আজ শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
২৩ কার্তিক, ১৪৩৩ | ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৬°C
সর্বোচ্চ: ৩১°C
সর্বনিম্ন: ২২°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ০%

রাজধানীর হাসপাতালে ইনকিউবেটরের অতিরিক্ত উত্তাপে নবজাতকের শরীর ঝলসে যাওয়ার অভিযোগ

  • MIT ERP
  • Update Time : 09:03:09 pm, Saturday, 7 November 2026
  • 8

রাজধানীর হাসপাতালে ইনকিউবেটরের অতিরিক্ত উত্তাপে নবজাতকের শরীর ঝলসে যাওয়ার অভিযোগ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

রাজধানীর চাঁনখারপুলের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের গাফিলতি ও ইনকিউবেটরের অতিরিক্ত উত্তাপে (ওভারহিট) এক নবজাতক শিশুর শরীর ঝলসে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মাত্র ৫ ঘণ্টা বয়সী ওই শিশুটির মাথা, পিঠ এবং পায়ের আংশিক অংশ পুড়ে গেছে।

বর্তমানে শিশুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ২১১ নম্বর ওয়ার্ডের এনআইসিইউ-তে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। ভুক্তভোগী নবজাতকটি বগুড়া জেলার কাহালু থানার পলি বগুই গ্রামের বাসিন্দা মোঃ রাব্বানীর ছেলে। ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা মোঃ রাব্বানী বলেন, আজ শনিবার (০৭ নভেম্বর) ভোর আনুমানিক ৪ টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২১২ নম্বর ওয়ার্ডে আমার সন্তান জন্ম নেয়।

জন্মের পর পরই বাচ্চার শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখে দিচ্ছিলো । এই কারণে এখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত এনআইসিইউ (নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) সাপোর্টে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে হাসপাতালে নিজস্ব এনআইসিইউ-তে কোনো সিট খালি ছিলনা। একজন ডক্টর আমার বাচ্চাকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। পরে হাসপাতালের এক ওয়ার্ড বয়ের মাধ্যমে আমি আমার বাচ্চাকে ভোর আনুমানিক ৫ টার দিকে চানখারপুলের ‘রয়েল কেয়ার হাসপাতাল’ নামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাই।

ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা মো. রাব্বানী অভিযোগ করে বলেন, আমি আমার ভাতিজা রেজাউলের সাথে হাসাপতালের কিছু কাগজপত্র ঠিক করতে গিয়েছিলাম । হঠাৎ সবার চিৎকার শুনে আমি আর আমার ভাতিজা বাচ্চার কাছে গিয়ে দেখি আমার বাচ্চা যে মেশিনের মধ্যে ছিল সেটি দাও দাও করে জ্বলছে এবং আমার বাচ্চার শরীরে আগুন লেগে গেছে। আমরা ওখানে গিয়ে ওই হাসপাতালে কোন স্টাফ কে পাইনি।

সবাই ভয়ে পালিয়ে গেছিল আগেই। পরবর্তীতে আমার ভাতিজা কে নিয়ে আমি আমার বাচ্চাকে উদ্ধার করে অনেক চেষ্টার পরে ওই হাসপাতালে স্টাফদের নিয়ে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসি। তারা শুধু নিজেদের দায় আনার জন্য আমাদের সাথে এসেছিল। সেখানকার চিকিৎসকরা প্রাথমিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে পুনরায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রেফার্ড করেন।

কিন্তু ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসলেও পরবর্তীতে ঢামেকের ডাক্তাররা আবার আমাদের “রয়েল কেয়ার” হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে ওই হাসপাতালে আমার বাচ্চাকে নিয়ে গেলে এই ঘটনার বিষয়টি জানতে চাইলে ওখানকার স্টাফরা আমাকে মারধর করে। বর্তমানে আমার সন্তান ঢামেক হাসপাতালের ২১১ নম্বর ওয়ার্ডের এনআইসিইউ-তে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। রয়েল কেয়ার হাসপাতালের এনআইসিইউর মেশিনের ত্রুটির কারণে ইনকিউবেটরটি অতিরিক্ত উত্তপ্ত (ওভারহিট) হয়ে পড়ে।

এতে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থাতেই আগুন লেগে ৫ ঘণ্টা বয়সী আমার ফুটফুটে বাচ্চার মাথা, পিঠ ও পায়ের কিছু অংশ পুড়ে ঝলসে যায়। মোঃ রাব্বানী কান্নাজড়িত কণ্ঠে আরো অভিযোগ করে বলেন, “সরকারি হাসপাতালে সিট না পেয়ে বাচ্চাকে বাঁচানোর জন্য প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে গেলাম। কিন্তু ওদের অবহেলায় আমার ৫ ঘণ্টার বাচ্চার শরীরটা পুইড়া গেল। আমি এই কসাইদের বিচার চাই।

” আপনারাই ওদের বিচার করুন। এমনকি ঐ হাসপাতালের স্টাফরা অন্যায়ভাবে আমাকে মারধর করে। আমি এর সুষ্ঠ বিচার চাই। এদিকে ঢামেক হাসপাতালের ২১১ নম্বর ওয়ার্ডে থাকা দায়িত্বরত ওয়ার্ড বয়দের কাছে ঘটনার বিষয়টি জানতে চাইলে তারা বলেন, আমাদের এখানে সিট না থাকায় রোগীরা বাধ্য হয়ে অন্য হাসপাতালে যায়। আর আজকের এই ঘটনার সমস্ত দায়ভার ওই রয়েল কেয়ার হাসপাতালর।

কারণ ঘটনাটা ওই হাসপাতালেই ঘটেছে। যদি আমাদের ঢামেক হাসপাতালে এই ঘটনাটি ঘটতো তাহলে আমরা দোষী হতাম। যেহেতু আমাদের হাসপাতালে ঘটনাটা ঘটেনি সেখানে আমাদের কোনো দোষ নেই। এই বিষয়ে রয়েল কেয়ার হাসপাতালের ইনচার্জ মোঃ আব্দুর রাজ্জাকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ভোর পাঁচটার দিকে ঐ বাচ্চাকে আমাদের হাসপাতালে আনা হয় এবং তাকে ভর্তি করার আগেই (এনআইসিইউ) বেডে রাখা হয়।

তার ভর্তির প্রক্রিয়া চলছিল। সেইসময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। আমরা ধারণা করছি শর্ট সার্কিট থেকেই এই দুর্ঘটনার ঘটেছে। এটি নিছক একটি দুর্ঘটনা। এতে আমাদের কোন গাফিলতি ছিলনা। আর আমাদের বিরুদ্ধে মারধরের যে বিষয়টি সেটি সম্পূর্ণ ভুল। মারধরের বিষয়টি ঘটছে রোগীদের আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে । কারণ সেখানে ভুক্তভোগী বাচ্চা ছাড়াও আরো অন্যান্য বাচ্চাও ছিল।

তাদের স্বজনদের সাথেই কোন বিষয় নিয়ে মারামারি হয়। এই বিষয়ে রয়েল কেয়ার হাসপাতালের রিসিপশনিস্ট সানজিদা বলেন, আজকে ভোরের দিকে আমাদের হাসপাতালে একটা বেবি আসছিল। এনআইসিইউতে। আসার পরে তাকে তখনো ভর্তিও দেয়া হয় নাই, ভর্তির প্রক্রিয়া চলার সময় শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের ঘটনাটা ঘটে। এটা শুধু দূর্ঘটনাই বলতে পারি। এই ঘটনার পরে আমরাই বাচ্চার স্বজনদের সাথে সাথে আমাদের স্টাফদের আমরা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠাইছি।

আমাদের তো সিসিটিভি ফুটেজ আছে আপনারা চাইলে চেক করতে পারেন। এই বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ তাজকিয়া হক বলেন, বর্তমানে বাচ্চাটির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তার শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। এই বিষয়টি বাচ্চাটির স্বজনদের বারবার জানানো হলেও তারা কর্ণপাত করছেন না। তারা আমাদেরকে চিকিৎসায় কোন সহযোগিতা করছেন না।

এদিকে বাচ্চার অবস্থা আরো ধীরে ধীরে খারাপ হচ্ছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মোঃ হাবিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আমরা বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরেছি। বর্তমানে নবজাতকটি ঢামেকের ২১১ নম্বর ওয়ার্ডের (এনআইসিইউ) তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

১৭ বছর দেশের সঠিক ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে: এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী

রাজধানীর হাসপাতালে ইনকিউবেটরের অতিরিক্ত উত্তাপে নবজাতকের শরীর ঝলসে যাওয়ার অভিযোগ

Update Time : 09:03:09 pm, Saturday, 7 November 2026

রাজধানীর চাঁনখারপুলের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের গাফিলতি ও ইনকিউবেটরের অতিরিক্ত উত্তাপে (ওভারহিট) এক নবজাতক শিশুর শরীর ঝলসে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মাত্র ৫ ঘণ্টা বয়সী ওই শিশুটির মাথা, পিঠ এবং পায়ের আংশিক অংশ পুড়ে গেছে।

বর্তমানে শিশুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ২১১ নম্বর ওয়ার্ডের এনআইসিইউ-তে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। ভুক্তভোগী নবজাতকটি বগুড়া জেলার কাহালু থানার পলি বগুই গ্রামের বাসিন্দা মোঃ রাব্বানীর ছেলে। ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা মোঃ রাব্বানী বলেন, আজ শনিবার (০৭ নভেম্বর) ভোর আনুমানিক ৪ টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২১২ নম্বর ওয়ার্ডে আমার সন্তান জন্ম নেয়।

জন্মের পর পরই বাচ্চার শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখে দিচ্ছিলো । এই কারণে এখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত এনআইসিইউ (নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) সাপোর্টে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে হাসপাতালে নিজস্ব এনআইসিইউ-তে কোনো সিট খালি ছিলনা। একজন ডক্টর আমার বাচ্চাকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। পরে হাসপাতালের এক ওয়ার্ড বয়ের মাধ্যমে আমি আমার বাচ্চাকে ভোর আনুমানিক ৫ টার দিকে চানখারপুলের ‘রয়েল কেয়ার হাসপাতাল’ নামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাই।

ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা মো. রাব্বানী অভিযোগ করে বলেন, আমি আমার ভাতিজা রেজাউলের সাথে হাসাপতালের কিছু কাগজপত্র ঠিক করতে গিয়েছিলাম । হঠাৎ সবার চিৎকার শুনে আমি আর আমার ভাতিজা বাচ্চার কাছে গিয়ে দেখি আমার বাচ্চা যে মেশিনের মধ্যে ছিল সেটি দাও দাও করে জ্বলছে এবং আমার বাচ্চার শরীরে আগুন লেগে গেছে। আমরা ওখানে গিয়ে ওই হাসপাতালে কোন স্টাফ কে পাইনি।

সবাই ভয়ে পালিয়ে গেছিল আগেই। পরবর্তীতে আমার ভাতিজা কে নিয়ে আমি আমার বাচ্চাকে উদ্ধার করে অনেক চেষ্টার পরে ওই হাসপাতালে স্টাফদের নিয়ে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসি। তারা শুধু নিজেদের দায় আনার জন্য আমাদের সাথে এসেছিল। সেখানকার চিকিৎসকরা প্রাথমিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে পুনরায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রেফার্ড করেন।

কিন্তু ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসলেও পরবর্তীতে ঢামেকের ডাক্তাররা আবার আমাদের “রয়েল কেয়ার” হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে ওই হাসপাতালে আমার বাচ্চাকে নিয়ে গেলে এই ঘটনার বিষয়টি জানতে চাইলে ওখানকার স্টাফরা আমাকে মারধর করে। বর্তমানে আমার সন্তান ঢামেক হাসপাতালের ২১১ নম্বর ওয়ার্ডের এনআইসিইউ-তে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। রয়েল কেয়ার হাসপাতালের এনআইসিইউর মেশিনের ত্রুটির কারণে ইনকিউবেটরটি অতিরিক্ত উত্তপ্ত (ওভারহিট) হয়ে পড়ে।

এতে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থাতেই আগুন লেগে ৫ ঘণ্টা বয়সী আমার ফুটফুটে বাচ্চার মাথা, পিঠ ও পায়ের কিছু অংশ পুড়ে ঝলসে যায়। মোঃ রাব্বানী কান্নাজড়িত কণ্ঠে আরো অভিযোগ করে বলেন, “সরকারি হাসপাতালে সিট না পেয়ে বাচ্চাকে বাঁচানোর জন্য প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে গেলাম। কিন্তু ওদের অবহেলায় আমার ৫ ঘণ্টার বাচ্চার শরীরটা পুইড়া গেল। আমি এই কসাইদের বিচার চাই।

” আপনারাই ওদের বিচার করুন। এমনকি ঐ হাসপাতালের স্টাফরা অন্যায়ভাবে আমাকে মারধর করে। আমি এর সুষ্ঠ বিচার চাই। এদিকে ঢামেক হাসপাতালের ২১১ নম্বর ওয়ার্ডে থাকা দায়িত্বরত ওয়ার্ড বয়দের কাছে ঘটনার বিষয়টি জানতে চাইলে তারা বলেন, আমাদের এখানে সিট না থাকায় রোগীরা বাধ্য হয়ে অন্য হাসপাতালে যায়। আর আজকের এই ঘটনার সমস্ত দায়ভার ওই রয়েল কেয়ার হাসপাতালর।

কারণ ঘটনাটা ওই হাসপাতালেই ঘটেছে। যদি আমাদের ঢামেক হাসপাতালে এই ঘটনাটি ঘটতো তাহলে আমরা দোষী হতাম। যেহেতু আমাদের হাসপাতালে ঘটনাটা ঘটেনি সেখানে আমাদের কোনো দোষ নেই। এই বিষয়ে রয়েল কেয়ার হাসপাতালের ইনচার্জ মোঃ আব্দুর রাজ্জাকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ভোর পাঁচটার দিকে ঐ বাচ্চাকে আমাদের হাসপাতালে আনা হয় এবং তাকে ভর্তি করার আগেই (এনআইসিইউ) বেডে রাখা হয়।

তার ভর্তির প্রক্রিয়া চলছিল। সেইসময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। আমরা ধারণা করছি শর্ট সার্কিট থেকেই এই দুর্ঘটনার ঘটেছে। এটি নিছক একটি দুর্ঘটনা। এতে আমাদের কোন গাফিলতি ছিলনা। আর আমাদের বিরুদ্ধে মারধরের যে বিষয়টি সেটি সম্পূর্ণ ভুল। মারধরের বিষয়টি ঘটছে রোগীদের আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে । কারণ সেখানে ভুক্তভোগী বাচ্চা ছাড়াও আরো অন্যান্য বাচ্চাও ছিল।

তাদের স্বজনদের সাথেই কোন বিষয় নিয়ে মারামারি হয়। এই বিষয়ে রয়েল কেয়ার হাসপাতালের রিসিপশনিস্ট সানজিদা বলেন, আজকে ভোরের দিকে আমাদের হাসপাতালে একটা বেবি আসছিল। এনআইসিইউতে। আসার পরে তাকে তখনো ভর্তিও দেয়া হয় নাই, ভর্তির প্রক্রিয়া চলার সময় শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের ঘটনাটা ঘটে। এটা শুধু দূর্ঘটনাই বলতে পারি। এই ঘটনার পরে আমরাই বাচ্চার স্বজনদের সাথে সাথে আমাদের স্টাফদের আমরা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠাইছি।

আমাদের তো সিসিটিভি ফুটেজ আছে আপনারা চাইলে চেক করতে পারেন। এই বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ তাজকিয়া হক বলেন, বর্তমানে বাচ্চাটির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তার শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। এই বিষয়টি বাচ্চাটির স্বজনদের বারবার জানানো হলেও তারা কর্ণপাত করছেন না। তারা আমাদেরকে চিকিৎসায় কোন সহযোগিতা করছেন না।

এদিকে বাচ্চার অবস্থা আরো ধীরে ধীরে খারাপ হচ্ছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মোঃ হাবিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আমরা বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরেছি। বর্তমানে নবজাতকটি ঢামেকের ২১১ নম্বর ওয়ার্ডের (এনআইসিইউ) তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।