাঁধ হওয়ার পর ভেবেছিলাম এবার রক্ষা পেলাম। কিন্তু রাতে ড্রেজার দিয়ে বালু কাটার কারণে আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমাদের ঘরবাড়িও নদীতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
’ ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া, ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ ও সড়ক মেরামত এবং অবৈধ ড্রেজার বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী। এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম ইবনে মিজান বলেন, ‘আড়িয়াল খাঁ নদে ভাঙনের সংবাদ পেয়েছি। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে নদীভাঙন ঠেকাতে ও বেড়িবাঁধ রক্ষায় কাজ শুরু করা হবে।
এছাড়া অবৈধ ড্রেজার চললে তা বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


















