আজ বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
১৯ কার্তিক, ১৪৩৩ | ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩০°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ২%

তালতলীতে দেড় মাসেই পায়রার পেটে দেড় কোটির বেড়িবাঁধ, প্লাবিত হতে পারে ১৫টি গ্রাম

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:06:58 am, Wednesday, 4 November 2026
  • 8

তালতলীতে দেড় মাসেই পায়রার পেটে দেড় কোটির বেড়িবাঁধ, প্লাবিত হতে পারে ১৫টি গ্রাম

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বরগুনার তালতলীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অসাধু কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের অনিয়মের কারণে ভেস্তে গেছে সরকারি অর্থ। উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া-নলবুনিয়া এলাকায় পায়রা নদীর ভাঙন রোধে ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে বাস্তবায়িত জিও ব্যাগ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ মাত্র দেড় মাসের মাথায় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

হরিলুটের এই মহোৎসবের ফলে বর্তমানে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে ১৫টি গ্রামের মানুষের বসতভিটা ও ফসলি জমি। চরম আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন এলাকার লক্ষাধিক মানুষ। হরিলুট ও দায়সারা কাজের নির্মম চিত্র পাউবো সূত্র জানায়, নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া-নলবুনিয়া এলাকায় ৫টি প্যাকেজের আওতায় ৫৯০ মিটার বেড়িবাঁধ সংস্কার ও জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ পায় মেসার্স পপুলার কনস্ট্রাকশন, মেসার্স আর.এস কনস্ট্রাকশন, মেসার্স সোহেল এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স মনি ট্রেডার্স।

১ কোটি ৪৭ লাখ ৭৪ হাজার টাকার এই আত্মসাতের নাটক গত ২১ সেপ্টেম্বর শেষ হয়। কিন্তু কাজ শুরুর দিন থেকেই এলাকাবাসী নিম্নমানের কাজের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু দুর্নীতিবাজ চক্র জনগণের প্রতিবাদকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পকেট ভারি করেছে। নিয়মের তোয়াক্কা না করে জিও ব্যাগে পর্যাপ্ত বালু বা পাথরের পরিবর্তে নামমাত্র বালু ও মাটি ভরে ডাম্পিং করা হয়।

এখানেই শেষ নয়; ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে খোদ বেড়িবাঁধ সংলগ্ন নদীর তীর থেকেই মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণ করায় মাত্র দেড় মাসেই তা হুড়মুড় করে ধসে পড়েছে। সর্বস্ব হারানোর আতঙ্কে ১৫ গ্রামের মানুষ গত ২ নভেম্বর সরেজমিনে দেখা যায়, তড়িঘড়ি করে নামেমাত্র তৈরি করা ওই এলাকার প্রায় ৩০০ মিটার জিও ব্যাগ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় ২০০ মিটার অংশে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ফাটল।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. বাবুল হাওলাদার, মো. হাসান মিয়া ও মো. নুর-আলম মাতুব্বর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পাউবোর অসৎ কর্মকর্তাদের সাথে আঁতাত করে ঠিকাদাররা প্রতি বছরই এই হরিলুট চালায়। সরকারি টাকা পকেটে পুরে তারা আমাদের মরণের মুখে ঠেলে দিয়েছে। আজ যেকোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে পায়রার সর্বনাশা পানি লোকালয়ে ঢুকে তেঁতুলবাড়িয়া, বড় অঙ্কুজান, নলবুনিয়া ও আগাপাড়াসহ ১৫টি গ্রামের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি এবং মাছের ঘের চিরতরে গ্রাস করে নেবে।

ঠিকাদারদের দায় স্বীকার ও পাউবোর ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা নাব্য সংকট ও দুর্নীতির দায় এড়াতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ ব্যক্তিরা এখন নির্লজ্জ মিথ্যাচারের আশ্রয় নিচ্ছেন। মেসার্স সোহেল এন্টারপ্রাইজ ও মনি ট্রেডার্স গা ঢাকা দিলেও মেসার্স পপুলার কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী লিমন সব দায় নদীর মোহনার ওপর চাপিয়ে দায় এড়াতে চেয়েছেন।

তবে মেসার্স আর.এস. কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী রাসেল নামমাত্র দায় স্বীকার করে জানান, ‘বাঁধের একটি অংশে ধসের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে দায়সারা সংস্কারের প্রলোভন দেখিয়েছেন। এদিকে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বরাবরের মতোই দায় এড়াতে গিয়ে হাস্যকর অজুহাত দিয়েছেন।

তিনি দাবি করেন, নদীর তলদেশ থেকে ভাঙন শুরু হওয়ায় জিও ব্যাগে কাজ হচ্ছে না এবং টেকসই কাজের জন্য ডিপিপি পাঠানো হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, যদি স্থায়ী কোনো সমাধান বা প্রস্তুতি না-ই থাকে, তবে কিসের স্বার্থে তড়িঘড়ি করে ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা গচ্চা দেওয়া হলো? এলাকাবাসীর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি এই পরিকল্পনাহীন অপচয় এর সাথে জড়িত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

রাজশাহী রেঞ্জের নতুন ডিআইজি মীর আশরাফ আলী

তালতলীতে দেড় মাসেই পায়রার পেটে দেড় কোটির বেড়িবাঁধ, প্লাবিত হতে পারে ১৫টি গ্রাম

Update Time : 11:06:58 am, Wednesday, 4 November 2026

বরগুনার তালতলীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অসাধু কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের অনিয়মের কারণে ভেস্তে গেছে সরকারি অর্থ। উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া-নলবুনিয়া এলাকায় পায়রা নদীর ভাঙন রোধে ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে বাস্তবায়িত জিও ব্যাগ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ মাত্র দেড় মাসের মাথায় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

হরিলুটের এই মহোৎসবের ফলে বর্তমানে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে ১৫টি গ্রামের মানুষের বসতভিটা ও ফসলি জমি। চরম আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন এলাকার লক্ষাধিক মানুষ। হরিলুট ও দায়সারা কাজের নির্মম চিত্র পাউবো সূত্র জানায়, নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া-নলবুনিয়া এলাকায় ৫টি প্যাকেজের আওতায় ৫৯০ মিটার বেড়িবাঁধ সংস্কার ও জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ পায় মেসার্স পপুলার কনস্ট্রাকশন, মেসার্স আর.এস কনস্ট্রাকশন, মেসার্স সোহেল এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স মনি ট্রেডার্স।

১ কোটি ৪৭ লাখ ৭৪ হাজার টাকার এই আত্মসাতের নাটক গত ২১ সেপ্টেম্বর শেষ হয়। কিন্তু কাজ শুরুর দিন থেকেই এলাকাবাসী নিম্নমানের কাজের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু দুর্নীতিবাজ চক্র জনগণের প্রতিবাদকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পকেট ভারি করেছে। নিয়মের তোয়াক্কা না করে জিও ব্যাগে পর্যাপ্ত বালু বা পাথরের পরিবর্তে নামমাত্র বালু ও মাটি ভরে ডাম্পিং করা হয়।

এখানেই শেষ নয়; ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে খোদ বেড়িবাঁধ সংলগ্ন নদীর তীর থেকেই মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণ করায় মাত্র দেড় মাসেই তা হুড়মুড় করে ধসে পড়েছে। সর্বস্ব হারানোর আতঙ্কে ১৫ গ্রামের মানুষ গত ২ নভেম্বর সরেজমিনে দেখা যায়, তড়িঘড়ি করে নামেমাত্র তৈরি করা ওই এলাকার প্রায় ৩০০ মিটার জিও ব্যাগ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় ২০০ মিটার অংশে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ফাটল।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. বাবুল হাওলাদার, মো. হাসান মিয়া ও মো. নুর-আলম মাতুব্বর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পাউবোর অসৎ কর্মকর্তাদের সাথে আঁতাত করে ঠিকাদাররা প্রতি বছরই এই হরিলুট চালায়। সরকারি টাকা পকেটে পুরে তারা আমাদের মরণের মুখে ঠেলে দিয়েছে। আজ যেকোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে পায়রার সর্বনাশা পানি লোকালয়ে ঢুকে তেঁতুলবাড়িয়া, বড় অঙ্কুজান, নলবুনিয়া ও আগাপাড়াসহ ১৫টি গ্রামের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি এবং মাছের ঘের চিরতরে গ্রাস করে নেবে।

ঠিকাদারদের দায় স্বীকার ও পাউবোর ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা নাব্য সংকট ও দুর্নীতির দায় এড়াতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ ব্যক্তিরা এখন নির্লজ্জ মিথ্যাচারের আশ্রয় নিচ্ছেন। মেসার্স সোহেল এন্টারপ্রাইজ ও মনি ট্রেডার্স গা ঢাকা দিলেও মেসার্স পপুলার কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী লিমন সব দায় নদীর মোহনার ওপর চাপিয়ে দায় এড়াতে চেয়েছেন।

তবে মেসার্স আর.এস. কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী রাসেল নামমাত্র দায় স্বীকার করে জানান, ‘বাঁধের একটি অংশে ধসের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে দায়সারা সংস্কারের প্রলোভন দেখিয়েছেন। এদিকে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বরাবরের মতোই দায় এড়াতে গিয়ে হাস্যকর অজুহাত দিয়েছেন।

তিনি দাবি করেন, নদীর তলদেশ থেকে ভাঙন শুরু হওয়ায় জিও ব্যাগে কাজ হচ্ছে না এবং টেকসই কাজের জন্য ডিপিপি পাঠানো হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, যদি স্থায়ী কোনো সমাধান বা প্রস্তুতি না-ই থাকে, তবে কিসের স্বার্থে তড়িঘড়ি করে ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা গচ্চা দেওয়া হলো? এলাকাবাসীর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি এই পরিকল্পনাহীন অপচয় এর সাথে জড়িত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।