নরসিংদীর দুর্গম চরাঞ্চল আলোকবালীতে সুমন মিয়া (২৩) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে আলোকবালী ইউনিয়নের বাখননগর এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত সুমন মিয়া বাখননগর গ্রামের বাতেন মিয়ার ছেলে। তিনি আলোকবালী ইউনিয়ন কৃষকদলের সাবেক সভাপতি কাইয়ুম মিয়ার ভাতিজা।
স্বজনদের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে সুমন মিয়া তার বোন সোনিয়ার সঙ্গে বাড়ির অদূরে নদীর পাড়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় ১০ থেকে ১৫ জন অস্ত্রধারী ব্যক্তি তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায়। পরে বাখননগর বাজারের একটি চা-স্টলের সামনে নিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি গুলি করে ফেলে রেখে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা সুমনকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতের বোন সোনিয়া। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তার ভাই কয়েকদিনের মধ্যে বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তার স্ত্রী গর্ভবতী এবং তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তার কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতাও ছিল না। তিনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। আলোকবালী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব জয়নাল আবেদিন সরকার দাবি করেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিরোধকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
তার অভিযোগ, কিছু বিএনপি নেতার ইন্ধনে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এর আগেও এলাকায় বিএনপির তিনজন কর্মী নিহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, বাখননগর এলাকার মানুষ বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তবে নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর আল মামুন বলেন, স্থানীয় বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনাটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর আল মামুন বলেন, স্থানীয় দ্বন্ধের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
















