নৌপরিবহন খাতকে আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে দেশে প্রথমবারের মতো পরিচালিত হতে যাচ্ছে ‘নৌযান শুমারি ২০২৬’। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সহযোগিতায় আগামী ২০ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত দেশজুড়ে এ শুমারি অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নৌযান শুমারি ২০২৬-এর তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শুমারি সমন্বয়কারীদের প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত নির্বাচিত সরকার এবং জনগণের কল্যাণে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সঠিক নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত অপরিহার্য। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণে সঠিক পরিসংখ্যানের কোনো বিকল্প নেই। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গড়মিল, অনিয়ম বা অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি সংশ্লিষ্টদের পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, সরকার নৌপথ উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী হওয়ায় পণ্য পরিবহনে নৌপথের গুরুত্ব অনেক বেশি। নৌপথের কার্যকর ব্যবহার ও উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি নৌযান শুমারি সফলভাবে সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর পেশাদারিত্ব ও সক্ষমতার ওপর আস্থা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, এমপি জানান, নিরাপদ ও আধুনিক নৌপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই নৌযান শুমারি পরিচালিত হচ্ছে। শুমারির মাধ্যমে দেশের নৌযানের সঠিক সংখ্যা, ধরন ও ব্যবহার সম্পর্কিত নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে, যা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর শফিউল বারী এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক। এ সময় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ নৌযান শুমারি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
















