7:48 pm, Friday, 14 August 2026

বিশ্বের যেখানেই যাই না কেন, সবচেয়ে প্রিয় স্থান ঠাকুরগাঁও: শামারুহ মির্জা

  • MIT ERP
  • Update Time : 06:20:53 pm, Friday, 14 August 2026
  • 6

বিশ্বের যেখানেই যাই না কেন, সবচেয়ে প্রিয় স্থান ঠাকুরগাঁও: শামারুহ মির্জা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মেয়ে শামারুহ মির্জা নিজের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, তাদের পরিবারের প্রতি এই জেলার মানুষের অবদান অনেক বেশি এবং ঠাকুরগাঁওই তার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা।

ঠাকুরগাঁও–১ আসনের সদ্য সাবেক সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল গতকালই বিএনপিসহ সব ধরনের পদ থেকে পদত্যাগ করে রাষ্ট্রপতির মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ শুক্রবার নিজের ফেসবুক পেজে বাবাকে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন শামারুহ মির্জা।

তিনি লিখেছেন, পৃথিবীর যেই প্রান্তেই যাই না কেন, যত অসাধারণ জায়গায়ই যাই না কেন, আমাকে আজও যদি কেউ প্রশ্ন করে, সব চেয়ে প্রিয় জায়গা কোনটি, আমি বলি ঠাকুরগাঁও।

শামারুহ মির্জা লিখেছেন, জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর, আব্বু ফিরে আসে ঠাকুরগাঁও এ। তখন আমি একদম ছোট। আমরা দুবোন সারাদিন খেলতাম, বিকেল হলেই, আসে পাশের বাচ্চারা আসত, আমাদের লন এ খেলতাম, বরফ পানি, কাবাডি কাবাডি, সাত চারা, লুকোচুরি, আর শীতকালে ব্যাডমিন্টন। আমার চাচাদের সাথে খেলতাম দাবা। আসগর আলী স্যার এর কাছে আমার পড়া শোনা। আমার দাদি করতেন মহিলা সমিতি। দুপুর বেলা কখনও দাদির সাথে যেতাম পুরনো সিনেমা হলের পিছনে মহিলা সমিতির অফিসে। হাজার হাজার মিষ্টি স্মৃতি। আরেকদিন আমার ছোটবেলার গল্প করব।

তিনি লিখেছেন, এই শহর এই জেলা আমাদের পরিবারের সব চেয়ে আদরের। আমাদের পরিবারের প্রতিটি সদস্যের স্বপ্ন দেখার শুরু এই জেলায়। এই জেলার মানুষ আমাদের পরিবারের আত্মার আত্মীয়। আমার আব্বা যখন পুরো দেশ ঘুরে বেড়িয়েছেন আওয়ামী রেজিমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়তে, এই জেলার বিএনপির প্রতিটি নেতা কর্মী আগলে রেখেছেন দুর্গ, আমার নিজের ফয়সাল চাচা, পয়গাম চাচা, এবং আরও অনেকে জান প্রাণ দিয়ে এগিয়ে নিয়ে গেছে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের রাজনীতিকে। নিজেদের শ্রম, ভালোবাসা, সাহস, অর্থ, শক্তি দিয়ে কাজ করেছেন। এদের হক অনেক উপরে।

শামারুহ মির্জা লিখেছেন, আমি যখন নির্বাচনী প্রচারণায় ছিলাম, প্রতিটি ইউনিয়নে দেখেছি সাধারণ মানুষ কিভাবে আমাদের পাশে থেকেছে। আমি কনফিডেন্টলি তাই বলেছি, আমার আব্বা আপনাদের আমানত। আপনাদের রক্ষা করেন, তিনি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবেন। ঠাকুরগাঁও এর মানুষ সেই আমানতের মর্যাদা দিয়েছে। আমার আব্বা তার প্রতিশ্রুতি রেখেছেন। গত ছয় মাসে তিনি এই জেলায় যুগান্তকারী উন্নয়ন এর সূচনা করেছেন। এখন তা এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। বিশাল কাজ কিন্তু সামনে।

তিনি লিখেছেন, আজ জাতিসংঘ বলছে দেশে উগ্রবাদিরা সংঘবদ্ধ হবার চেষ্টা করছে। গত পনেরো বছরে হাসিনার কূট পরিকল্পনার কারণে দেশে উগ্রবাদ এর চাষ হয়েছে। আনফর্চুনেটলি ইউনুস সরকারের সময় এরা প্রচুর প্রশ্রয় পেয়েছে। প্রশাসন থেকে। কিন্তু বড় বিপদ হবার আগে এখনই সাবধান হতে হবে। আমার বিশ্বাস ঠাকুরগাঁও এর মানুষ বরাবরই লিবারেল ছিলো, আছে এবং থাকবে। হিন্দু মুসলমান সবাই মিলে এই জেলাকে সামনে নিয়ে যাবে।

শামারুহ মির্জা লিখেছেন, আমার আব্বা রাষ্ট্রপতি পদের জন্য তার প্রাণপ্রিয় দলের নমিনেশন পেয়েছেন। আজকে আমার দাদা দাদির কথা খুব মনে হচ্ছে। আমার আব্বুর জন্য দোয়া করবেন। তিনি যেন আমৃত্যু আপনাদের জন্য কাজ করতে পারেন। আপনাদের ঋণ আমাদের পরিবার কোনদিন শোধ করতে পারবে না।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

খেলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠায় কাজ চলছে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

বিশ্বের যেখানেই যাই না কেন, সবচেয়ে প্রিয় স্থান ঠাকুরগাঁও: শামারুহ মির্জা

Update Time : 06:20:53 pm, Friday, 14 August 2026

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মেয়ে শামারুহ মির্জা নিজের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, তাদের পরিবারের প্রতি এই জেলার মানুষের অবদান অনেক বেশি এবং ঠাকুরগাঁওই তার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা।

ঠাকুরগাঁও–১ আসনের সদ্য সাবেক সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল গতকালই বিএনপিসহ সব ধরনের পদ থেকে পদত্যাগ করে রাষ্ট্রপতির মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ শুক্রবার নিজের ফেসবুক পেজে বাবাকে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন শামারুহ মির্জা।

তিনি লিখেছেন, পৃথিবীর যেই প্রান্তেই যাই না কেন, যত অসাধারণ জায়গায়ই যাই না কেন, আমাকে আজও যদি কেউ প্রশ্ন করে, সব চেয়ে প্রিয় জায়গা কোনটি, আমি বলি ঠাকুরগাঁও।

শামারুহ মির্জা লিখেছেন, জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর, আব্বু ফিরে আসে ঠাকুরগাঁও এ। তখন আমি একদম ছোট। আমরা দুবোন সারাদিন খেলতাম, বিকেল হলেই, আসে পাশের বাচ্চারা আসত, আমাদের লন এ খেলতাম, বরফ পানি, কাবাডি কাবাডি, সাত চারা, লুকোচুরি, আর শীতকালে ব্যাডমিন্টন। আমার চাচাদের সাথে খেলতাম দাবা। আসগর আলী স্যার এর কাছে আমার পড়া শোনা। আমার দাদি করতেন মহিলা সমিতি। দুপুর বেলা কখনও দাদির সাথে যেতাম পুরনো সিনেমা হলের পিছনে মহিলা সমিতির অফিসে। হাজার হাজার মিষ্টি স্মৃতি। আরেকদিন আমার ছোটবেলার গল্প করব।

তিনি লিখেছেন, এই শহর এই জেলা আমাদের পরিবারের সব চেয়ে আদরের। আমাদের পরিবারের প্রতিটি সদস্যের স্বপ্ন দেখার শুরু এই জেলায়। এই জেলার মানুষ আমাদের পরিবারের আত্মার আত্মীয়। আমার আব্বা যখন পুরো দেশ ঘুরে বেড়িয়েছেন আওয়ামী রেজিমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়তে, এই জেলার বিএনপির প্রতিটি নেতা কর্মী আগলে রেখেছেন দুর্গ, আমার নিজের ফয়সাল চাচা, পয়গাম চাচা, এবং আরও অনেকে জান প্রাণ দিয়ে এগিয়ে নিয়ে গেছে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের রাজনীতিকে। নিজেদের শ্রম, ভালোবাসা, সাহস, অর্থ, শক্তি দিয়ে কাজ করেছেন। এদের হক অনেক উপরে।

শামারুহ মির্জা লিখেছেন, আমি যখন নির্বাচনী প্রচারণায় ছিলাম, প্রতিটি ইউনিয়নে দেখেছি সাধারণ মানুষ কিভাবে আমাদের পাশে থেকেছে। আমি কনফিডেন্টলি তাই বলেছি, আমার আব্বা আপনাদের আমানত। আপনাদের রক্ষা করেন, তিনি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবেন। ঠাকুরগাঁও এর মানুষ সেই আমানতের মর্যাদা দিয়েছে। আমার আব্বা তার প্রতিশ্রুতি রেখেছেন। গত ছয় মাসে তিনি এই জেলায় যুগান্তকারী উন্নয়ন এর সূচনা করেছেন। এখন তা এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। বিশাল কাজ কিন্তু সামনে।

তিনি লিখেছেন, আজ জাতিসংঘ বলছে দেশে উগ্রবাদিরা সংঘবদ্ধ হবার চেষ্টা করছে। গত পনেরো বছরে হাসিনার কূট পরিকল্পনার কারণে দেশে উগ্রবাদ এর চাষ হয়েছে। আনফর্চুনেটলি ইউনুস সরকারের সময় এরা প্রচুর প্রশ্রয় পেয়েছে। প্রশাসন থেকে। কিন্তু বড় বিপদ হবার আগে এখনই সাবধান হতে হবে। আমার বিশ্বাস ঠাকুরগাঁও এর মানুষ বরাবরই লিবারেল ছিলো, আছে এবং থাকবে। হিন্দু মুসলমান সবাই মিলে এই জেলাকে সামনে নিয়ে যাবে।

শামারুহ মির্জা লিখেছেন, আমার আব্বা রাষ্ট্রপতি পদের জন্য তার প্রাণপ্রিয় দলের নমিনেশন পেয়েছেন। আজকে আমার দাদা দাদির কথা খুব মনে হচ্ছে। আমার আব্বুর জন্য দোয়া করবেন। তিনি যেন আমৃত্যু আপনাদের জন্য কাজ করতে পারেন। আপনাদের ঋণ আমাদের পরিবার কোনদিন শোধ করতে পারবে না।