আবুধাবি টেস্টের প্রথম দিনটা অম্লমধুর কাটল বাংলাদেশের। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে দিনের শুরুটা রাঙালেন দুই ওপেনার। তাদের ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ দেখছিল বড় রানের স্বপ্ন আর আফগানিস্তানের চোখ তখন ছানাবড়া হওয়ার অবস্থা।
তবে ব্যটিংয়ের সেই ধারা বাংলাদেশ অব্যাহত রাখতে পারেনি। ভালো খেলতে খেলতে দ্বিতীয় সেশনে পথ হারায় টাইগাররা। দিন শেষে তাই বাংলাদেশই এখন কিছুটা চাপে রয়েছে, যা হয়তো কল্পনাও করতে পারেনি আফগানরা। আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে একমাত্র টেস্টের প্রথম দিন শেষে ৮৪ ওভার ব্যাট করে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩১৭ রান তুলেছে বাংলাদেশ।
৩৩ বলে ১১ রানে অপরাজিত আছেন নাঈম হাসান আর ১০ বলে ৪ রানে তাইজুল ইসলাম। আফগানদের বিপক্ষে এই ম্যাচ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ নয়, তাই এটার ফলাফল হয়তো অতটা গুরুত্ব বহন করবে না। তবে প্রথম দিনে বাংলাদেশের ব্যাটারদের মানসিকতা নিয়ে একটা প্রশ্ন তো থাকবেই। আফগানিস্তানের মতো দলের বিপক্ষে তিনজন ব্যাটার হাফ সেঞ্চুরি পেলেও সেটিকে আরও বড় করে সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে পারেননি।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশকে উড়ন্ত সূচনা এনে দিয়েছিলেন দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম আর সাদমান ইসলাম। আফগান বোলারদের শাসন করে উদ্বোধনী জুটিতে ১২৪ রান তুলে ফেলেন এই দুজন। প্রায় এক বছর পর উদ্বোধনী জুটিতে শতক ছাড়ানো ইনিংস পায় বাংলাদেশ। সাদমান কিছুটা ধীরগতির ব্যাটিং করলেও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে হাফ সেঞ্চুরি করে সেঞ্চুরির দিকে ছুটছিলেন তামিম।
তবে এর আগেই তাকে থামান ইসমাত আলম। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ৭১ বলে ৮৩ রান করেন তামিম। তামিম ফিরলেও আরও অনেকটা সময় উইকেটে কাটান সাদমান। স্বভাবসুলভ ব্যাটিংয়ে তিনিও তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি। সুযোগ ছিল সেটিকে সেঞ্চুরিতে রূপান্তরের। তবে সেটি করতে পারেননি এই ওপেনারও। আফগান পেসার মোহাম্মদ সেলিমের বাউন্সারে পুলে করতে গিয়ে ধরা পড়েন তিনি।
ফেরার আগে ১১১ বলে ৬৭ রান করেন সাদমান। দুই ওপেনার হাফ সেঞ্চুরি করে ফেরার পর জুটি গড়েন ৩ নম্বরে নামা মুমিনুল হক আর ৪ নম্বরে নামা অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে খুব বেশি বড় হয়নি তাদের জুটি। উইকেটে থিতু হয়ে উইকেট দিয়ে আসেন মুমিনুল। ৭০ বলে ৩৯ রান করে আউট হন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। ভালো খেলতে খেলতেই হঠাৎ ব্যাটিং ধস বাংলাদেশকে এলোমেলো করে দেয়।
৪ রান তুলতেই তিন অভিজ্ঞ ব্যাটারকে হারায় বাংলাদেশ। মুমিনুল ফিরলে ব্যাটিংয়ে এসেছিলেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। তার কাঁধে তখন বড় দায়িত্ব। কিন্তু মুশফিক সেই দায়িত্বের ভার নিতে পারেননি। ফিরেছেন রানের খাতা খোলার আগেই। ৭ বল খেলে কোনো রানের দেখা পাননি তিনি। এরপর একই পথে হেঁটেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও। বেশ খানিকটা সময় ব্যাটিং করে উইকেটে থিতু হয়ে গিয়েছিলেন তিনি।
দলের বিপর্যয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল শান্তর। কিন্তু তিনিও ফিরেছেন হতাশ করে। ৪২ বলে ২৯ রান করে আউট হন টাইগার কাপ্তান। চা-বিরতির আগে ২২৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে দলকে কিছুটা উদ্ধার করেন লিটন দাস আর মেহেদী হাসান মিরাজ। ষষ্ঠ উইকেটে ৫০ পেরোনো জুটি গড়ে ফেলেছিলেন তারা। ১৩০ বলে ৬২ রানের সেই জুটি ভাঙে মিরাজ ফিরলে।
৬৭ বলে ২৪ রান করে বোল্ড হয়ে যান মিরাজ। এরপর আর দিনের বাকি সময়ে কোনো বড় জুটি গড়তে পারেনি বাংলাদেশ। এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যাওয়া লিটন হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছিলেন। কিন্তু তিনিও সেটিকে সেঞ্চুরিতে রূপান্তর করতে পারেননি। ৮৯ বলে ৫৩ রান করে আউট হন লিটন। শঙ্কা তৈরি হলেও আফগানিস্তানকে আর প্রথম দিনে ব্যাটিংয়ে নামতে দেননি নাঈম-তাইজুলের ২৪ বলে ১২ রানের নবম উইকেট জুটি।
শেষ কয়েকটি ওভার উইকেটে কাটিয়ে দেন তারা। এখন আগামীকাল সকালে কত সময় তারা উইকেটে থাকতে পারেন, সেটিই দেখার অপেক্ষা।






















