পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে দুই কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সৎ ভাই ও তার ওয়ারিশদের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন উভয় পক্ষ।
যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি এড়াতে কাঞ্চন আলী হাওলাদার গংরা মঠবাড়িয়া থানায় জিডি করেছেন, লিখিত অভিযোগ করেছেন এবং সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলনও করেছেন। কিছুতেই যেন সংঘাতের শঙ্কা কাটছে না। কাঞ্চন আলী হাওলাদার উপজেলার হোতখালী গ্রামের মৃত এলেম উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে। কাঞ্চন আলী হাওলাদার বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে সাংবাদিকদের জানান, মঠবাড়িয়া উপজেলার দক্ষিণ হলতা মৌজায় বেশ কিছু জমি দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছেন।
কিন্তু তার সৎ ভাই শের আলী গংরা ওই মৌজার জমি পাবেন বলে ১৯৭৯ সাল থেকে বিরোধ করে আসছেন। জমি সংক্রান্ত মামলা-পাল্টা মামলার একপর্যায়ে শের আলী মারা যাওয়ার পর তার ছেলে লাল মিয়া এবং পরে লাল মিয়ার স্ত্রী রহিমা বেগম মামলার বাদী হন। সর্বশেষ গত ১২ এপ্রিল’২৬ রহিমা বেগম তাদের অনুকূলে মামলার রায় পান। এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা (কাঞ্চন আলী গং) গত ১৯ জুলাই’২৬ উচ্চ আদালতে (হাইকোর্ট) আপিল করি।
মহামান্য বিচারক রহিমা বেগমের পক্ষে পাওয়া রায় পুনরায় বিবেচনা এবং ওই জমির ওপর ছয় মাসের জন্য স্থিতিশীল অবস্থায় রাখার আদেশ দেন। এদিকে উচ্চ আদালতে আপিলের বিষয়টি প্রতিপক্ষ রহিমা বেগমের স্বজনরা টের পেয়ে সম্প্রতি রাতের আঁধারে একাধিকবার ওই জমির মধ্য থেকে আংশিক জমিতে জোরপূর্বক বীজ রোপণ করেন। টের পেয়ে আমরা বাধা দিতে গেলে আমাদের খুন-জখম ও বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেন।
সম্পত্তি দখলের চেষ্টার বিষয়টি মঠবাড়িয়া থানাকে অবগত করলে থানা পুলিশ অজ্ঞাত কারণে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। মঠবাড়িয়া থানার ওসি মো. রবিউল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালতের আদেশ এখন পর্যন্ত হাতে পাইনি। আদালতের কাগজ হাতে পেলে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে প্রতিপক্ষ (অভিযুক্ত) রহিমা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।




















