3:04 pm, Saturday, 15 August 2026

লঘুচাপে সাগর উত্তাল, মাছ না পেয়ে ঘাটে ফিরছে শত শত ট্রলার

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:40:14 am, Friday, 14 August 2026
  • 5

লঘুচাপে সাগর উত্তাল, মাছ না পেয়ে ঘাটে ফিরছে শত শত ট্রলার

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ইলিশের আশায় সাগরে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন পটুয়াখালীর উপকূলের জেলেরা। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূলীয় এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে কয়েক দিন ধরে উত্তাল রয়েছে সাগর।

দমকা হাওয়া, থেমে থেমে বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পেয়ে একের পর এক ট্রলার ঘাটে ফিরছে। নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় শত শত ট্রলার আলীপুর-মহিপুর মৎস্যবন্দর ও খাপড়াভাঙ্গা নদীতে আশ্রয় নিয়েছে। এতে ইলিশ মৌসুমের শুরুতেই হতাশায় পড়েছেন হাজারো জেলে ও ট্রলার মালিক। গতকাল বুধবার সকালে আলীপুর-মহিপুর মৎস্যবন্দর ও খাপড়াভাঙ্গা নদীতে ফিরে আসা কয়েকটি মাছধরা ট্রলারের জেলে, মাঝি ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

জেলে জামাল বলেন, সাগর উত্তাল থাকায় মাছ ধরার পরিবেশ নেই। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগরে অবস্থান করাও সম্ভব হচ্ছে না। ১০ থেকে ১৫ দিনের প্রস্তুতি নিয়ে ট্রলার নিয়ে সাগরে গেলেও এক-দুই দিন মাছ ধরার পরই বৈরী আবহাওয়ার কারণে ঘাটে ফিরতে হচ্ছে। এতে মাছের পরিমাণ যেমন কমছে, তেমনি ট্রলার পরিচালনার খরচও উঠছে না। এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের মাঝি আব্দুল আজিজ বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে গিয়ে এখন পর্যন্ত লাভের মুখ দেখেননি।

দুই দিন আগে সাত লাখ টাকার বাজার নিয়ে সাগরে গিয়েছিলেন। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় ফিরে এসেছেন মাত্র এক লাখ ২০ হাজার টাকার মাছ নিয়ে। তিনি বলেন, ‘এভাবে চলতে থাকলে এ পেশা ছেড়ে দিতে হবে। ’ জেলেরা জানান, ইলিশ মৌসুম শুরুর আগে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞায় মাছ ধরতে পারেননি তাঁরা। নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে নামার পর দফায় দফায় বৈরী আবহাওয়া তাঁদের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আশানুরূপ ইলিশ ও সামুদ্রিক মাছ না পাওয়ায় অনেকেই লোকসানে পড়েছেন। ফলে কেউ পেশা পরিবর্তনের কথা ভাবছেন, আবার দাদনের দায়ে অনেকে বাধ্য হয়ে এ পেশায় টিকে আছেন। আলীপুর মৎস্যবন্দরের ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা সাগরে যাওয়ার পর থেকেই বারবার আবহাওয়া খারাপ হচ্ছে। টানা বৃষ্টি ও উত্তাল সাগরের কারণে ট্রলারগুলো ঘাটে ফিরে আসছে।

প্রতিটি ট্রলারে লাখ লাখ টাকার বাজার-সদাই করে সাগরে পাঠাতে হয়। নিম্নচাপ ও লঘুচাপের কারণে ট্রলার মালিকরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আলীপুর আড়তদার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মামুন বলেন, ইলিশের দাম চড়া হলেও বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। বৈরী আবহাওয়ায় জেলেরা সাগরে যেতে না পারায় তাঁদের পাশাপাশি আড়তদাররাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সকাল থেকেই মাছধরা ট্রলারগুলো ঘাটে ফিরতে শুরু করেছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে জেলেরা আবার সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারবেন। আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি আপাতত নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা কম। তবে এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত ও সাগর উত্তাল থাকার পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

লঘুচাপে সাগর উত্তাল, মাছ না পেয়ে ঘাটে ফিরছে শত শত ট্রলার

Update Time : 11:40:14 am, Friday, 14 August 2026

ইলিশের আশায় সাগরে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন পটুয়াখালীর উপকূলের জেলেরা। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূলীয় এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে কয়েক দিন ধরে উত্তাল রয়েছে সাগর।

দমকা হাওয়া, থেমে থেমে বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পেয়ে একের পর এক ট্রলার ঘাটে ফিরছে। নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় শত শত ট্রলার আলীপুর-মহিপুর মৎস্যবন্দর ও খাপড়াভাঙ্গা নদীতে আশ্রয় নিয়েছে। এতে ইলিশ মৌসুমের শুরুতেই হতাশায় পড়েছেন হাজারো জেলে ও ট্রলার মালিক। গতকাল বুধবার সকালে আলীপুর-মহিপুর মৎস্যবন্দর ও খাপড়াভাঙ্গা নদীতে ফিরে আসা কয়েকটি মাছধরা ট্রলারের জেলে, মাঝি ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

জেলে জামাল বলেন, সাগর উত্তাল থাকায় মাছ ধরার পরিবেশ নেই। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগরে অবস্থান করাও সম্ভব হচ্ছে না। ১০ থেকে ১৫ দিনের প্রস্তুতি নিয়ে ট্রলার নিয়ে সাগরে গেলেও এক-দুই দিন মাছ ধরার পরই বৈরী আবহাওয়ার কারণে ঘাটে ফিরতে হচ্ছে। এতে মাছের পরিমাণ যেমন কমছে, তেমনি ট্রলার পরিচালনার খরচও উঠছে না। এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের মাঝি আব্দুল আজিজ বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে গিয়ে এখন পর্যন্ত লাভের মুখ দেখেননি।

দুই দিন আগে সাত লাখ টাকার বাজার নিয়ে সাগরে গিয়েছিলেন। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় ফিরে এসেছেন মাত্র এক লাখ ২০ হাজার টাকার মাছ নিয়ে। তিনি বলেন, ‘এভাবে চলতে থাকলে এ পেশা ছেড়ে দিতে হবে। ’ জেলেরা জানান, ইলিশ মৌসুম শুরুর আগে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞায় মাছ ধরতে পারেননি তাঁরা। নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে নামার পর দফায় দফায় বৈরী আবহাওয়া তাঁদের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আশানুরূপ ইলিশ ও সামুদ্রিক মাছ না পাওয়ায় অনেকেই লোকসানে পড়েছেন। ফলে কেউ পেশা পরিবর্তনের কথা ভাবছেন, আবার দাদনের দায়ে অনেকে বাধ্য হয়ে এ পেশায় টিকে আছেন। আলীপুর মৎস্যবন্দরের ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা সাগরে যাওয়ার পর থেকেই বারবার আবহাওয়া খারাপ হচ্ছে। টানা বৃষ্টি ও উত্তাল সাগরের কারণে ট্রলারগুলো ঘাটে ফিরে আসছে।

প্রতিটি ট্রলারে লাখ লাখ টাকার বাজার-সদাই করে সাগরে পাঠাতে হয়। নিম্নচাপ ও লঘুচাপের কারণে ট্রলার মালিকরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আলীপুর আড়তদার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মামুন বলেন, ইলিশের দাম চড়া হলেও বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। বৈরী আবহাওয়ায় জেলেরা সাগরে যেতে না পারায় তাঁদের পাশাপাশি আড়তদাররাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সকাল থেকেই মাছধরা ট্রলারগুলো ঘাটে ফিরতে শুরু করেছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে জেলেরা আবার সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারবেন। আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি আপাতত নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা কম। তবে এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত ও সাগর উত্তাল থাকার পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।