ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার জন্য ডিজিটাল লয়্যালটি প্ল্যাটফর্ম মীড (Meed) বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির স্থানীয় অংশীদার হিসেবে কাজ করবে ডিজিবক্স। এর মাধ্যমে ক্যাফে, রেস্টুরেন্ট, সেলুন, জিম ও রিটেইল শপসহ ছোট ব্যবসাগুলো সহজেই নিজেদের গ্রাহকদের জন্য ডিজিটাল লয়্যালটি প্রোগ্রাম চালু করতে পারবে।
মীডের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, গ্রাহকদের জন্য আলাদা কোনো মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোডের প্রয়োজন নেই। লয়্যালটি প্রোগ্রামটি সরাসরি Apple Wallet ও Google Wallet-এর মাধ্যমে ব্যবহার করা যায়। ডিজিটাল স্ট্যাম্প কার্ডের পাশাপাশি QR ও NFC-এর মাধ্যমে গ্রাহক নিবন্ধন এবং AI-ভিত্তিক রসিদ স্ক্যানিংয়ের সুবিধাও রয়েছে। বর্তমানে হংকং, ব্যাংককসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন বাজারে স্বাধীন ক্যাফে, সেলুন, জিম ও রিটেইল ব্যবসার সঙ্গে কাজ করছে মীড।
প্রতিষ্ঠানটির ইকোসিস্টেম পার্টনারদের মধ্যে Google, AWS, NVIDIA Inception Program এবং Hong Kong Science and Technology Park-এর মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে মীডের জন্য বাংলাদেশ শুধু নতুন একটি বাজার নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদে এখানে একটি শক্তিশালী লয়্যালটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। কেন বাংলাদেশ? মীডের বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের ১৭৮ মিলিয়ন মানুষের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহারের হার অত্যন্ত বেশি।
দেশটির ৯৮ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবারের অন্তত একটি মোবাইল ফোন রয়েছে। একই সঙ্গে সক্রিয় মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ১৯১ মিলিয়নের বেশি। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরেরও কম সময়ে দেশে স্মার্টফোনের মালিকানা ৬৩ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭২ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছেছে। এই ডিজিটাল গ্রহণযোগ্যতা বাংলাদেশে ডিজিটাল লয়্যালটি সেবার জন্য বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে বলে মনে করছে মীড।
মীডের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা Phil Ingram বলেন, বাংলাদেশের বিশাল জনগোষ্ঠী এবং প্রায় সর্বজনীন মোবাইল ফোন ব্যবহার এমন একটি বাজার তৈরি করেছে, যেখানে ডিজিটাল লয়্যালটি প্রোগ্রামের জন্য প্রয়োজনীয় গ্রাহক আচরণ ইতোমধ্যেই বিদ্যমান। তার মতে, অন্যান্য বাজারে মীডের সমাধান কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। এবার বাংলাদেশে একটি নির্দিষ্ট বাজারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি নেটওয়ার্ক ইফেক্ট তৈরির সুযোগ রয়েছে।
এক্সেলারেটিং এশিয়া থেকেই শুরু মীড ও ডিজিবক্সের প্রতিষ্ঠাতাদের পরিচয় হয় এক্সেলারেটিং এশিয়ার কোহর্ট ১৩-এ। একই কোহর্টে কাজ করার সময় দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাংলাদেশের বাজারে যৌথভাবে কাজ করার সম্ভাবনা তৈরি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, মীড মূল প্রযুক্তি ও প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ করবে। অন্যদিকে ডিজিবক্স বাংলাদেশে প্ল্যাটফর্মটির লোকালাইজেশন, ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছানো এবং স্থানীয় কার্যক্রম পরিচালনায় নেতৃত্ব দেবে।
ডিজিবক্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা রেজওয়ানুল হক জামি বলেন, মীড ইতোমধ্যে অন্যান্য বাজারে ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য কার্যকর একটি পণ্য হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছে। তাই ডিজিবক্স শুধু বাংলাদেশে এর কার্যক্রম পরিচালনা নয়, মূল কোম্পানিতেও বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশের বাজার অনুযায়ী পণ্যটির লোকালাইজেশন এবং হাজারো ক্ষুদ্র ব্যবসার কাছে এটি পৌঁছে দেওয়াই হবে ডিজিবক্সের অন্যতম প্রধান ভূমিকা বলে জানান তিনি।
ছোট ব্যবসার জন্য সহজ ডিজিটাল লয়্যালটি মীডের ফ্রি প্ল্যানে সর্বোচ্চ ৫০ জন সদস্যকে যুক্ত করা যায়। এতে কাছাকাছি অবস্থানে থাকা গ্রাহকদের নোটিফিকেশন দেওয়ার মতো সুবিধাও রয়েছে। Pro সংস্করণে কাস্টম নোটিফিকেশনসহ সদস্য, লোকেশন ও ক্যাম্পেইনের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণের সুবিধা রয়েছে। এ ছাড়া একাধিক শাখা ও ফ্র্যাঞ্চাইজি পরিচালনাকারী ব্যবসার পাশাপাশি ফুড ফেস্টিভ্যাল বা পপ-আপ ইভেন্টেও প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করা যায়।
মীড ও ডিজিবক্স ইতোমধ্যে বাংলাদেশে প্রথম দিকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার কাজ শুরু করেছে। তবে স্থানীয় মূল্য কাঠামো এবং শুরুতে কোন ধরনের ব্যবসাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ডিজিবক্সের বিদ্যমান প্রযুক্তি ও স্থানীয় নেটওয়ার্কের সঙ্গে মীডের ডিজিটাল লয়্যালটি প্রযুক্তি যুক্ত হবে।
ফলে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোর জন্য গ্রাহক ধরে রাখা, পুনরায় কেনাকাটায় উৎসাহ দেওয়া এবং ডিজিটাল মাধ্যমে সরাসরি গ্রাহকের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

















