আজ রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
১ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩১°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১০০%

চার বছর পর অবসর সুবিধার অর্থ পেলেন ৭০ হাজারের বেশি বেসরকারি শিক্ষক

  • MIT ERP
  • Update Time : 03:58:16 pm, Saturday, 15 August 2026
  • 6

চার বছর পর অবসর সুবিধার অর্থ পেলেন ৭০ হাজারের বেশি বেসরকারি শিক্ষক

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

দীর্ঘ চার বছর অপেক্ষার পর অবসর সুবিধার জমানো টাকার একটি অংশ পেয়েছেন বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাদের প্রাপ্য অর্থ ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ২০২২ সালের পর দীর্ঘ চার বছর ধরে আটকে থাকা অর্থের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকার জীবনে কিছুটা হলেও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরকালীন সুবিধার জন্য দুটি তহবিল রয়েছে।

এর একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট এবং অন্যটি অবসর সুবিধা বোর্ড। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রতি মাসে এসব তহবিলে অর্থ জমা দেন। এর পাশাপাশি সরকারও নির্দিষ্ট হারে অর্থ জমা করে। দীর্ঘ চাকরিজীবন শেষে অবসরে যাওয়ার সময় শিক্ষক-শিক্ষিকারা যাতে একটি ভালো অঙ্কের অর্থ পান, সেটিই ছিল এ ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য।

অবসর সুবিধার অর্থ পেতে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেদের প্রাপ্য টাকা তুলতে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অফিসে অফিসে ঘুরতে হয়েছে। এমনকি ঘুষ দেওয়ার অলিখিত নিয়মও চালু হয়ে গিয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, এবার কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই অনলাইনে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রাপ্য অর্থ তাদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে পাঠানো সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, শিক্ষক সমাজ নীতি, নৈতিকতা ও আদর্শের শিক্ষা দিয়ে লাখো শিক্ষার্থীকে গড়ে তোলেন। সেই শিক্ষকদের নিজেদের টাকা তুলতে যদি ঘুষ দিতে হয় বা অফিসে অফিসে ঘুরতে হয়, তাহলে তা শুধু শিক্ষকদের হয়রানি নয়, জাতি হিসেবে আমাদের দীনতা-হীনতার প্রকাশ। প্রধানমন্ত্রী জানান, অবসর সুবিধার টাকা পরিশোধের পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ ছিল না। তার দাবি, আগের সরকারের সময় ব্যাংক-বীমাসহ বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ও লুটপাটের কারণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য গঠিত দুটি তহবিলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তার ভাষ্য, জাল ইনডেক্স তৈরি, তহবিলের অর্থ দুর্বল ব্যাংকে সরিয়ে নেওয়া এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ধ্বংসের মাধ্যমে তহবিল দুটিকে প্রায় দেউলিয়া করে ফেলা হয়েছিল। ফলে ২০২২ সাল থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা এসব তহবিল থেকে অর্থ পাচ্ছিলেন না। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অবসরকালীন সুবিধার অর্থ পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তবে তহবিল দুটিতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় বিশেষ ব্যবস্থায় ৭০ হাজারের বেশি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকার পাওনা পরিশোধ করতে হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার যতদিন দায়িত্বে থাকবে, ততদিন অবসরকালীন সুবিধার টাকা পেতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না। ভবিষ্যতে যথাসময়ে অনলাইনে তাদের প্রাপ্য অর্থ ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

অনুষ্ঠানে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কল্যাণে তার উদ্যোগেই ১৯৯১ সালে ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ এবং ২০০২ সালে ‘অবসর সুবিধা বোর্ড’ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া শিক্ষা, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের বিষয়ে বরাবরই ইতিবাচক ছিলেন।

শিক্ষা বিস্তার ও নারীদের শিক্ষায় তার বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। পরে খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনা করেন। অনুষ্ঠানে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সামাজিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষকতা থেকে অবসর নিলেও একজন শিক্ষকের সামাজিক দায়িত্ব শেষ হয় না। তাদের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে অসংখ্য শিক্ষার্থী বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে।

জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা সমাজে আলোকবর্তিকা হিসেবে ভূমিকা রাখবেন—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শাহাদাৎ স্বাধীন এসব তথ্য জানান।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে বাংলাদেশ দলকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

চার বছর পর অবসর সুবিধার অর্থ পেলেন ৭০ হাজারের বেশি বেসরকারি শিক্ষক

Update Time : 03:58:16 pm, Saturday, 15 August 2026

দীর্ঘ চার বছর অপেক্ষার পর অবসর সুবিধার জমানো টাকার একটি অংশ পেয়েছেন বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাদের প্রাপ্য অর্থ ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ২০২২ সালের পর দীর্ঘ চার বছর ধরে আটকে থাকা অর্থের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকার জীবনে কিছুটা হলেও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরকালীন সুবিধার জন্য দুটি তহবিল রয়েছে।

এর একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট এবং অন্যটি অবসর সুবিধা বোর্ড। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রতি মাসে এসব তহবিলে অর্থ জমা দেন। এর পাশাপাশি সরকারও নির্দিষ্ট হারে অর্থ জমা করে। দীর্ঘ চাকরিজীবন শেষে অবসরে যাওয়ার সময় শিক্ষক-শিক্ষিকারা যাতে একটি ভালো অঙ্কের অর্থ পান, সেটিই ছিল এ ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য।

অবসর সুবিধার অর্থ পেতে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেদের প্রাপ্য টাকা তুলতে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অফিসে অফিসে ঘুরতে হয়েছে। এমনকি ঘুষ দেওয়ার অলিখিত নিয়মও চালু হয়ে গিয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, এবার কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই অনলাইনে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রাপ্য অর্থ তাদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে পাঠানো সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, শিক্ষক সমাজ নীতি, নৈতিকতা ও আদর্শের শিক্ষা দিয়ে লাখো শিক্ষার্থীকে গড়ে তোলেন। সেই শিক্ষকদের নিজেদের টাকা তুলতে যদি ঘুষ দিতে হয় বা অফিসে অফিসে ঘুরতে হয়, তাহলে তা শুধু শিক্ষকদের হয়রানি নয়, জাতি হিসেবে আমাদের দীনতা-হীনতার প্রকাশ। প্রধানমন্ত্রী জানান, অবসর সুবিধার টাকা পরিশোধের পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ ছিল না। তার দাবি, আগের সরকারের সময় ব্যাংক-বীমাসহ বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ও লুটপাটের কারণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য গঠিত দুটি তহবিলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তার ভাষ্য, জাল ইনডেক্স তৈরি, তহবিলের অর্থ দুর্বল ব্যাংকে সরিয়ে নেওয়া এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ধ্বংসের মাধ্যমে তহবিল দুটিকে প্রায় দেউলিয়া করে ফেলা হয়েছিল। ফলে ২০২২ সাল থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা এসব তহবিল থেকে অর্থ পাচ্ছিলেন না। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অবসরকালীন সুবিধার অর্থ পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তবে তহবিল দুটিতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় বিশেষ ব্যবস্থায় ৭০ হাজারের বেশি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকার পাওনা পরিশোধ করতে হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার যতদিন দায়িত্বে থাকবে, ততদিন অবসরকালীন সুবিধার টাকা পেতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না। ভবিষ্যতে যথাসময়ে অনলাইনে তাদের প্রাপ্য অর্থ ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

অনুষ্ঠানে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কল্যাণে তার উদ্যোগেই ১৯৯১ সালে ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ এবং ২০০২ সালে ‘অবসর সুবিধা বোর্ড’ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া শিক্ষা, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের বিষয়ে বরাবরই ইতিবাচক ছিলেন।

শিক্ষা বিস্তার ও নারীদের শিক্ষায় তার বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। পরে খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনা করেন। অনুষ্ঠানে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সামাজিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষকতা থেকে অবসর নিলেও একজন শিক্ষকের সামাজিক দায়িত্ব শেষ হয় না। তাদের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে অসংখ্য শিক্ষার্থী বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে।

জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা সমাজে আলোকবর্তিকা হিসেবে ভূমিকা রাখবেন—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শাহাদাৎ স্বাধীন এসব তথ্য জানান।