নাটোরের লালপুরে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুলের নির্বাচনি এলাকায় ফ্যামিলি কার্ডের শুমারির জন্য সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগের ফল প্রকাশের পর অনিয়ম ও পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে।
পূর্ববর্তী শুমারির কাজে যুক্ত থাকা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অগ্রাধিকার দিয়ে এবারও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিয়োগবঞ্চিত কয়েকজন প্রার্থী। এতে নতুন প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ কমিটি নিয়োগের ফল প্রকাশ করে। প্রকাশিত ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এর আগে বিভিন্ন শুমারির কাজে যুক্ত ছিলেন—এমন কয়েকজন এবারও ফ্যামিলি কার্ড শুমারির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন নিয়োগবঞ্চিতরা।
নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থী জাহিদ হাসান ও ওমর ফারুকের অভিযোগ, মেধা ও যোগ্যতার চেয়ে পূর্বের শুমারির অভিজ্ঞতাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, গত ১৭ বছর তারা শুমারির কাজে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি। ফলে পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকার বিষয়টিকে এবার নিয়োগের ক্ষেত্রে অসুবিধা হিসেবে বিবেচনা করা ন্যায়সংগত নয়। জাহিদ হাসান বলেন, গত ১৭ বছর আমরা শুমারি করার সুযোগই পাইনি।
ওই সময়ে সরাসরি দলীয়করণের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শুমারির কাজ করেছেন। তাহলে আমাদের অভিজ্ঞতা আসবে কোথা থেকে? এখন যদি অভিজ্ঞতাকেই নিয়োগের প্রধান মাপকাঠি করা হয়, তাহলে নতুনদের সুযোগ কোথায়? অন্যদিকে, ওমর ফারুক অভিযোগ করেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয়নি। তিনি মেধা, যোগ্যতা ও নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়ন করে নতুন করে ফল প্রকাশের দাবি জানান।
নিয়োগবঞ্চিতদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন শুমারির কাজ থেকে বঞ্চিত থাকা তরুণদের এবার সুযোগ দেওয়ার পরিবর্তে পূর্বের শুমারির কাজে যুক্ত ব্যক্তিদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এতে নতুন প্রার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বরকত উল্লাহ বলেন, ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ নির্দেশিকা অনুযায়ী যথাযথভাবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ করা হয়েছে।
















