2:51 pm, Wednesday, 12 August 2026

ছেলের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৫ পেলেন মা

  • MIT ERP
  • Update Time : 01:36:52 pm, Wednesday, 12 August 2026
  • 2

ছেলের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৫ পেলেন মা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সংসারের ব্যস্ততায় পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেলেও নিজের স্বপ্নকে হারিয়ে যেতে দেননি রাজশাহীর সাদিয়া বেগম। ১৯ বছর আগে বিয়ের পর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে দূরে সরে গেলেও হাল ছাড়েননি তিনি। অবশেষে দুই বছর আগে নিজের ছেলে তানভীরের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এই নারী।

শেষ পর্যন্ত একই পরীক্ষায় মা পেলেন জিপিএ-৫, আর ছেলে অর্জন করল গোল্ডেন জিপিএ-৫। মা-ছেলের এই সাফল্য এখন পরিবার ও এলাকাজুড়ে প্রশংসিত। এক হাতে সংসারের দায়িত্ব, অন্য হাতে বই। দুই সন্তানের দেখাশোনার পাশাপাশি দীর্ঘ বিরতির পর আবারও পড়াশোনায় ফেরেন রাজশাহীর সাদিয়া বেগম। ১৯ বছর আগে বিয়ের পর নানা কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি তিনি।

তবে লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহটা থেকেই যায়। প্রায় দুই বছর আগে ছেলে তানভীরের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সাদিয়া। পরিবারের সম্মতি নিয়ে শুরু করেন নতুন করে প্রস্তুতি। চলতি বছরের এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষায় রাজপাড়া আদর্শ মহিলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ থেকে অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেন তিনি। অন্যদিকে, সাদিয়ার ছেলে তানভীর আহমেদ রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পেয়েছে গোল্ডেন জিপিএ-৫।

সাদিয়া বলেন, পড়াশোনার প্রতি আমার অনেক আগ্রহ ছিল। কিন্তু বিয়ের পর নানা কারণে আর পড়াশোনা করতে পারিনি। পরে সিদ্ধান্ত নিই ছেলের সঙ্গে পরীক্ষা দিব। পরিবারের সবাই আমাকে সহযোগিতা করেছেন। এই সাফল্যে আমি খুবই আনন্দিত। শুধু একই পরীক্ষায় অংশ নেওয়াই নয়, প্রস্তুতির সময়ও মা-ছেলের ছিল একসঙ্গে পথচলা। ছেলের পড়াশোনার খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি নিজের পড়াশোনাও চালিয়ে গেছেন সাদিয়া।

অনেক সময় রাত জেগে ছেলের পাশে বসেই পড়েছেন তিনি। ছেলে তানভীর বলেন, মায়ের সঙ্গে একই সময়ে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে দুজনই জিপিএ-৫ পেয়েছি—এটা আমার জন্য অনেক সৌভাগ্যের বিষয়। মায়ের সঙ্গে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ কয়জনের হয়! মা-ছেলের এই সাফল্যের পেছনে ভূমিকা রয়েছে গৃহশিক্ষক আরিফুল ইসলামেরও। প্রায় চার বছর ধরে তানভীরকে ইংরেজি পড়ানোর পাশাপাশি সাদিয়ার পড়াশোনাতেও সহযোগিতা করেছেন তিনি।

সাদিয়া আপা অনেক আগ্রহ নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। সংসারের দায়িত্বের পাশাপাশি তার এই চেষ্টা সত্যিই প্রশংসনীয়। মা-ছেলের দুজনের ফলাফলে আমরাও আনন্দিত। সাদিয়ার স্বামী তোফাজ্জল হোসেন একজন সরকারি কর্মকর্তা। পরিবারের দায়িত্ব সামলে দীর্ঘ বিরতির পর নিজের পড়াশোনার স্বপ্ন পূরণ করেছেন সাদিয়া। আর তানভীরের স্বপ্ন—ভবিষ্যতে একজন প্রকৌশলী হওয়া।

নিজের এই সাফল্য বাবা-মাকে উৎসর্গ করেছে সে। বয়স, সংসার কিংবা দীর্ঘ বিরতি—কোনোটিই যে স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা হতে পারে না, সাদিয়া ও তানভীরের সাফল্য তারই অনন্য উদাহরণ। মা-ছেলের একই সঙ্গে এসএসসি দিয়ে জিপিএ-৫ অর্জনের এই গল্প অনুপ্রেরণা হয়ে থাকল অনেকের জন্য।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) কবে, জানা যাবে বৃহস্পতিবার

ছেলের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৫ পেলেন মা

Update Time : 01:36:52 pm, Wednesday, 12 August 2026

সংসারের ব্যস্ততায় পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেলেও নিজের স্বপ্নকে হারিয়ে যেতে দেননি রাজশাহীর সাদিয়া বেগম। ১৯ বছর আগে বিয়ের পর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে দূরে সরে গেলেও হাল ছাড়েননি তিনি। অবশেষে দুই বছর আগে নিজের ছেলে তানভীরের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এই নারী।

শেষ পর্যন্ত একই পরীক্ষায় মা পেলেন জিপিএ-৫, আর ছেলে অর্জন করল গোল্ডেন জিপিএ-৫। মা-ছেলের এই সাফল্য এখন পরিবার ও এলাকাজুড়ে প্রশংসিত। এক হাতে সংসারের দায়িত্ব, অন্য হাতে বই। দুই সন্তানের দেখাশোনার পাশাপাশি দীর্ঘ বিরতির পর আবারও পড়াশোনায় ফেরেন রাজশাহীর সাদিয়া বেগম। ১৯ বছর আগে বিয়ের পর নানা কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি তিনি।

তবে লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহটা থেকেই যায়। প্রায় দুই বছর আগে ছেলে তানভীরের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সাদিয়া। পরিবারের সম্মতি নিয়ে শুরু করেন নতুন করে প্রস্তুতি। চলতি বছরের এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষায় রাজপাড়া আদর্শ মহিলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ থেকে অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেন তিনি। অন্যদিকে, সাদিয়ার ছেলে তানভীর আহমেদ রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পেয়েছে গোল্ডেন জিপিএ-৫।

সাদিয়া বলেন, পড়াশোনার প্রতি আমার অনেক আগ্রহ ছিল। কিন্তু বিয়ের পর নানা কারণে আর পড়াশোনা করতে পারিনি। পরে সিদ্ধান্ত নিই ছেলের সঙ্গে পরীক্ষা দিব। পরিবারের সবাই আমাকে সহযোগিতা করেছেন। এই সাফল্যে আমি খুবই আনন্দিত। শুধু একই পরীক্ষায় অংশ নেওয়াই নয়, প্রস্তুতির সময়ও মা-ছেলের ছিল একসঙ্গে পথচলা। ছেলের পড়াশোনার খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি নিজের পড়াশোনাও চালিয়ে গেছেন সাদিয়া।

অনেক সময় রাত জেগে ছেলের পাশে বসেই পড়েছেন তিনি। ছেলে তানভীর বলেন, মায়ের সঙ্গে একই সময়ে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে দুজনই জিপিএ-৫ পেয়েছি—এটা আমার জন্য অনেক সৌভাগ্যের বিষয়। মায়ের সঙ্গে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ কয়জনের হয়! মা-ছেলের এই সাফল্যের পেছনে ভূমিকা রয়েছে গৃহশিক্ষক আরিফুল ইসলামেরও। প্রায় চার বছর ধরে তানভীরকে ইংরেজি পড়ানোর পাশাপাশি সাদিয়ার পড়াশোনাতেও সহযোগিতা করেছেন তিনি।

সাদিয়া আপা অনেক আগ্রহ নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। সংসারের দায়িত্বের পাশাপাশি তার এই চেষ্টা সত্যিই প্রশংসনীয়। মা-ছেলের দুজনের ফলাফলে আমরাও আনন্দিত। সাদিয়ার স্বামী তোফাজ্জল হোসেন একজন সরকারি কর্মকর্তা। পরিবারের দায়িত্ব সামলে দীর্ঘ বিরতির পর নিজের পড়াশোনার স্বপ্ন পূরণ করেছেন সাদিয়া। আর তানভীরের স্বপ্ন—ভবিষ্যতে একজন প্রকৌশলী হওয়া।

নিজের এই সাফল্য বাবা-মাকে উৎসর্গ করেছে সে। বয়স, সংসার কিংবা দীর্ঘ বিরতি—কোনোটিই যে স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা হতে পারে না, সাদিয়া ও তানভীরের সাফল্য তারই অনন্য উদাহরণ। মা-ছেলের একই সঙ্গে এসএসসি দিয়ে জিপিএ-৫ অর্জনের এই গল্প অনুপ্রেরণা হয়ে থাকল অনেকের জন্য।