শৈশবে শক্ত হাড় গঠনের জন্য দুধ পান করার পরামর্শ প্রায় সবাই পেয়ে থাকেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষার বিষয়টি কেবল শৈশবেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং অল্প বয়স থেকেই হাড়ের ঘনত্ব (বোন ডেনসিটি) ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। তাই খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে সচেতনতা না থাকলে পরবর্তী জীবনে অস্টিওপোরোসিস, হাড় ভাঙা এবং চলাফেরায় অক্ষমতার মতো গুরুতর সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের হাড়ের শক্তির ভিত্তি তৈরি হয় শৈশব ও তরুণ বয়সে। এ সময় হাড়ের ঘনত্ব সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এরপর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের ঘনত্ব কমতে থাকে। বর্তমানে বিশ^জুড়ে প্রায় ৫০ কোটি মানুষ অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত। এই রোগে হাড় পাতলা ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে কোনো লক্ষণ ছাড়াই রোগটি দীর্ঘদিন থাকে এবং হঠাৎ হাড় ভেঙে যাওয়ার পর তা ধরা পড়ে। বিশেষ করে ৫৫ বছরের বেশি বয়সিদের মধ্যে প্রতিবছর বিশে^ এক কোটির বেশি হিপ ফ্র্যাকচার ঘটে। এসব আঘাতের পর নিউমোনিয়া, হৃদরোগসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। ৬০ বছরের বেশি বয়সি হিপ ফ্র্যাকচারে আক্রান্ত রোগীদের প্রায় ৩০ শতাংশ এক বছরের মধ্যেই মারা যান। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেনোপজের পর নারীদের হাড়ের ক্ষয় দ্রুত বাড়লেও পুরুষরাও এ ঝুঁকির বাইরে নন। হাড় সুস্থ রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও প্রোটিনকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পাশাপাশি ভিটামিন কে, ম্যাগনেসিয়াম, জিংক ও ফসফরাসও হাড় ও পেশি সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দুধ, দই ও পনির ক্যালসিয়ামের অন্যতম প্রধান উৎস। এক গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স্কদের খাদ্যতালিকায় দুগ্ধজাত খাবার ও প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ালে দুই বছরে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি ১১ শতাংশ এবং হিপ ফ্র্যাকচারের ঝুঁকি ৪৬ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। শুধু দুধই নয়, সয়াবিনজাত খাবারও হাড়ের জন্য উপকারী। টোফু ও এডামামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্যালসিয়াম সরবরাহ করে। সয়াবিনে থাকা আইসোফ্লাভোন নামের উদ্ভিজ্জ যৌগ শরীরে ইস্ট্রোজেনের মতো কাজ করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বিশেষ করে মেনোপজ-পরবর্তী নারীদের হাড়ের ঘনত্ব ধরে রাখতে এটি সহায়ক হতে পারে। চিয়া বীজও হাড়ের জন্য অত্যন্ত পুষ্টিকর। এতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ফসফরাসের পাশাপাশি ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে, যা শরীরের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া শুকনো ফল, বিশেষ করে ডুমুর, এপ্রিকট ও প্রুনেতেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম। এ ছাড়া বিভিন্ন ফল ও সবজিতে থাকা পলিফেনল হাড়ের ক্ষয় কমাতে সহায়তা করতে পারে। হাড় সুস্থ রাখতে খাদ্য সম্পূরক বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এখনো মতভেদ রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট সব সময় ফ্র্যাকচার প্রতিরোধ করে না। বরং অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করলে উল্টো পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।
9:12 pm, Wednesday, 29 July 2026
শিরোনাম :
হাড়ের ক্ষয়রোধে খাদ্যাভ্যাসে আনুন পরিবর্তন
-
MIT ERP
- Update Time : 08:16:33 pm, Wednesday, 29 July 2026
- 3
Tag :






