10:15 pm, Wednesday, 12 August 2026

ফরিদপুরে ঘুষ না দেওয়ায় ঠিকাদারকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ

  • MIT ERP
  • Update Time : 10:14:52 pm, Wednesday, 12 August 2026
  • 0

ফরিদপুরে ঘুষ না দেওয়ায় ঠিকাদারকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ফরিদপুরের নগরকান্দায় ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এক ঠিকাদারকে মারধর করে হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির ও তার সহযোগী মোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে। আজ বুধবার দুপুরে নগরকান্দা পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন ঠিকাদার হাসিবুল হাসান আব্দুল্লাহ।

আহত হাসিবুলকে প্রথমে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হাসিবুল হাসান আব্দুল্লাহ বলেন, তার প্রতিষ্ঠান সৈয়দা জাহানারা এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে ২০২৩ সালে আইইউআইডিপি প্রকল্পের আওতায় নগরকান্দা পৌরসভায় তিনটি সড়কের আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ করা হয়।

ওই কাজের বিল আট মাস আগে অনুমোদন হলেও এখনো তা পরিশোধ করা হয়নি। হাসিবুলের অভিযোগ, বিল ছাড় করার জন্য পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির তার কাছে মোট বিলের ১৫ শতাংশ ঘুষ দাবি করেন। এর মধ্যে গত ১০ আগস্ট তিনি পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছেন। পরে আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে বিল আটকে রাখা হয়। হাসিবুল বলেন, বুধবার বিলের বিষয়ে কথা বলতে প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে গেলে হুমায়ুন কবির ও মোসলেম উদ্দিন তাকে জিআই পাইপ দিয়ে মারধর করেন।

একপর্যায়ে তার হাত ভেঙে যায়। এ ঘটনায় তিনি থানায় অভিযোগ করবেন। তবে ঘুষ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, ঠিকাদারের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় বিল দেওয়া হয়নি। পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশ ছিল, কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিল না দেওয়ার। হুমায়ুন কবিরের দাবি, এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে ঠিকাদার তাদের কক্ষে এসে প্রথমে হামলা করেন।

তবে ঠিকাদারকে মারধর কিংবা জিআই পাইপ দিয়ে তার হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। নগরকান্দা পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন বলেন, ঠিকাদারের বিলের বিষয়টি তিনি জানেন। কাজের অসংগতি পাওয়ায় কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিল দিতে নিষেধ করা হয়েছে। ঠিকাদার প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে কী কারণে গিয়েছিলেন, তা তিনি জানেন না বলে জানান ইউএনও।

তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এ ধরনের মারধরের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

ফরিদপুরে ঘুষ না দেওয়ায় ঠিকাদারকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ

ফরিদপুরে ঘুষ না দেওয়ায় ঠিকাদারকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ

Update Time : 10:14:52 pm, Wednesday, 12 August 2026

ফরিদপুরের নগরকান্দায় ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এক ঠিকাদারকে মারধর করে হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির ও তার সহযোগী মোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে। আজ বুধবার দুপুরে নগরকান্দা পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন ঠিকাদার হাসিবুল হাসান আব্দুল্লাহ।

আহত হাসিবুলকে প্রথমে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হাসিবুল হাসান আব্দুল্লাহ বলেন, তার প্রতিষ্ঠান সৈয়দা জাহানারা এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে ২০২৩ সালে আইইউআইডিপি প্রকল্পের আওতায় নগরকান্দা পৌরসভায় তিনটি সড়কের আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ করা হয়।

ওই কাজের বিল আট মাস আগে অনুমোদন হলেও এখনো তা পরিশোধ করা হয়নি। হাসিবুলের অভিযোগ, বিল ছাড় করার জন্য পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির তার কাছে মোট বিলের ১৫ শতাংশ ঘুষ দাবি করেন। এর মধ্যে গত ১০ আগস্ট তিনি পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছেন। পরে আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে বিল আটকে রাখা হয়। হাসিবুল বলেন, বুধবার বিলের বিষয়ে কথা বলতে প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে গেলে হুমায়ুন কবির ও মোসলেম উদ্দিন তাকে জিআই পাইপ দিয়ে মারধর করেন।

একপর্যায়ে তার হাত ভেঙে যায়। এ ঘটনায় তিনি থানায় অভিযোগ করবেন। তবে ঘুষ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, ঠিকাদারের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় বিল দেওয়া হয়নি। পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশ ছিল, কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিল না দেওয়ার। হুমায়ুন কবিরের দাবি, এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে ঠিকাদার তাদের কক্ষে এসে প্রথমে হামলা করেন।

তবে ঠিকাদারকে মারধর কিংবা জিআই পাইপ দিয়ে তার হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। নগরকান্দা পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন বলেন, ঠিকাদারের বিলের বিষয়টি তিনি জানেন। কাজের অসংগতি পাওয়ায় কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিল দিতে নিষেধ করা হয়েছে। ঠিকাদার প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে কী কারণে গিয়েছিলেন, তা তিনি জানেন না বলে জানান ইউএনও।

তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এ ধরনের মারধরের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।