রাজধানীর বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে ডিমের দামে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে এক ডজন ডিমের দাম ১৩০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬০ টাকায়। হঠাৎ এই মূল্যবৃদ্ধি নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে, ফলে অনেক পরিবার প্রোটিনের চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছে।
শান্তিনগরের বাসিন্দা আব্দুল জব্বারের পরিবারে সদস্য সংখ্যা পাঁচজন। পরিবারের পুষ্টির কথা ভেবে তিনি প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় ডিম রাখতেন। তবে সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে আগের তুলনায় কম ডিম কিনতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। একই চিত্র দেখা গেছে মৌচাক, মালিবাগ, রামপুরা ও কারওয়ান বাজারসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়। ক্রেতাদের অভিযোগ, হঠাৎ দামের এই ঊর্ধ্বগতিতে তাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে প্রভাব পড়ছে।
খুচরা ব্যবসায়ীদের মতে, বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের কারসাজির কারণেই সময় সময় এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। এতে একদিকে প্রান্তিক খামারিরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন, অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতারাও কাঙ্ক্ষিত লাভ করতে পারেন না। সংকটের সুযোগ নিয়ে মধ্যস্বত্বভোগীরাই বেশি সুবিধা পেয়ে থাকেন। অন্যদিকে ডিমের দাম বৃদ্ধির পেছনে সাম্প্রতিক বন্যাকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
পোল্ট্রি খাতের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, বন্যার কারণে বহু খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ডিম নষ্ট হয়েছে এবং অনেক মুরগি ভেসে গেছে। এতে বাজারে সরবরাহ কমে গিয়ে দামের ওপর প্রভাব পড়েছে। তবে খামারিরা অভিযোগ করেছেন, ভোক্তা পর্যায়ে দাম বাড়লেও তার সুফল তারা পান না। ডিমের বাজারে অস্থিরতা থাকলেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে সবজি ও কাঁচামরিচের দামে।
বাজারে প্রতি কেজি মরিচ এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩৬০ থেকে ৩৮০ টাকা। এছাড়া শসা ৮০ টাকা, বেগুন ১০০-১২০, করলা ৮০-১০০, ঝিঙ্গা ৮০, গাজর ১২০, ঢেঁড়স ৫০, লাউ ৮০, পটোল ৬০, চালকুমড়া ও মিষ্টিকুমড়া ৫০ এবং কচুরমুখি ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মসলার বাজারে দাম প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৫০ টাকা, আলু ৩০ টাকা, রসুন ১৫০ টাকা এবং আদা ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাংসের বাজারেও তেমন পরিবর্তন নেই। ব্রয়লার মুরগি কেজি প্রতি ১৯০ টাকা, সোনালি ৩২০-৩৩০, হাইব্রিড ২৯০-৩০০ এবং লেয়ার ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৮৫০ এবং খাসির মাংস ১৩০০ টাকায় রয়েছে। ভোজ্যতেলের মধ্যে সয়াবিন তেল সরকার নির্ধারিত দামে প্রতি লিটার ১৯৫ থেকে ১৯৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সানফ্লাওয়ার তেলের দাম তুলনামূলক বেশি, ৫ লিটারের বোতল বিক্রি হচ্ছে ১৭৫০ থেকে ২২৫০ টাকায়।
চালের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের চাল ৫৮ থেকে ৬০ টাকার মধ্যেই বিক্রি হচ্ছে। সার্বিকভাবে বাজারে নিত্যপণ্যের দামে ওঠানামা চললেও ডিমের দাম বৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি তৈরি করেছে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য। বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।












