নেত্রকোনার কলমাকান্দায় বিদ্যালয়ের বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার, শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ খেলার মাঠ নিশ্চিত ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ ছয় দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছেন দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
পরে তার সড়কে অবস্থান নিয়ে দাবির পক্ষে প্রতিবাদ জানান। এতে ওই সড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল ১১টায় কলমাকান্দা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলমাকান্দা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ ছাড়া কলমাকান্দা ব্রিজের ওপর নদীর পাড় দখলমুক্ত করার দাবিতেও মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা।
এতে দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন নাগরিক সহস্রাধিক অংশ নেন। প্রথমে দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন। এ সময় তাদের হাতে ব্যানার ও বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। পরে দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে শিক্ষার্থীরা সড়কের ওপর বসে পড়েন। তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—বিদ্যালয়ের বেদখলকৃত জমি দ্রুত উদ্ধার, শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ খেলার মাঠ নিশ্চিত করা, বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমির ব্যবস্থা করা, বিদ্যালয়ের সম্পত্তি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও প্রাকৃতিক জলাধার রক্ষা করা। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শুধু বিদ্যালয়ের ভবন থাকলেই শিক্ষার পরিবেশ পূর্ণাঙ্গ হয় না।
শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলার সুযোগ ও নিরাপদ মাঠ প্রয়োজন। কিন্তু পর্যাপ্ত খেলার মাঠ না থাকায় শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা বলেন, বিদ্যালয়ের জমি দখলমুক্ত করে খেলার মাঠের ব্যবস্থা করা তাদের দীর্ঘদিনের দাবি। বারবার দাবি জানানো হলেও কার্যকর সমাধান না হওয়ায় তারা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করতে বাধ্য হয়েছেন।
দ্রুত তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা। অভিভাবকেরা বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধার, খেলার মাঠের ব্যবস্থা এবং সম্পত্তি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। কর্মসূচি থেকে বক্তারা শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।




















