জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত শীর্ষ নেতার সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেছে প্রসিকিউশন।
বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলের সামনে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। শুনানিকালে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ওবায়দুল কাদের দেশের ইতিহাসে একজন ‘রাজনৈতিক জোকার’ হিসেবে পরিচিত। তার বিভিন্ন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড আওয়ামী লীগের পতনকে ত্বরান্বিত করেছে এবং নেতাকর্মীদের উসকে দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, মামলার সাত আসামির বিরুদ্ধে আনা চারটি অভিযোগই প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যা ও সহিংসতার ঘটনায় তাদের দায় রয়েছে এবং এ কারণে তাদের দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে নিজেদের প্রথম শ্রেণির নাগরিক এবং অন্যদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক মনে করত।
ওবায়দুল কাদেরের বিভিন্ন বক্তব্য কোনো দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য ছিল না। তার দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কারণে দেশে সহিংসতা বেড়েছে। ’ তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতৃত্বের আড়ালে আসামিরা দুর্বৃত্তপরায়ণ আচরণ করেছেন। তাদের ব্যক্তিগত দায় এবং সুপিরিয়র কমান্ড দায়—দুটিই রয়েছে। তাই সাত আসামির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে প্রসিকিউশন।
’ প্রসিকিউশনের দাবি, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি থাকবে। এজন্য কঠোর শাস্তির মাধ্যমে একটি বার্তা দেওয়া প্রয়োজন বলে তারা আদালতে যুক্তি তুলে ধরেন। এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।
সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এর মধ্যে ২৮ জন সরাসরি ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য প্রদান করেন। গত ২ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়েছিল।




















