সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে চালকল মালিকদের কাছে লাইসেন্সপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং চালকল শিল্প ও শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থান রক্ষার দাবি জানিয়েছেন মিল মালিক সমবায় সমিতির নেতারা।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে চান্দাইকোনা বাসস্ট্যান্ডে এ দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে সমিতির পক্ষ থেকে লিখিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠ করেন উপজেলা মিল মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল মোত্তালেব। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, রায়গঞ্জ থানার আওতাধীন চান্দাইকোনা খাদ্যগুদাম ১৯৯৫ সাল থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
শুরুর দিকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করত চালকলগুলো। একসময় রায়গঞ্জ উপজেলায় লাইসেন্সধারী চালকলের সংখ্যা ছিল ৪২২টি। বর্তমানে লাইসেন্সধারী মিল রয়েছে ১৩৭টি। এর মধ্যে তিনটি অটো রাইস মিল এবং বাকিগুলো হাসকিং ও সেমি-অটো রাইস মিল বলে উল্লেখ করা হয়। মিল মালিকদের দাবি, প্রতিটি লাইসেন্সের বিপরীতে তারা সরকারকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব দিয়ে থাকেন।
এসব চালকলের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার মানুষের জীবিকা জড়িত। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রতিটি লাইসেন্সের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট মিলগুলোর নিজস্ব বিদ্যুৎ সংযোগ ও অবকাঠামো রয়েছে। সরকার প্রতিবছর দুই দফায় এসব মিলের লাইসেন্সের বিপরীতে সরকারি সংগ্রহের চাল বরাদ্দ দিয়ে থাকে। তবে বরাদ্দকৃত চাল উৎপাদনের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বছরের বড় একটি সময় মিলগুলো বন্ধ থাকে।
চালকল মালিকদের অভিযোগ, এ সুযোগে একটি মহল প্রতিটি লাইসেন্সের বিপরীতে ৫০ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করছে। লিখিত অভিযোগে এ দাবির সঙ্গে মো. সোহাগ সরকার, পিতা মো. মোশারফ সরকার-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ১৩৭টি লাইসেন্সের বিপরীতে দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৬৮ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মিল মালিকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহলে ভুল তথ্য দেওয়া এবং ভুল তথ্যসংবলিত চিঠি দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
এ অবস্থায় প্রশাসন, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের প্রতি অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি রায়গঞ্জের চালকল শিল্প ও এর সঙ্গে জড়িত শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থান নিরাপদ রাখার দাবি জানিয়েছেন সমিতির নেতারা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. সোহাগ সরকার। তিনি বলেন, লাইসেন্সবিহীন চালকল, ভুয়া ও অস্তিত্বহীন চালকলে সরকারি বরাদ্দ নেওয়ার বিষয়ে আমি রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছি।
এ কারণে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, তার দেওয়া অভিযোগের পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের প্রেক্ষিতে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে উপজেলা মিল মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন চালকলের মালিক ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।




















