মাদারীপুর জেলার ডাসার উপজেলার শতবর্ষী ও ঐতিহ্যবাহী শশীকর উচ্চ বিদ্যালয়ের বিদায়ী প্রধান শিক্ষক সুনীত কুমার তালুকদারকে ঘিরে অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম চাপা ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
গত ৩১ জুলাই ২০২৬ তারিখে তিনি চাকরির মেয়াদ শেষ করে অবসরে গেলেও পুনরায় চুক্তিতে প্রধান শিক্ষকের পদে বহাল থাকতে নানামুখী তদবির তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ ৮ বছর ধরে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকলেও তিনি বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে কোনো ভূমিকা রাখতে পারেননি; বরং জড়িয়ে পড়েছেন নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে।
এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র ফি দু’বার আদায়, অতিরিক্ত অনলাইন ফি গ্রহণসহ নানা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি দীর্ঘ সময়ে বিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক কোমলমতি শিক্ষার্থী, বিশেষ করে মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যূনতম একটি পৃথক কমন রুমের ব্যবস্থাও করতে পারেননি তিনি। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, বিতর্কিত এই বিদায়ী শিক্ষককে যদি পুনরায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে আনা হয়, তবে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যাবে এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে স্থানীয় অভিভাবক লিটন বিশ্বাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিনি (সুনীত কুমার তালুকদার) দায়িত্বে থাকাকালে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন। আমরা তাকে আর কোনো অবস্থাতেই এই বিদ্যালয়ে চাই না। এলাকাবাসী ও অভিভাবক মহল একজন নতুন, দক্ষ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির প্রধান শিক্ষক চান। বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক দেব দুলাল সরকার বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি পদাধিকারবলে ইউএনও মহোদয়।
তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কাউকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেননি। তবে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে বর্তমানে আমি সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে সার্বিক কাজ পরিচালনা করছি। এ বিষয়ে ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা বলেন, আইন ও সরকারি নিয়মনীতির বাইরে গিয়ে কোনো কিছু করার সুযোগ নেই।
বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ বজায় রাখা এবং সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষায় বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, শতবর্ষী এই প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির গৌরবময় অতীত ও শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রত স্থায়ী ও যোগ্য প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।















